Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:২৩ অপরাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
এ পর্যন্ত ১১টি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ  আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গারা, প্রত্যাবাসন স্থগিত  ক্ষমা চাইতে ফখরুলকে ছাত্রলীগের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলো ছাত্রলীগ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের যড়যন্ত্র সফল হবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০ ডিসেম্বরই নির্বাচন, পেছানোর সুযোগ নেই : নির্বাচন কমিশন সচিব প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী রবিবার বোনের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ভালোবাসা বিএনপিকে রাজনৈতিক দল বলা যায় না, তারা একটি সন্ত্রাসী সংগঠন : সজীব ওয়াজেদ  নির্বাচনী সহিংসতা ঠেকাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে পুলিশ | প্রজন্মকণ্ঠ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে আদেশ আগামী রোববার

জয়ের প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হোক দল


ইকরামউজ্জমান

আপডেট সময়: ২১ অক্টোবর ২০১৮ ৭:৪৫ পিএম:
জয়ের প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত হোক দল

উপ-সম্পাদকীয় : অতীতের পরিসংখ্যান, ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে থাকা, বর্তমান ক্রিকেট প্রেক্ষাপটে কাগজে-কলমে এবং মাঠে দলগত শক্তির বাস্তবতায় কম শক্তিশালী দল জিম্বাবুয়ে আজ ওয়ানডে তিন ম্যাচের সিরিজে দিবা-রাত্রির প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে। দুই দেশের মধ্যে আজকের খেলাটি ৭০তম ওয়ানডে। এর আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ৬৯টি ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৪১ আর সফরকারী দল ২৮টি ম্যাচে। বাংলাদেশ সেই ১৯৮৬ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত খেলেছে ৩৪৯টি ওয়ানডে, জিতেছে ১১৩টিতে। এর মধ্যে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দেশ ও বিদেশের মাটিতে বিজয় ৪১টি। অর্থাৎ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয়ের তালিকায় জিম্বাবুয়ে আছে এক নম্বরে। জিম্বাবুয়ে-বাংলাদেশ এ পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলেছে ১৫টি। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৯টি আর জিম্বাবুয়ে ৬টি সিরিজে।

২০০৬ সালের ৮ ডিসেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়ে। এই স্মরণীয় ওয়ানডে ম্যাচে জিতেছিল বাংলাদেশ। এর আগে ২০০৫ সালে চট্টগ্রামে প্রথম টেস্ট ম্যাচ জয়ের স্বাদও পেয়েছে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। ২০০৬ সালে খুলনায় প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচও জিতেছে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়েকে পরাজিত করে।

অতীতে মাঠে উজ্জ্বল ভূমিকা, পরিসংখ্যানের গুরুত্ব সবাই স্বীকার করেন এর জন্য যে এগুলো অনুপ্রেরণাদায়ক এবং লড়াইয়ে নামার আগে আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তিকে চাঙ্গা করতে সাহায্য করে। তবে দিনের খেলাটাই আসল। যেটি নতুন করে খেলতে হয় উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলা করে। এ ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে সামর্থ্যের সেরাটা ঢেলে দিতে পারলে অনেক কিছুই সম্ভব! কোনো প্রতিপক্ষকেই সহজভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে কুলীন ক্রিকেটে স্থান পাওয়া নবাগত আফগানিস্তান কি নাড়াটাই না দিয়েছে! এখানেই জীবনধর্মী খেলার আসল আকর্ষণ ও মাজেজা! যা আগে আঁচ করা যায় না।

আট মাস পর আবারও ঢাকার মিরপুর মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের উত্তেজনা ও আনন্দ গ্রহণের সুযোগ মিলবে। দেশের খেলায় সব পরিস্থিতিতে উজ্জীবিত এবং অনুপ্রেরণাদানকারী অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় দল খেলতে নামবে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে। এ ক্ষেত্রে দৃঢ় মানসিকতা আর নির্ভার হয়ে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই। সুযোগ আছে দেশ ও নিজকে তুলে ধরার।

সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল চোটে থাকায় দলে নেই, এটা দলের জন্য অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। এই দুই সেরা খেলোয়াড়ের রিপ্লেসমেন্ট বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভব নয়। কিন্তু ক্রিকেট জীবন তো থমকে থাকবে না। যাঁরা সুযোগ পেয়েছেন এবং যাঁরা দলে আছেন তাঁদের সবার দায়িত্ব শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করা। তা ছাড়া এটি তো একটি সুযোগ নতুন খেলোয়াড়দের প্রতিভা ও সামর্থ্যকে তুলে ধরার। সাকিব-তামিম ছাড়াও তো জাতীয় দল আগে জিতেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই দুজনের অনুপস্থিতিতে বোঝা যাবে দলগতভাবে দলের গভীরতা কতটুকু।

ক্রিকেটের লড়াইয়ে আত্মবিশ্বাস, মনের  জোর, সাহস, স্থির সংকল্প, কৌশল, দক্ষতা, জয়ের ক্ষুধা, অপ্রতিরোধ্য আকাঙ্ক্ষা আর দায়বদ্ধতা অনেক বিস্ময়ের জন্ম দিতে পারে। তামিম ও সাকিব ইনজুরিতে পড়ায় এশিয়া কাপে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেননি। তার পরও এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলেছে বাংলাদেশ। খেলোয়াড়রা মন থেকে সাফল্য চেয়েছেন, জয়ের নেশায় ছুটেছেন। মাঠে নেমেছেন দেশের কথা ভেবে। ভেবেছেন দেশকে কিভাবে গর্বিত করা যায়। দেশের মানুষের মুখে হাসি ফোটানো যায়। ইচ্ছাশক্তি, শৃঙ্খলা আর দায়িত্বশীল আচরণ মাঠে বড় পার্থক্য গড়ে দেয় সব সময়ই।

এশিয়া কাপে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে। চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, সেটা অন্য বিষয়। সামর্থ্য আছে বলেই কিন্তু সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপে এবং এর আগেও ‘ক্লোজ’ ম্যাচ খেলেছে। শেষ পর্যায়ে এসে কিভাবে সফলতার স্বাদ পেতে হবে এটা অভ্যাস ও শেখার বিষয়। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তো ‘রিঅ্যাক্ট’ করা শিখতে হবে। আর এই শেখার ক্ষেত্রে মনোবিদের সাহায্য প্রয়োজন। ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মনস্তত্ত্ব, আত্মবিশ্বাস, মাইন্ডসেট ও চারিত্রিক দৃঢ়তা।

কয়েক বছর ধরে ওয়ানডে ভালো খেলছে বাংলাদেশ। সমীহ জাগানো দল। বর্তমান বাংলাদেশ দলটি উজ্জীবিত। চলতি বছরের শুরু থেকে দেশে ও দেশের বাইরে ভালো ক্রিকেট খেলেছে নিশ্চিত করেছে বিজয়ও। জয় সব সময় আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। একটি দলের শক্তির দিক হলো স্বাভাবিকতা, আত্মসমালোচনা এবং যাবতীয় বিরুদ্ধ স্রোত উতরে যাওয়ার ক্ষমতা। মাঠে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গেম প্ল্যানের সঠিক বাস্তবায়ন। ভালো খেলার পর খারাপ দিনও আসে। তবে মানসিকতা আর শরীরী ভাষার নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি খেলোয়াড়দের হাতে। দলগতভাবে সাফল্য অর্জন করলে এর স্বাদ সবচেয়ে ভালো অনুভব করা যায়। ক্রিকেট মাঠ তো সব সময়ই চ্যালেঞ্জে ভরপুর। একটি দেশের সঙ্গে আরেকটি দেশের খেলা কখনো স্রেফ একটি খেলা হতে পারে না। খেলা তো মাঠের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দুটি দেশের মান-মর্যাদা এবং গৌরব। মানুষের প্রত্যাশা আর আকুতি। খেলোয়াড়রা তো দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আগামী বছর ৩০ মে থেকে শুরু হয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের টিম ম্যানেজমেন্টের সব চিন্তাই এখন আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে। এ ক্ষেত্রে জিম্বাবুয়ের চলতি সফরকে দেখা হচ্ছে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে। আগামী মাসে (নভেম্বরে) বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল। আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ খেলতে যাবে নিউজিল্যান্ডে। সেখান থেকে ফিরে এসে এর পর যাবে ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপে খেলতে। দেশে ও দেশের বাইরে খেলাগুলোর মাধ্যমে টিম ম্যানেজমেন্ট চাইছে টিম কম্বিনেশন সেট, খেলোয়াড়দের ফর্ম ধরে রাখা, তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট রাখতে। এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের বিশ্বকাপে প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। এবারের বিশ্বকাপ অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চলবে। প্রতিটি দেশকে অনেকগুলো খেলা খেলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘ফিটনেস’ ধরে রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

সাকিব ও তামিমকে বাইরে রেখে কয়েক বছরের মধ্যে নির্বাচকরা কোনো স্কোয়াড তৈরি করেননি। এবার করতে হয়েছে। এটি নতুন অভিজ্ঞতা এবং চ্যালেঞ্জ। অনেক চিন্তাভাবনা এবং ২০১৯ সালের বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন নির্বাচকরা। এশিয়া কাপের লম্বা স্কোয়াড থেকে নন-পারফর্মার হিসেবে বাদ পড়েছেন মমিনুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন ও সৌম্য সরকার। দলে একমাত্র নতুন মুখ ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত রানের মধ্যে থাকা ৩০ বছর বয়স্ক টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ফজলে মাহমুদ রাব্বী। রাব্বী বাঁহাতি স্পিনারও। ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়াও ‘এ’ দলের হয়ে ভালো ব্যাট করেছেন, নির্ভরতার পরিচয় দিয়েছেন। ফিরিয়ে আনা হয়েছে পেস বোলার অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিনকে। সাইফউদ্দিন ভালো ব্যাট করেন। লিটন দাস ও ইমরুল দলের ইনিংস উদ্বোধন করবেন। রাব্বী সুযোগ পেলে ওপরের দিকেই ব্যাট করবেন বলে মনে হচ্ছে। যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো পার্টনারশিপ গড়ে খেলা। দুটি ভালো পার্টনারশিপ দলকে ভালো অবস্থানে দাঁড় করাতে পারে। উইকেট কেমন হবে? উইকেটের আচরণের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করছে! সাকিবের অনুপস্থিতিতে মেহেদি মিরাজকে অনেক বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। লেগ স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু তাঁর সঙ্গে হয়তো থাকবেন। সব কিছু নির্ভর করছে টিম কম্বিনেশনের ওপর। পেস আক্রমণে মাশরাফি, মুস্তাফিজ ও রুবেল। মুস্তাফিজ ভালো ফর্মে আছেন। সাইফউদ্দিন শুধু পেসার নন ভালো অলরাউন্ডারও। এটা তাঁর প্লাস পয়েন্ট।

জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশে আসার আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজে করুণভাবে হেরেছে। এর আগে জুলাইয়ে পাকিস্তানের কাছে হোয়াইটওয়াশ হয়েছে ৫-০ ব্যবধানে। ২০১৯ সালের বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত কোয়ালিফাই করতে পারেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরেছে ৪-১ এ। বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ছিল জিম্বাবুয়ে দল। আইসিসি এগিয়ে আসায় রক্ষা হয়েছে। অনেকেই দলের বাইরে ছিলেন স্বেচ্ছায়। কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। এদের মধ্যে আছেন ব্রেন্ডন টেলর, আরডিন, উইলিয়ামস। ক্রেমার চোটে পড়েছেন, তাই দলে নেই। দলের অধিনায়ক হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। এই ওপেনার তাঁর নেতৃত্ব ফিরে পেয়েছেন। দলে ফিরে এসেছেন অলরাউন্ডার সালোমান মায়ার, পেসার কাইল জারভিস। জিম্বাবুয়ে দলকে কন্ডিশন নিয়ে তেমন ভাবতে হচ্ছে না, দলের অনেক খেলোয়াড় এর আগে বাংলাদেশে খেলে অভ্যস্ত। দলের কোচ ভারতের লালচান রাজপুত মনে করেন জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করে মাঠ ছাড়বে না।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top