Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
ড. কামাল হোসেনের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় মামলা সারা দেশে ব্যাপক শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় বিজয় দিবস উদযাপন বিএনপি-ঐক্যফ্রন্টকে ভোট না দেয়ার আহ্বান খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে সংগ্রাম চলছে, চলবে : ফখরুল  ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী বিজয় দিবসে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা গণমানুষের শেখ মুজিব, ইতিহাসের মহানায়ক বিজয় দিবসের বীর শ্রেষ্ঠরা বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিন, মহান বিজয় দিবস আজ নির্বাচনে নিরাপত্তার ছক চুড়ান্ত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী

মানুষ মানুষের জন্যেই : এই প্রবাদের মুখো মুখি হয়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম


আলমগীর হোসেন 

আপডেট সময়: ২১ অক্টোবর ২০১৮ ৮:০৬ পিএম:
মানুষ মানুষের জন্যেই : এই প্রবাদের মুখো মুখি হয়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম

ফেসবুক স্ট্যাটাস : এ কথাটি হয়তো আমরা অনেকেই জানি।কিন্তু বাস্তবে হয়তো আমরা অনেকেই দেখেছি আবার অনেকে শুনেছি। এই প্রবাদের মুখো মুখি হয়ে অনেক কিছু শিখতে পারলাম।গত ১৯/১০/২০১৮ শুক্রবার সকাল ৭ ঘটিকার সময় রোকেয়া নামের ৮বছরের শিশু বাচ্চা, বাবা মোঃ রব্বানী,  গ্রাম : নিকলাপাড়া, চর গাবসারা, ভুয়াপুর, টাংগাইল। 
 
অতি দরিদ্র এক কর্ম জীবি লোক, বাচ্চার চিকিৎসা ব্যায় করতে করতে প্রায় নিঃস হওয়ার পথে। অনেকের কথা মত সিরাজগঞ্জ এনায়েত পুর খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষা করার পর কোন চিকিৎসা না দিয়ে বাচ্চাকে রেফার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজে।কিন্তু বাচ্চার বাবা দরিদ্র হওয়ার করনে ঢাকা নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করে।

এক সময় আমার সাথে যোগাযোগ করে, আমি টাংগাইল মেডিকেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লিনিকে যোগাযোগ করি কিন্তু কেউ এবাচ্চার চিকিৎসা করতে রাজি না হওয়াই এক সময় সবাই ভেঙে পরে।পকেটে টাকা নেই সাথে লোক নেই কিভাবে ঢাকা নেব।মাথায় কাজ করছে না।সব কিছু অন্ধকার হয়ে আসছিল।মেয়ের বাবা ভেঙে পরছিল কি করবে।এক পর্যায় কিছু টাকা হাওলাত করে শুক্রবারের দিন সকাল ৯ঘটিকার সময় ঢাকার পথে রওনা হলাম আমি সহ চারজন।

দুপুর দুইটার মধ্যে পৌঁছে গেলাম ঢাকা মেডিকেল কলেজে।ইমার্জেন্সি বিভাগে নিয়ে অনেক দৌড়া দৌড়ি করে ভর্তি করলাম ২০৫ নং রুমে শিশু বিভাগে।ডাক্তার রুগি দেখে অনেক হতাশা পোষন করে আমাদের সবাইকে দোষি সাভ্বস্ত করে অনেক কথা বললেন।সব কথায় মাথা নিচু করে শুনে বিনয়ের সাথে চিকিৎসা করতে অনুরোধ করি।সব কিছু শেষ করে শুরু হলো চিকিৎসা। রাত ১০টা সময় রিপোর্ট আসলো রিপোর্ট দেখে ডাক্তারের চোখ মুখ মলিন হয়ে গেল।আমাকে ডেকে নিয়ে বলল দ্রুত অপারেসন করতে হবে।আপনারা রক্তে ব্যবস্তা করেন।রাত তখন ১১টা।চলে গেলাম বাচ্চার বাবা মা খালা এবং আমি সহ সবার রক্ত পরিক্ষা করতে কিন্তু কারো সাথে মিলছে না।এদিকে বাচ্চার অবস্থা আরো খারাবের দিকে যাচ্ছে। কি করি সব কিছু অন্ধকার লাগছে।সারা দিন না খাওয়া।চোখের সামনে রক্তের 

অভাবে একটি তরতাজা প্রান চলে যাবে মেনে নিতে পারছি না। ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্লাড ব্যাংকে যোগাযোগ করছি এ নেগেটিভ রক্ত কোথাও নেই। বাচ্চা রক্তের গ্রুপ এ নেগেটিভ। ফোনে কথা বলা অবস্থায় আমাদের হতাসা দেখে এক ভদ্র লোক এগিয়ে আসলেন এবং বললেন কি সমস্যা।এ অবস্থায় তাকে বলতেও ভালো লাগছিলো না।তারপরেও বিপদের কথা বললাম।লোকটি সব কথা শুনে বললেন চিন্তা করবেন না আল্লাহ পাক ব্যবস্থা করে দিবেন এ বলেই চলে গেলেন।এদিকে আমি সহ সবাই হতাস হয়ে গেলাম কি করব।রাত্রী ১২টা বেজে গেল কিছুই করতে পারছি না।হতাস হয়ে আবার ডাক্তারের কাছে আসার পথে ঔ ভদ্র লোকের সাথে আবার দেখা। বললেন জোগাড় করতে পারলেন কি রক্ত বললাম না হয় নি।তখন সে বলল আপনার রুগি কোথায় আমি দেখব।আমি তখন সাথে করে নিয়ে আসলাম। 

বাচ্চাকে দেখে লোকটি বলল এই বাচ্চার অপারেসন করতে যত রক্ত লাগে আমি দেব।ওনার কথা শুনে আমি যেন কেমন হয়ে গেলাম,ওনাকে আমি কি বলব বুঝতে পারছিনা।আমার তখন মন হলো আল্লাহ পাক এই বাচ্চার জন্য ফেরেশতা পাঠিয়ে দিছেন।তখন আমি বললাম আমি আপনাকে চিনিনা জানি না কিভাবে আপনার রক্ত নেব।ততক্ষণে পরিচয় নিলাম, নাম হায়দার আলী বাড়ী ফরিদপুর।সে তার বাবাকে নিয়ে হাসপাাতালে ভর্তি হয়েছে বাবা ব্রেন টিউমার অপারেন ২১/১০/২০১৮ রোজ রবিবার।তার বাবার ২ ব্যাগ রক্ত লাগবে কিন্তু কারো সাথে মিলছে না।অনেক কষ্ট করে তারা রক্ত জোগার করছেন।সেই অনুভুতি থেকেই আমি রক্ত দিতে রাজি হলাম।চিন্তা একটু কুমলো।

সবাইকে বলে রাত ১টার সময় আমি চলে গেলাম এক ভাগ্নের বাসায়।রাতে ঘুমানোর চেষ্টা করলাম ঘুম হলো না।সকাল ৭টার সময় চলে আসলাম হাসপাতালে এসেই দেখি অপারেশনে জন্য ডাক্তারা প্রস্ততি নিচ্ছে। আমাকে বলা হলো রক্ত নিয়ে আসেন।মেয়ের বাবাকে পাঠাইলাম ঔষুধ আনতে আমি চলে গেলাম ঔ ভদ্র লোককে নিয়ে রক্ত আনতে।হাসি মুখে রক্ত দেওয়ার জন্য ছিটে সুয়ে পড়লেন।শুরু হলো রক্ত দেওয়া। রক্ত পরিক্ষা করে নিয়ে আসলাম অপারেশন থিয়েটারে।সকাল ৯টা থেকে শুরু হলো অপারেসন চললো একটা বিকাল ৩টা পর্যন্ত। 

অপারেসন চলা কালীন ডাক্তার আমাকে ভিতরে ডাকদিয়ে নিয়ে গেলেন। আমি দেখে এক পর্যায় মাথা গুরে পরে যাবার মত হয়ে গেলাম। ডাক্তার বললেন এই অবস্থা রুগি ফিরতেও পারে নাও ফিরতে পারে,ভীতরে আদা কেজীর ওপরে টিওমার হয়েছে।সেই টিউমার পেটের নারী ভুরী সব খেয়ে ফেলছে এবং পোচে গেছে।এগুলো সব কেটে ফেলে দিতে হবে।আল্লাহকে ডাকেন আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব।আমিও ডাক্তারকে বললাম আপনারা চালিয়ে যান আল্লাহ পাক হায়াতদিলে বাঁচাবে নয়লে নাই,এই বলে অপারেশন থিয়েটার থেকে চলে আসলাম।বেলা ৩টা সময় ডেকে বললেন অপারেশন শেষ বাচ্চা বেশ ভালো আছে।

তখন বাচ্চার বাবা মাকে বাচ্চার কাছে যাওয়ার অনুমতি মিললো।এভাবে দীর্ঘ ৭ঘন্টা সময় নিয়ে দরিদ্র বাবার মেয়ে রোকেয়ার অপারেসন হলো।বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নিভির্র পর্যাবেক্ষনে আছে।আজকে সেই ভদ্র লোক রক্ত দানকারী হায়দার ভাইয়ের বাবার অপারেসন চলছে।সবাই দোয়া করবেন এই দুই জন রুগিকে আল্লাহপাক যেন ভালো করে দেন।আমি ধন্যবাদ জানায় হায়দার ভাইকে তার এই অবদানের জন্য।সবার কাছে দোয়া চাই।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : আলমগীর হোসেন 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top