Projonmo Kantho logo
About Us | Contuct Us | Privacy Policy
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮ , সময়- ৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
Total Visitor: Projonmo Kantho Media Ltd.
শিরোনাম
রাখাইনে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়নি : রিচার্ড অলব্রাইট নির্বাচনী আচরণবিধি মানছেন না সম্ভাব্য প্রার্থীরা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারই 'নির্বাচনকালীন সরকার'   মঙ্গলবার পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা নিবে আওয়ামী লীগ  আন্তর্জাতিক পুরস্কারে মনোনীত শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী প্রথম দিনে ১৩২৬টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে বিএনপি  পাঁচ বিভাগের ৭টি আসনে একক প্রার্থী পাচ্ছে আওয়ামী লীগ সিইসিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী ২৩ নয়, এখন ৩০  ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশনা দিয়েছেন ইসি 

গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো অংশহণমূলক নির্বাচন


প্রজন্মকণ্ঠ অনলাইন রিপোর্ট

আপডেট সময়: ৬ নভেম্বর ২০১৮ ১১:৩২ এএম:
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো অংশহণমূলক নির্বাচন

রাজনৈতিক দলের দাবির মুখে নির্বাচন কমিশনকে অতীতে কয়েকবার পদত্যাগ করতে  হয়েছে৷ আবার এই নির্বাচন কমিশনই বাংলাদেশে অনুসরনীয় নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে৷

একমাত্র ২০১৪ সাল ছাড়া ১৯৯১ সাল থেকে সবগুলো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন জামাল উদ্দীন৷ ২০১৪ সালের ভোট ছিল একতরফা৷ আর তাঁর এলাকার প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে সেবার ভোট দিতে হয়নি৷  তবে তিনি এবারের একাদশ জাতীয় সংষদ নির্বাচনে ভোট দেয়ার আশা করছেন৷

তাঁর মতে, ‘‘নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করা৷ কিন্তু নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের আমল ছাড়া জাতীয় নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন সেই ভূমিকা ঠিকভাবে পালন করতে পেরেছে বলে আমার মনে হয় না৷'' তিনি বলেন, ‘‘এবার যে ধরনের সরকারের  অধীনেই নির্বাচন হোক না কেন আমি দেখতে চাই নির্বাচন কমিশন তার দায়িত্ব পালন করেছে৷''

জাহাঙ্গির আলম একজন তরুন ভোটার৷ ২০১৪ সালের  ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে তিনি প্রথম ভোটার হন৷ কিন্তু সেবার ভোট দেননি৷ এবার ভোট দেবেন বলে আশা করেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় নির্বাচন যথাসময়েই হবে৷ আর আমি চাই আমার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে৷ নির্বাচন কমিশন যেন স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ভোটের আয়োজন করে৷''

ভেটারদের ভিতরে নানা করণেই এবার নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ আছে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো, নির্বাচনে সব দল অংশগ্রহণ করবে বলে মনে হচ্ছে৷ সরকারের সঙ্গে বিরোধীদের সংলাপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে৷ আর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হলো অংশহণমূলক নির্বাচন৷

ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে, তাদের সাত দফা দাবির মধ্যে অন্যতম হলো নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন৷ এর সঙ্গে থাকা বিএনপিসহ অন্যান্য দলের নেতারা বলছেন, ‘‘দক্ষ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে৷ এই নির্বাচন কমিশন দিয়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়৷'' তবে তাঁরা এরসঙ্গে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেও নির্বাচন দাবি করছেন৷ তাঁদের কথায় স্পষ্ট যে, শুধু নির্বাচন কমিশন দক্ষ এবং নিরপেক্ষ হলেই চলবে না৷ দরকার একটি নির্দলীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার৷

অন্যদিকে সরকারও নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কথাই বলছে৷ তারা মনে করে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনেই তা সম্ভবত আর তারা নির্বাচনের সময় নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারকে অসাংবিধানিক সরকার বলছেনউ তাদের কথা, সরকার নির্বাচন কমিশনের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না, করার সুযোগও নেইউ নির্বাচন কমিশন স্বাধীনউ অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দায়িত্ব তাদেরউ আর বর্তমান নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করেছেন৷ সেখানে বিরোধী রাজনৈতিক দলও নাম দিয়েছে৷ তাদের প্রস্তাবিত নামের তালিকার ব্যক্তিও নির্বাচন কমিশনের সদস্য হয়েছেন৷

নির্বাচন কমিশনের কাজ যে একটি অংশগ্রহণমূল এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন, তা নিয়ে সরকার, বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং ভোটার কারো মধ্যেই দ্বিমত নেই৷ তবে নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে, দক্ষতা ও যোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক আছে৷ বর্তমান নির্বাচন কমিশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ মোট ৫ জন সদস্য৷ তাঁরা আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন৷ তাঁদের রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা৷

স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে৷ আর ২০১৪ সালে সালে দশম সংসদ নির্বাচন হয়৷ এবারের নির্বাচন হবে একাদশ সংসদ নির্বাচন৷ ১৯৭৯, ১৯৮৬ এবং ১৯৮৮ সালের নির্বাচন হয় সামরিক শাসকদের তত্বাবধানে৷ '৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে নির্বাচন হয় নির্দলীয় নিরপেক্ষ  তত্বাবধায়ক সকারের অধীনে৷ বিএনপি ক্ষমতায় আসে৷

১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচন একতরফাভাবে বিএনপি দলীয় সরকারের অধীনে হয়৷ এই বিতর্কিত নির্বাচনের পর আন্দোলনের মুখে সংবিধান সংশোধন করে সংবিধানে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত করা হয়৷ ওই বছরের জুন মাসে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে৷ এরপর ২০০১ সালে  তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে৷ ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্বাকধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে৷ এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আদালতের রায়ে তত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে আওয়ামী লীগ৷ ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে নির্বাচন বর্জন করে বিএনপি-জামায়াত জোট৷ তারা তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে৷ এবারও তারা নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করছে৷ কিন্তু  ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সে দাবি নাকচ করে দিয়ে সংবিধান অনুযায়ী তাদের অধীনেই নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে৷

সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৮-র নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়৷ প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অনধিক চার জন নির্বাচন কমিশনারকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়৷ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হতে পাঁচ বছর৷

সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব বলে দেয়া আছে৷ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচন পরিচালনা, নির্বাচনের জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা, নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনঃনির্ধারণ, আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্যান্য নির্বাচন পরিচালনা৷এর মধ্যে সকল স্থানীয় সরকার পরিষদ যেমন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পার্বত্য জেলা পরিষদ অন্তর্ভূক্ত৷ এবং আনুষাঙ্গিক কার্যাদির সুষ্ঠু সম্পাদন, দায়িত্ব পালনে নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকবে এবং কেবল সংবিধান ও আইনের অধীন হবেন৷ নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব পালনে সহায়তা করা সকল কর্তৃপক্ষের কর্তব্য৷

বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কে এম নুরুল হুদা বাংলাদেশের ১২তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার৷ তিনি ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন৷ অন্য চার জন নির্বাচন কমিশনার হলেন মো. রফিকুল ইসলাম, মাহবুব তালুকদার, কবিতা খানম এবং শাহাদৎ হোসেন চৌধুরী৷ বাংলাদেশে এবারই প্রথম কোনো নারী নির্বাচন কমিশনার হলেন৷

১৯৯৪ সালে বিএনপি সরকারের সময় মাগুরা জেলায় একটি বিতর্কিত উপ-নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আট মাস আগেই পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন সেই সময়ের  প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আব্দুর রউফ৷ ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন বিচারপতি এম এ আজিজসহ পুরো কমিশনকে সরে যেতে হয় সেনা সমর্থিত তত্বাবধাক সরকারের সময়৷ এছাড়া সাবেক আরেকজন প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এ কে এম সাদেককে নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক ছিল৷

সাবেক নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ মনে করেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করা হয়৷ নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করা এককভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়৷ এর জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়৷ সবাই যদি নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নির্বাচন পরিচালনা এবং তা গ্রহণযোগ্য করা সহজ হয়৷''

তিনি বলেন, ‘‘এখানে ভোটারদেরও দায়িত্ব আছে৷ এর সঙ্গে আরো অনেক ফ্যাক্টর নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সঙ্গে জড়িত৷ নির্বাচন কমিশন স্বাধীন৷ নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিতে হয়৷ নির্বাচনের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের আরো অনেক প্রতিষ্ঠান জড়িত৷ তারা নির্বাচনের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য৷ কাজ না করলে কমিশন ব্যবস্থাও নিতে পারে৷ কিন্তু কেউ কাজ না করলে তা তো জানতে হবে৷ না জানলে ব্যবস্থা নেবে কিভাবে৷ কিন্তু দেখা যায়, জানার আগেই নির্বাচন শেষ হয়ে যায়৷''

২০১১ সালে নারাণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে চেয়েও পারেনি নির্বাচন কমিশন৷ এ প্রসঙ্গে মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলেন, ‘‘আমরা ঠিক সময়ে চাইতে পারিনি৷ আবার এমন সময় চেয়েছি তখন প্রধানমন্ত্রী দেশে ছিলেন না৷ এটাও একটা সমস্যা৷ সবকিছু তো নির্বাচন কমিশন সরাসরি করতে পারবে না৷ এরও একটা প্রক্রিয়া আছে৷''

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইব)-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘‘এটা সত্য যে, বাংলাদেশে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে প্রশ্ন নেই৷ তাই এটা ঠিক যে, যাঁরা ক্ষমতায় থাকেন, তাঁদের একটা প্রভাব নির্বাচন কমিশনের ওপর থাকে৷ তাঁরা নির্বাচন কমিশনকে কিভাবে সহায়তা করবেন, কতটা সহায়তা করবেন, সেটা নির্বাচন কমিশনের সফলতার ওপর প্রভাব ফেলে৷ আবার বর্তমান সরকারের অধীনেই বর্তমান নির্বাচন কমিশন ভালো কিছু স্থানীয় সরকার পর্যায়ের নির্বাচন করেছে৷ আর সবচেয়ে বড় কথা হলো যারা নির্বাচনে অংশ নেয়, সেই দলগুলো সুষ্ঠু নির্বাচন চায় কিনা৷''

তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি, প্রথম কথা হলো, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা৷তাদের নেতৃত্বের গুণাবলী৷ তারা সংবিধান এবং আইন অনুয়ায়ী নির্বাচন পরিচালনার যোগ্যতা সম্পন্ন কিনা৷ এটা সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে৷ তাঁরা যদি স্বাধীনভাবে কাজ করেন, তাঁরা যদি দক্ষ এবং সংবিধান ও আইনের অনুসারী হন, তাহলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনেকটাই নিশ্চিত হয়৷''


আপনার মন্তব্য লিখুন...

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ন বেআইনি
Top