মোসাদ্দেকের শতক, উত্তরাঞ্চলের লক্ষ্য ২৮৪

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) উত্তরাঞ্চলকে ২৮৪ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে মধ্যাঞ্চল। ব্যাট হাতে ১০৪ রানের ইনিংস খেলেছেন মধ্যাঞ্চলের মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বোলিংয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন পেসার মোহর শেখ। তৃতীয় দিনশেষে জয়ের জন্য উত্তরাঞ্চলের চাই ২৭৭ রান। মধ্যাঞ্চলের চাই ৯ উইকেট। 

মোসাদ্দেকের শতক

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও নতুন ব্যাটসমযান তাইবুর রহমান মিলে মধ্যাঞ্চলের তৃতীয় দিন শুরু করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে মধ্যাঞ্চলের সূচনাটা হয়েছে নড়বড়ে। ৫০ রানেই তারা হারায় তিন উইকেট। ক্রিজে থিতু হতে পারেননি তাইবুর রহমানও। ৬ রান করে মোহর শেখের বলে বোল্ড হয়েছেন তাইবুর রহমান। এরপর নাজমু হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দেন আরেক পেসার এবাদত হোসেন। ৪২ রান করে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়েন নাজমুল হোসেন শান্ত।

শুভাগত হোমকে নিয়ে হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সামাল দেন বিপর্যয়। মোসাদ্দেক হোসেন ও শুভাগত হোম মিলে গড়েন ৬৭ রানের জুটি। ৪৫ রানের ইনিংস খেলেন শুভাগত হোম। ৬২ বলে ৪৫ রান করে মোহর শেখের শিকারে পরনিত হন শুভাগত হোম। সপ্তম উইকেটে মোশাররফ হোসেনকে সাথে নিয়ে মোসাদ্দেক হোসেন গড়েন ১২৭ রানের জুটি। এ জুটিতে ভর করে উত্তরাঞ্চলকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য দেওয়ার পথে এগিয়ে যায় পূর্বাঞ্চল।

শতক হাঁকান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ১৬০ বলে ১০৪ রান করে এবাদত হোসেনের বলে বোল্ড হন মোসাদ্দেক হোসেন। এটি তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের ১১ তম শতক। তার ইনিংসে ছিল ১১ চার। পরের বলে শহিদুল ইসলামকেও ফিরিয়ে দেন এবাদত হোসেন। তিনিও ফিরে যান বোল্ড হয়ে।

অর্ধশতক তুলে নেন মোশাররফ হোসেন। অতি প্রয়োজনীয় ৫৪ রানের এক ইনিংস খেলে মোহর শেখের বলে এলবিডব্লিউ হন মোশাররফ হোসেন। শেষ ব্যাটসম্যান আবু হায়দার রনির ব্যাট থেকে আসে ১৪ রান। ২৫ বলে ১৪ রান করেন আবু হায়দার রনি। মোহর শেখের বলে এবাদত হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন আবু হায়দার রনি। আগের দিন এক উইকেট পাওয়া মোহর শেখ তৃতীয় দিন শিকার করেন আরও চারটি উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার।
 
চার উইকেট শিকার করেছেন আরেক পেসার এবাদত হোসেন। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট শিকার করেছিলেন এ পেসার। প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ম্যাচে দশ উইকেট শিকারের স্বাদ পেলেন এবাদত হোসেন।

২৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সূচনাটা অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল উত্তরাঞ্চলের জন্য।  ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ফিরে যান ওপেনার মিজানুর রহমান। বাঁহাতি পেসার আবু হায়দার রনির বলে বোল্ড হন মিজানুর রহমান। ৭ রান করেন তিনি। নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামেন সানজামুল ইসলাম। চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করবেন ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী এবং সানজামুল ইসলাম। এখনো কোনো ব্যাটসম্যানই রানের খাতা খুলেননি। দিনশেষে উত্তরাঞ্চলের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৭।

এর আগে এবাদত হোসেনের বোলিং তোপে পড়ে প্রথম ইনিংসে ২২০ রানে অলআউট হয়ে যায় মধ্যাঞ্চল। ৭৬ রানের ইনিংস খেলেন আব্দুল মজিদ। প্রথম ইনিংসে ৩৫ রানের লিড পায় উত্তরাঞ্চল। ২৫৫ রান সংগ্রহ করে তারা। দলোয় সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন ওপেনার মিজানুর রহমান এছাড়া ৬১ রান করেন নাঈম ইসলাম এবং ৫৪ রানের ইনিংস খেলেন ফরহাদ হোসেন। ছয় উইকেট শিকার করেন শহীদুল ইসলাম।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ মধ্যাঞ্চল ২২০/১০, প্রথম ইনিংস, ৬২.৫ ওভার
মজিদ ৭৬, হোম ৪৮, মোশাররফ ৩৪
এবাদত ৬/৫১, জিয়াউর ২/৩৫, মোহর ১/৫৪

উত্তরাঞ্চল ২৫৫/১০, প্রথম ইনিংস, ৮১.৪ ওভার
মিজানুর ৮১, নাঈম ৬১, ফরহাদ ৫৪
শহিদুল ৬/৬৪, মোশাররফ ২/৫৬, আবু হায়দার ২/৫৯

মধ্যাঞ্চল ৩১৮/১০, দ্বিতীয় ইনিংস, ৮৯.৪ ওভার
মোসাদ্দেক ১০৪, মোশাররফ ৫৪, হোম ৪৫
মোহর ৫/৬৯, এবাদত ৪/৮৮, জিয়াউর ১/৬০

উত্তরাঞ্চল, ৭/১, দ্বিতীয় ইনিংস (লক্ষ্য ২৮৪ রান), ৩.৩ ওভার
মিজানুর ৭
আবু হায়দার ১/৫

পাঠকের মন্তব্য