Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৯:০০ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি : রিচার্ড অলব্রাইট নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই 'নির্বাচনকালীন সরকার'   মঙ্গলবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নিবে আওয়ামী লীগ  আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মনোনীত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী প্রথম দিনে ১৩২৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে বিএনপি  পাঁচ বিভাগের ৭টি আসনে একক প্রার্থী পাচ্ছে আওয়ামী লীগ সিইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২৩ নয়, এখন ৩০  ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন ইসি 

নির্বাচনকে ঘিরে আগামী তিনমাস যেসব ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটতে পারে !


মো: মাহমুদ হাসান

আপডেট সময়: ২৬ অক্টোবর ২০১৮ ১২:২২ পিএম:
নির্বাচনকে ঘিরে আগামী তিনমাস যেসব ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটতে পারে !

উপ-সম্পাদকীয় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আগামী তিনমাস (১৬ই অক্টোবর ২০১৮ হতে ১৪ই জানুয়ারি ২০১৯) বাংলাদেশে যেসব ঘটনা-দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমার কিছু ধারণা বা অনুমান তুলে ধরতে চেষ্টা করছি । 

এগুলো কোন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গবেষণালব্ধ তথ্য নয় অথবা রথি-মহারথীদের সাক্ষাৎকারভিত্তিক কোন সংবাদ নয়; বাংলাদেশের অতীতের নির্বাচনসমূহের আগে-পরে ঘটে যাওয়া কিন্তু কোন মহল হতেই সঠিকভাবে বিশ্লেষণ না করা ও অপ্রকাশিত ঘটনা-দূর্ঘটনা এবং সাম্প্রতিক সোয়া দুই বছরের ঘটনা-দূর্ঘটনাবলির আলোকে একান্ত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষভিত্তিক বিশ্লেষণাত্মক ব্যক্তিগত ধারণা বা অনুমান মাত্র; এসবকে হাইপোথিসিস হিসেবে গণ্য করার মতো কোন কারন নেই। 

তবে, যারা অতীতের ঘটনা-দুর্ঘটনাগুলি স্মরণে রেখেছেন ও গত সোয়া দুই বছরের ঘটনাবলি বিশ্লেষণ করার মতো স্বীয় ধীশক্তি আছে বলে মনে করেন, তারা বিষয়গুলি পড়ে নিজেদের ভাবনার সাথে মিলিয়ে নিতে পারেন। যারা এসব বিষয়গুলি আমলে নেয়ার ও নিজেদের পথ মসৃণ করার জন্য সংশোধিত হবার, তারা এসব ফেসবুক স্ট্যাটাস বা অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সাধারন মানুষের মতামত জানার বিন্দুমাত্র আগ্রহ যে নেই, তা গত ৪বছরে বারবার প্রমান হয়েছে। উহাদের (বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার পক্ষের ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ধ্বংসের পক্ষের-উভয়কুলের) অবস্থা অবশেষে “ডাক্তার আসিবার পূর্বেই রোগী মরিয়া গেলো” হইবে এটা নির্দ্বিধায় অগ্রিম বলে রাখা যেতে পারে। 

আমার ব্যক্তিগত ধারণা বা অনুমান অনুযায়ি যেসব ঘটনা ও দূর্ঘটনা আগামী তিনমাসে ঘটতে পারে, সেগুলি নিম্মরূপ-

(১) মোসাদ-সিআইএ - আইএসআই এর প্রতিনিধি হিসেবে ডেভিড বার্গম্যান, মার্শা বার্নিকাট, ইউনূস গং ড. কামাল, ব্যারিষ্টার মঈনূল, মতি-মাহফুজ-মাহমুদুর এসব গণধিকৃত ও গণবিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের দিয়ে বাংলাদেশে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটানোর পরিবেশ তৈরির জন্য রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘোলাটে পরিস্থিতি সৃষ্টি করার জন্য নানারকম উদ্ভট উদ্ভট বক্তব্য ও দাবী হাজির করাবে এবং সমগ্র দেশবাসীর কাছে এসব ঘৃণিত ব্যক্তিরা আরো হাস্যকর ও সার্কাসের ক্লাউন হিসেবে চিহ্নিত হতে থাকবে। আর এসব জন-সমর্থনহীনদের আরো হাস্যকর করে তুলতে আরো কিছুদিন (নভেম্বর ২০১৮ এর প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত) জামায়াত-শিবির চক্র অর্থের জোগান দিয়ে যাবে।

(২) তারেককে সাথে নিয়ে মোসাদ-সিআইএ-আইএসআই বাংলাদেশে আরেকটি ১৫ই আগষ্ট বা ২১শে আগষ্ট ঘটানোর অপচেষ্টা করবে ও ব্যর্থ হবে ২০১৭ সালের মতোই:- মিরপুর মাজার রোডের কবুতর বাড়ির ফ্রিজ বোমা দিয়ে গণভবনের চারপাশে একযোগে বোমাবাজির দুঃস্বপ্ন, বিমান পাইলট সাব্বিরের গণভবন উড়িয়ে দেয়ার দুঃসাহসী আকাঙ্খা, হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনাল হতে দূরপাল্লার বোমা নিক্ষেপ করে ২১শে আগষ্টের ন্যায় একটি দলের সমগ্র মূল নেতৃত্ব ধ্বংস করে দেয়ার অপচেষ্টার মতো ষড়যন্ত্রগুলি যেমন দেশপ্রেমিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীসমূহ যেমন নস্যাৎ করে দিতে পেরেছিলো, ২০১৮ সালের নতুন নতুন ষড়যন্ত্রগুলিও নস্যাৎ করে দিতে সক্ষম হবে। কেননা, এখন এসব বাহিনী ও সংস্থাসমূহে পাকিস্তান-ফেরৎ কোন কর্মকর্তাও নেই, আর এসব এসব বাহিনী ও সংস্থাসমূহে কর্মরত কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ মনে করেন, তারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে মায়ের আদর ও শাষণে ভালোই আছেন, স্ব স্ব মর্যাদা অক্ষুন্ন রেখে যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন; অতীতের কোন কোন শাষকগোষ্ঠীর বাড়ির চাকর-বাকরের মতো হুকুম-বরদার হয়ে নয়, তাই তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ও নস্যাৎ করে দিতে সর্ব্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে তৎপর থাকবেন।   

(৩) গত সোয়া দুই বছরে সবচেয়ে বেশি ভাঁড়ামী করে জাতিকে সস্তা বিনোদনপ্রদানকারি ডা. জাফরুল্লাহকে তার পরিবারের সদস্যরা নীরব করে দেবে গফুর ওরফে ফরহাদ মজহারের মতোই। এর বিরুদ্ধে ইতমধ্যে সেনাবাহিনী প্রধান সম্পর্কে উদ্ভট মন্তব্য করায় একটি জিডি হয়েছে। অন্যের কথা শুনে যে উন্মাদের মতো প্রলাপ বকে, তাকে এখন পরিবারের সদস্যরাই নিবৃত্ত করবে। কেননা, এটা একটা শিশুও বোঝে যে, ২০০৪ সাল বা তার পূর্বে কেউ একটা সেনানিবাসের জিওসি থাকলে ২০১৮ সালের অনেক আগেই অবসরে চলে যাবার কথা। কিন্তু এই উন্মাদ জাফরুল্লাহর হিসেব করে কোন কথা  বলার মতো হুঁশ ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্টের পর হতে কখনোই ছিলো না। গুলশান জঙ্গি হামলায় অংশগ্রহণকারিদের জাফরুল্লাহ “নিরীহ ছেলে” বলে ও এ কথা অনুসরণ করে বিএনপি চেয়ারপার্সন “বিক্ষুব্ধ তরুণদের ব্যর্থ অভ্যুত্থান” বলে একটি বড়োসড়ো রাজনৈতিক দলকেই কবরে পাঠিয়ে দিয়েছে। 

এরা দু’জন উন্মাদ ও জঙ্গিরাণী হিসেবেই এই দলটির কর্মী-সমর্থক ও সাধারন জনগণের কাছে চিহ্নিত হয়ে আছে ২০১৬ সালের জুলাই মাসে হতে; কেবলমাত্র এসি-রুমের নির্বোধেরা এ বাস্তব সত্যটুকু উপলদ্ধিতে আনতে শতভাগ ব্যর্থ। 

কিছুদিনের মধ্যেই জাফরুল্লাহর বিরুদ্ধে আরো দুইটি  মামলা বা জিডি কেউ না কেউ করবে (৩.ক) জাতির পিতা সম্পর্কে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য, যা চরম মিথ্যাচারের মাধ্যমে ইতিহাস বিকৃতির শামিল “শেখ মুজিব তো ভাষা আন্দোলনের সময় ছোট ছিলো, তার তো ভাষা আন্দোলনে কোন ভূমিকাই নেই”। জাফরুল্লাহর মনে নেই যে, শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগের যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ছিলেন, ছোট ছেলে ছিলেন না। (৩.খ)প্যাডসর্বস্ব একটি সংগঠনের সভায় দাঁড়িয়ে আরেকটি ১৫ই আগষ্ট ঘটানোর হুমকী।

(৪) মোসাদ-সিআইএ-আইএসআই এর ইচ্ছানুযায়ি ডেভিড বার্গম্যান, মার্শা বার্নিকাট, ইউনূস গং এর নির্দেশনায় ড. কামাল, ব্যারিষ্টার মঈনূল, মতি-মাহফুজ-মাহমুদুরদের যুক্তফ্রন্ট হতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বিনোদনটিতে আরো বহু ভাংচুর, জোড়াতালি চলতে থাকবে এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহের পর আর এটির কোন অস্তিত্ব থাকবে না; কারন জামায়াত এ প্রক্রিয়াটিকে ব্যবহার করে অ্যন্টি-আওয়ামী লীগ ভোট-ব্যাঙ্ককে সমৃদ্ধ ও সুসংহত করে ফেলবে এ সময়ের মধ্যে এরপর জামায়াতের এসব জনবিচ্ছিন্নদের ব্যবহারের প্রয়োজন থাকবে না। 

(৫) জামায়াত একদিকে বিএনপির ভুতটিকে বলবে, খালেদার মুক্তির দাবীতে আরেকটি জনসভা করার জন্য, এজন্য পর্যাপ্ত অর্থও জোগান দেবে; কিন্তু, জনসভায় কোন লোক সমাবেশ করাবে না; জনগণের কাছে শফিউল আলম প্রধানের জাগপার মতো ফালতু একটি দল হিসেবে চিহ্নিত করাবে বিএনপিকে। 

(৬) কবরে চলে যাওয়া বিএনপি এখনও ভুত হিসেবে টিকে আছে ফালুর অনুসারি হলুদ সাংবাদিক ও পাপারাজ্জিদের খেদমতের বদৌলতে; এটিকে একবারেই ক্ষয় করিয়ে ওঝা দিয়ে বোতলবন্দী অবস্থায় গভীর পুকুরের তলদেশে পাঠাবে জামায়াত-শিবির। এমতাবস্থায়, নিজ জি এলাকায় কিছু জনসমর্থন আছে এমন সব ব্যক্তি, এখনও (১৫ই অক্টোবর ২০১৮) পর্যন্ত্য যারা বিএনপির সাথে নামটি জড়িত রেখেছেন, এমন অনেকেই ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরির বিকল্পধারা হতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন লাভের তদ্বির শুরু করবে ও মনোনয়ন পাবেও। এর কিছুটা প্রমান মেলে আবাসিক নেতা রিজভীর বিবৃতি পাঠকালে তার পাশে যে মুখগুলি দেখা যেতো, গত এক সপ্তাহে সে মুখগুলি দেখা যাচ্ছে না। 

(৭) কর্ণেল (অব:) ড. অলি আহমেদ এর এলডিপিতে ফিরে আসবেন অনেক সাবেক এলডিপি নেতা, যারা, মঈনুদ্দি-ফখরুদ্দির জমানায় এলডিপিতে গিয়েছিলেন ও ২০০৮ এ এলডিপি ছেড়ে আবার বিএনপিতে গেছেন।

(৮) আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন পাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অনেকেই নৌকা হতে নেমে গামছা কাঁধে তুলে নেবেন। 

(৯) সাবেক তিন ডাকসু ভিপি জনাব আ. স. ম. আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না ও সুলতান মোহাম্মদ মনসুর জনগণের কাছে আরো হাস্যকর হয়ে যাবেন-যাতে তাদের একসময়ের অনুসারি ও ভক্ত অনেকেই দুঃখ পাবেন বটে, কিন্তু ওনারা যে ভুলের চোরাবালিতে পড়ে গেছেন, সেখান হতে উঠে আসার আর কোন সুযোগ তাদের জন্য থাকবে না।

(১০) “একটি বই দিয়েই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পতন” উদ্ভট প্রাণীতুল্য টকার ও সু-শীলদের দুঃস্বপ্নটি মাঠে মারা যাবে। জামায়াতের অর্থায়নে ইংরেজী ভাষার সিনহার স্বপ্নভঙ্গ সম্পূর্ণ বইটি বাংলা ভাষায় অনুবাদ হয়ে ব্যাপকহারে বাজারে আসবে না, আসবে খন্ডিত অংশ, নষ্ট-মনের পাঠকের হাতে তুলে দেয়া হবে চটি বইয়ের মতো গোপনে। কেননা, ৫জন লেখকের লেখা সম্পূর্ণ বইটি বাজারে এলে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেশি ক্ষতি হবে জামায়াত ও বিএনপির দুর্নামের শিকার ও কলঙ্কিত হবে বিচার বিভাগও। 

(১১) তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি নামক ভুতটির অনুসারিদের মধ্যে কোন অভ্যন্তরীন কোন্দল, সংঘাত একেবারেই ঘটবে না; তবে আবাসিক নেতা রিজভীর সাথে অন্যান্য নেতাদের আরো কিছু কোন্দল, হাতাহাতির ঘটনা ঘটবে; যা নির্বাচনকে সামনে রেখে আরো হাস্যকর হবে, জনগণের কাছে। 

(১২) নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য যেসব আইনগত বিধি-বিধান রয়েছে, সেসব বিষয়ে বিএনপি নামক ভুতটির কোন অংশ হতেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে না; কেননা, এ দলটির গঠনতন্ত্রের সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ি, কোন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীও দলটির সদস্য ও নেতৃত্বে আসীন থাকতে পারবে; আবার এ দলটির চেয়ারপারসন ছাড়া আর কেউই কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে ও দিতে পারবে না। এখন গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হলে, সম্মেলন করতে হবে, এর এখতিয়ারও কারো নেই, সাহসও কারো নেই-পারিবারিক সম্পত্তিতে হাত দেবার; গঠনতন্ত্র অনুযায়ি যার এখতিয়ার আছে, তিনি জেলে। তিনি সম্মেলন করার বিষয়ে কোন নির্দেশনা দিলে তা দিতে হবে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে জেল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে, যেটি কেউ ভাবছেনই না। 
নির্বাচনে কোন প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হলে একটি মনোনয়ন বোর্ড গঠন করতে হয়, আবেদনকারি প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিতে হয়, মনোনয়ন বোর্ডে প্রার্থীতা চুড়ান্ত করতে হয়, প্রার্থীদের মার্কা (দলীয় প্রতীক) বরাদ্দের জন্য নির্বাচন কমিশনে চিঠি দিতে হয়। আর এ কাজগুলি এতিমের টাকা আত্মসাৎ মামলায় সাজা ভোগ করা দলীয় চেয়ারপারসন আইনগতভাবে কয়েক ধাপে অনুমতি গ্রহণ করে কিভাবে সম্পন্ন করবেন, তা এখন পর্যন্ত্য কেউই ভাবেননি। কেননা, এখনও বিএনপি নামক ভুতটির নাম জপছেন যারা, তারা দুঃস্বপ্ন দেখছেন তারেক ভাইয়া অবশ্যই আরেকটি ১৫ই আগষ্ট বা ২১শে আগষ্ট ঘটিয়ে ফেলবেন আর ওনারা সবাই মিলে বঙ্গভবন ও গণভবনে ঢুকে যাবেন আরেকটি অংশ, যারা হাওয়া ভবনের পিয়ন-চাপরাশিদের চড়-থাপ্পড় খেয়েছিলেন বা সেনানিবাসে অবৈধভাবে দখল করে রাখা বাড়িতে তারেক ভাইয়া বা কোকো ভাইয়ার দ্বারা লাঞ্চিত-নিগৃহীত হয়েছিলেন, তারা কেউই চাচ্ছেন না, এ দলটির অস্তিত্ব আর টিকে থাকুক; তাদের ভাঁড়ামোর মূল লক্ষ্য হলো, নিরাপদভাবে আর কটা দিন থাকা- তারেক ভাইয়ার হুকুমে চরমভাবে আক্রমণের শিকার যাতে না হতে হয়, সেজন্য মাঝে মাঝে কিছু প্রলাপ বকা। 

 (১৩) ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত এম. কে. আনোয়ার সাহেব আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুটি দল হতে মনোনয়ন চেয়েছিলেন, তাঁকে মনোনয়ন দেয়া হয়, বিএনপি হতে; তিনি পাকিস্তান ফেরৎ ও জামায়াত-শিবির ক্যাডার আমলাদের নিয়ে খেলা দেখিয়েছিলেন, “ত্রিশ সীট পাবে কিনা সন্দেহ” দলটিকে ক্ষমতায় এনে। গত ১০ বছরে অবসরে যাওয়া অনেক আমলা আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন চাইবেন; যাদেরকে আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন দেবে না, তাদের ছোট ছোট দল হতে বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর জন্য প্রস্তুতিটি ইতমধ্যে জামায়াত-শিবির করে রেখেছে। অতীতের একটি উদাহরণ দেয়া যায়, আনছার আলী সিদ্দিকী সাহেব ময়মনসিংহের ডিসি থাকাকালে তাঁর তথাকথিত সততা বজায় রেখেই অনেক বিতর্কিত কাজ করেছিলেন, যেটি তখনকার ১৫দল ও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতাদের বারবার অবহিত করলেও বিশ্বাস করানো যায়নি, “উনি একজন ভালো মানুষ, সৎ মানুষ, বিনয়ী” এমন উত্তর পাওয়া গেছে। তিনি হঠাৎ করেই বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এলাকায় গেলেন, এলাকার মানুষকে চমকে দিলেন, বিজয়ী ঘোষিত হলেন ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হলেন; কিন্তু অবৈধ সুবিধা দিলেন সব জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের; ঠিক ব্যারিষ্টার আমিনূল হকের মতোই। 

২০১৮ সালেও এমন অনেক আনছার আলী সিদ্দিকীই তৈরি হয়ে আছেন নির্বাচনী ময়দানে নামার- যেটি কখনোই আওয়ামী লীগ, বিএনপি বা জাতীয় পার্টির হিসেবেই নেই। কথাটি কেউ ঔদ্ধত্য মনে করার কারন নেই; ১৯৯১ সালে কোন অলৌকিক জাদুর কাঠির বলে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিলো, ইলেকশন রিগিং সূক্ষ্ম কারচুপি বুলি আওড়িয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন গং কিন্তু কিভাবে কারচুপি হয়েছিলো, তা উদঘাটনের তাগিদ অনুভব করেননি। সুতরাং, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার কঠোরভাবে দেয়া ঘোষণা “নির্বাচন সম্পূর্ণরূপে সুষ্ঠুভাবে হবে” এর ফাঁকফোকর গলিয়ে জনগণের কাছে দূর্নীতিবাজ, মাদক ব্যবসায়ি ও অপরাধীদের গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিরা যেসব আসনে নৌকা পেয়ে যাবে, সেসব আসনে দেখা যাবে যে, ভোট কাষ্টিং হয়েছে ২০%, আর কাষ্টিং ভোটের ৮০% জামায়াত-শিবির সমর্থিত প্রার্থীর মার্কায় পড়ে গিয়েছে। কারন “নিজের খাইয়া নৌকা” অথবা “নৌকার জন্য জীবনবাজি, জমি- বাড়ি বেইচ্যা অইলেও আমরার কেন্দ্রত নৌকা জিতাইয়াম” এ ধরনের মুজিব-পাগল ও হাসিনা-পাগলদের সংখ্যাটি এখন মাইকোস্কোপ দিয়ে খুঁজে পাওয়া দুষ্কর; কেননা, তৃণমূল পর্যায়ে যারা সত্যিকারের মুজিব- দর্শনের সৈনিক, তারা এখন “আওয়ামী লীগ করি বা করতাম” এটা বললেও লাঞ্চিত হতে হয়, দেশের অধিকাংশ এলাকায়। 

এদেরকে ঝেঁটিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতৃত্ব হতে বিতাড়নের যে প্রক্রিয়াটি ১৯৯২ সালে ধোবাউড়ার কুখ্যাত রেজাহারের হুতাইনের মাধ্যমে মাত্র ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডিল পকেটে চালান করে দেয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছিলো, তা চলতে চলতে যথারীতি মহামারী আকারে দাঁড়িয়েছে ২০১৬ সালে ইউপি নির্বাচন ও পৌর নির্বাচনে কুখ্যাত রাজাকার পুত্রদের কাছে নৌকা বিক্রির মাধ্যমে এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে দলীয় পদ বিক্রির মাধ্যমে; এর সাথে যোগ করতে হবে অনেক মাননীয়দের শিবির ক্যাডার এপিএস নিয়োগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ধ্বংসের লীলাখেলা গুলিও ।  

(১৪) জনগনের কাছে চিহ্নিত দূর্নীতিবাজ, ভয়ঙ্কর অপরাধীদের লালন-পালনকারি, জঙ্গি মদদদাতা, মাদক ব্যবসায়ি কেউ কেউ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেই। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা যতোই প্রচারণা করুক না কেনো, কয়েকটি নির্বাচনী জরিপ, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য হতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বাছাই করে সঠিক প্রার্থী বাছাই করবেন ও মনোনয়ন দেবেন । 

সেখানেও ভুল হবে, আর এসব প্রচারণা বেশ কয়েকটি ক্ষতি আওয়ামী লীগের জন্য ডেকে আনবে: 

(১৪. ক) ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পর হতে তৃণমূল পর্যায়ের যাদের আত্মত্যাগে আওয়ামী লীগ টিকে ছিলো নিজ নিজ এলাকায়, তাদের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীরা আরও অবমূল্যায়ণ করবে এবং এরা নিজ ভোটটি দেয়া ছাড়া এসব প্রার্থীর পক্ষে কোন ধরনের প্রচারণায় নামতে পারবে না, সামাজিক নিন্দা ও গ্লানির ভয়ে; 

(১৪.খ) গোয়েন্দা তথ্য ও জরিপে তো আমিই জিতে আছি, তাই নিজ নির্বাচনী কৌশল ও প্রতিপক্ষের অপকৌশল কি কি হতে পারে এবং করণীয় কি কি, তা ভাবারই সময় পাবেন না, মোসাহেবদের চাটুকারিতা ও কোকিল-ছানাদের অপখেলাগুলিতে শামিল হয়ে; 

(১৪.গ) দূর্নীতিবাজ ও জামায়াত-শিবির ক্যাডার আমলারা এসব দূর্নীতিবাজদের কিভাবে ঘায়েল করবে, সেসব বোঝার মতো বোধশক্তি এসব আকন্ঠ দূর্নীতিবাজদের নেই, কেউ এদের সতর্কও করবে না।

(১৫) আওয়ামী লীগের গত দুই মেয়াদে (চলমান মেয়াদটি সহ) ১৯৯৬-২০০১ এর চেয়েও আরো ভয়াবহভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে বিশ্বাসী অপরাপর দল, সংগঠন ও ব্যক্তির উপর আঘাত এসেছে বিভিন্ন স্থানে, যার কোনটিরই প্রতিকার হয়নি; অপরদিকে রাজাকার পুত্র-কন্যাদের তোষণ-পোষণ-লালনের মহোৎসব চলেছে পৌনে ১০টি বছর। যার ফলশ্রুতিতে অনেক স্থানেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষগুলো ভোট দেবে, কিন্তু, নৌকা প্রতীকের ভোট রক্ষার জন্য কেউ কেন্দ্রে বা সহকারি রিটার্নিং অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে কেউ থাকবে না; রেজাল্ট শীটে বামে এক বসে যাবে জামায়াতের স্বতন্ত্র বা ছোট দল হতে মনোনয়ন নেয়া প্রার্থীদের মার্কার পাক্ষে। অনেক আসনেই ভোটের দিন মানুষ ঘর হতে বের হবে না; কারন, আমরা শ্রমিক-কৃষকের ঘামে, রক্তে শেখ হাসিনার সঠিক নির্দেশনায় জাতীয় অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি করেছি, পদ্মা সেতু সহ বেশ কিছু বৃহদাকার অবকাঠামো নির্মানে বিশ্বকে চমকে দিয়েছি, কিন্তু, আমাদেরই পাশে থাকা নরপশুরা তৃণমূলে যে লুটপাট চালিয়েছে, তা উল্লেখ করতেও মানুষ ভয় পায়; মাফিয়া-চক্রের হাতে খুন হওয়া বা মিথ্যা মামলায় হয়রানি হবার ভয়ে। 

একটি উদাহরণ : গত জুলাইতে আজকে সারা বিশ্বে পারিচিত স্থানের নাম “কলসিন্দুর” সেখানে গিয়েছিলাম, একটি বর্বর নির্যাতনের শিকার শিশুকে নিরাপদ হেফাজতে আনতে; ২৫বছর আগের রেখে আসা কাঁচামাটির সন্ধান পেলাম তথাকথিত পাকা রাস্তার স্থানে স্থানে, ৪০ কিলোমিটার রাস্তা পাড়ি দিতে লাগলো ৪ হতে ৫ ঘন্টা, ৬দিন অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম অন্যের ঘরে, “নির্যাতিত শিশুর জন্য বিচার চাইবো কি, ভিক্ষা লাগবো না কুত্তা সামলান” অবস্থা নিয়ে ভিকটিম শিশুকে নিয়ে রীতিমতো পালিয়ে আসতে হলো; দেশের অধিকাংশ স্থানেই উন্নয়ন ও সুশাষণের এই করুণ চিত্র বিদ্যমান। বাস্তবতা হলো- “গণতন্ত্রের সুবিধা শুধু নরপশুদের জন্য, মাফিয়াদের জন্য, সাধারন মানুষের জন্য সুশাষণ সুদূরপরাহত” । 

এ অবস্থায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা কিভাবে ১৯৯১ ও ২০০১ এর মতো করে বামে এক বসানো রেজাল্ট শীট নিয়ে ঘোষিত হয়ে যাবেন, তা আওয়ামী লীগের বোধে আসবে না কারন, তারা ইতিহাস হতে শিক্ষা নেয় না।(১৬) উপরোল্লিখিত বিষয়সমূহের প্রতিটি যথাযথভাবে ঘটে যেতে থাকলে, এবং এসব বিষয়ে রাজনৈতিক দল হিসেবে সতর্কতা অবলম্বন না করলে, নিজ মেধা, শ্রম, মানবতাবোধ হতে আজকে ২০১৮ সালে জননেত্রী হতে বিশ্বনেত্রী ও বিশ্ব মানবতার জননী অভিধায় উন্নীত হওয়া শেখ হাসিনাকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সরকার গঠনের প্রশ্নে ২০০৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনের পরবর্তী অবস্থার মতোই ন্যাক্কারজনক পরিস্থিতিতে পড়তে হবে।   

তাহলে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব এখন যার হাতে নিরাপদ, তাকে নিরাপদে তৃতীয় মেয়াদে জনগণের সমর্থন ও ভোটে ক্ষমতায় আনার সুযোগ কি নেই ? 

উত্তর হলো, অবশ্যই আছে। দূর্নীতিমুক্ত, কর্মী-বান্ধব, জন-বান্ধব, সৎ ব্যক্তি ও সত্যিকারের মুজিব-দর্শনের সৈনিকদের মনোনয়ন দেয়ার মাধ্যমেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরাপদে সরকার গঠন করতে পারে। এজন্য আওয়ামী লীগকে অন্তত: একশ আসনে খুঁজে বের করতে হবে এমন সব ব্যক্তিকে, যারা নিজেরাও কল্পনা করেনি যে, তাঁকে আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য হিসেবে প্রার্থী করার কথা ভাবতে পারবে। 

ঝেঁটিয়ে বিদায় করাদের মধ্য হতে এমন একশ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে এদের মনোনয়ন দিয়ে দূর্নীতিবাজদের চপেটাঘাত করার মাধ্যমে জাগিয়ে তোলা সম্ভব “নিজের খাইয়া নৌকা” আবেগধারী মুজিব-পাগল ও হাসিনা-পাগলদের। 

যারা ঠিকই সকল ভোটারের হাতে পায়ে ধরে কেন্দ্রে হাজির করিয়ে ৮০% ভোট কাষ্টিং করাবে ও কাষ্টিং ভোটের ৮০% নৌকায় পাইয়ে দেবে, যারা এখনো একজন সৎ মানুষের জন্য নিজের সময়, সম্পদ, মেধা, শ্রম বিলিয়ে দিতে রাজী, এমনকি নৌকার ভোট রক্ষার জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিতেও রাজি।           

যার যার অবস্থান হতে বোধোদয় হোক !  বাংলাদেশ, ১৭ কোটি মানুষ, বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা নিরাপদ থাকুক !! বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব অটুট থাকুক !!!

মোঃ মাহমুদ হাসান, সমাজ গবেষণা কর্মী (১৯৮২-৯০ সামরিক-স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের সৈনিক, ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ। 


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top