তাবলীগ জামাতের সংকট ও সমাধানের পথ

পাঠক মতামত : দ্বীন ইসলাম প্রচার ও প্রসারে তাবলীগ জামাতের ভূমিকা অপরিহার্য। হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ. ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ. এর পদ্ধতিতে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজ সারা দুনিয়াতে সমাদৃত ও গৃহীত হয়েছে। শতাব্দিব্যাপী দীর্ঘ সময়ে তাবলীগী কাজে কখনোই কোনো বিশৃঙ্খলা পরিলক্ষিত হয়নি।কিন্তু তাবলীগ জামাআতের বর্তমানের সংকট কঠিন অবস্থায় উপনীত। যা মোটেই কাম্য নয়।

তাবলীগ জামাআতের শেষ হযরতজী হযরত মাওলানা এনামুল হাসান সাহেব (র.) এর ইন্তেকালের পর প্রায় ২০ বছর তাবলীগের মেহনত মোটামুটি সুষ্ঠুভাবে চলছিল। যদিও এ সময়ে তাবলীগের একক কোন আমির ছিল না। 

কিন্তু হযরত মাওলানা জোবায়েরুল হাসান সাহেব (র.) এর ইন্তেকালের পর কিছু অতি উৎসাহী ব্যক্তি নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে মাওলানা সাআদ সাহেবকে আমির এবং তাকে মানায় এখন ওয়াজিব বলে ঘোষণা করে। এইটাই মূল সংকটের কারণ।তাছাড়া মাওলানা সাদ সাহেবের ওপর জিম্মাদারি আসলে তিনি উম্মতের বৃহত্তর স্বার্থের বিপরীতে ক্ষুদ্র চিন্তা-ভাবনার দ্বারা তাড়িত হয়ে এমন কিছু কথা ও কাজ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিলেন যার কারণে তাবলিগের মূল দৃষ্টিভঙ্গিই আজ ধূলিস্যাত হতে বসেছে। পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সাথীদের চিন্তার মাঝে মারাত্মক বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে।মাওলানা সাদ তার বিভিন্ন বয়ানে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আক্বিদা-বিশ্বাসের পরিপন্থী বহু বিষয় এনেছেন। যেগুলোর মধ্যে দ্বীনের অপব্যাখ্যা, মনগড়া তাফসির, ভুল মাসআলা বর্ণনা, নবীগণের শানে বেআদবিপূর্ণ উক্তি, দ্বীনের অন্যান্য শাখাসমূহকে হেয়প্রতিপন্ন করা বা বাতিল সাব্যস্ত করার মতো গুরুতর বিষয়াদি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।   

পূর্ববর্তী তিন হজরতজি (হজরত মাওলানা ইলিয়াস রহ. হজরত মাওলানা ইউসুফ রহ. ও হজরত মাওলানা এনামুল হাসান রহ.) এর উসুল ও কর্মপন্থা থেকে সরে যাওয়ার কারণে বর্তমানে মাওলানা মুহাম্মদ সাদ সাহেবকে অনুসরণ করা সম্পূর্ণভাবে বর্জনীয় ও নিষিদ্ধ ঘোষণা দেন দেশের শীর্ষ আলেম সমাজ। এই ঘোষণা  সত্ত্বেও মাওলানা সাদ সাহেবকে ইজতেমায় উপস্থিত করা হবে বলে এক পক্ষ ঘোষণা দিলে বড় ধরনের বিশৃংখলা ও ফিতনার সৃষ্টি হয়।

মাওলানা সাআদ সাহেবের বাড়াবাড়ি ও ভুল মতবাদ বিশ্বব্যাপী তাবলীগকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার অনুসারী দু-একজনের হঠকারীতা  এখন তাবলীগ জামাত এখন হুমকি মুখে। নিজেদের একগুঁয়েমির ফলে আগামীতেও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা যাবে। শুধু তাই নয়, পরবর্তীতে বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের সাথে আলেম সমাজের সুসম্পর্কেরও মারাত্মক ফাটল ধরবে।বাংলাদেশের আলেম সমাজের সাথে তাবলীগ জামাতের  দূরত্ব সৃষ্টি ও মসজিদে মসজিদে, পাড়ায়-মহল্লায় বিরোধ ও আলেম বিদ্বেষ আরো ছড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাবলীগ জামাতের বর্তমান সংকটের সমাধান করতে হলে বাংলাদেশের তাবলিগের কাজ পূর্ববর্তী তিন হজরতের পদ্ধতিতে এবং উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত করতে হবে। নতুন কোনো পদ্ধতি চালু করা যাবে না। কাকরাইল, টঙ্গী ময়দান এবং জেলা মারকাযসহ সকল মারকায এই নীতিতেই পরিচালিত করতে হবে। একই সাথে নিজেদের একগুঁয়েমি থেকে সরে আসতে হবে।

যুগের সকল দ্বীনী কাজের মধ্যে কিছু না কিছু সাময়িক বিপর্যয় লক্ষ্য করা যায়। সেখানে তাবলীগ জামাআতে ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। আশা করছি তারা তাদের নিজেদের সমস্যাগুলি সমাধান করে সঠিক দ্বীনী ইসলাম প্রচার ও প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

লেখক : কলামিস্ট, মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন।  

C/O, মাওলানা মন্জিল, চন্দনাইশ পৌরসভা, ওয়ার্ড নং ০২, পূর্ব জোয়ারা (৪৩৮০) চন্দনাইশ, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ। 

পাঠকের মন্তব্য