৩০টি আসনেও জয়লাভ করার মতো সমর্থন নেই বিএনপির

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৪৯টি আসন পেতে পারে বলে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের (আরডিসি) জনমত জরিপে যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে সেটাও ঘটবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

আজ (বুধবার) নিজের ফেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক স্টাটাসে এই মন্তব্য করেছেন তিনি। তার ধারণা, আসন্ন নির্বাচনে ৩০টি আসনেও জয়লাভ করার মতো সমর্থন নেই বিএনপির। এই নির্বাচনের ফল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের জন্য ২০০৮ সালের চেয়েও ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

রাজধানীর একটি হোটেলে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) নামে একটি সংস্থা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন জনমত জরিপ প্রকাশ করে। ওই জরিপে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৪৮টি আসনে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৪৯ আসনে এবং স্বতন্ত্রসহ অন্য প্রার্থীরা ৩টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। জরিপটি প্রকাশের পর সজীব ওয়াজেদ জয়ের দেওয়া পুরো স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

জয়ের ফেসবুক স্ট্যাটাস

"রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) এর নতুন জনমত জরিপের ফলাফল আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। সারাদেশের ৫০টি জেলায় ২,২৪৯ জন তালিকাভুক্ত ভোটারের ওপর ডিসেম্বর এর প্রথম দুই সপ্তাহে এই জরিপটি চালানো হয়। এই জরিপের Confidence Level ৯৫% এবং Margin of Error +/-৩%।

জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমর্থন ৬০.৪% আর বিএনপি’র সমর্থন ২২.২%। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩.৭%, সিদ্ধান্তহীন ১০.৩% এবং ২.৭% ভোটার উত্তর দিতে চাননি।

এই জরিপটি পরিচালনার জন্য আরডিসি একটি নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। ভোটাররা মক ব্যালটে ভোট দিয়ে একটি প্লাস্টিক বক্সে ফেলেন। ব্যালটে কারো নাম লেখা ছিল না, ফলে বোঝা যায়নি কে কোন দলের জন্য ভোট দিয়েছেন। এর ফলে দুটি জটিলতা দূর হয়, একটি হলো ভোটারদের মন থেকে তাদের মূল পছন্দ প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ভয় দূর হয়েছে এবং অন্যটি হচ্ছে এর ফলে সিদ্ধান্তহীন অনেকেই ভোটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেমনটি তারা আসল ভোটের দিন করবেন।

যেহেতু ভোটার উপস্থিতি কখনোই শতভাগ হওয়া সম্ভব না, ধরে নেওয়া যায় যে বেশিরভাগ সিদ্ধান্তহীন ভোটাররাই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহী নন এবং তাদের ভোট না দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

আরডিসি’র পূর্বাভাস হচ্ছে, আওয়ামী লীগ আসন্ন নির্বাচনে ২৪৮টি আসনে জয়লাভ করবে আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট জিতবে ৫৯টি আসনে।

আমি মনে করি বিএনপি'র জন্য এই পূর্বাভাস বাস্তবসম্মত না, কারণ তাদের ৩০টি আসনেও জয়লাভ করার মতন সমর্থন নেই। যাই হোক, আমাদের জন্য আসন্ন নির্বাচনের ফল ২০০৮ সালের নির্বাচনের চাইতেও ভালো হবে।"

এর আগে গত আগস্ট মাসে করা আরডিসির আরেকটি জরিপের বরাতে সজীব ওয়াজেদ জয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এক ফেইসবুক পোস্টে বলেছিলেন, নির্বাচনে তাদের দল আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ২২০ আসনে জয় পেতে পারে বলে তারা আভাস পেয়েছেন।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনে ২০১৪ বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন একক প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২৩২টি আসনে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি ৩৩টি, ওয়াকার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ পাঁচটি, জেপি একটি, তরিকত ফেডারেশন একটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৩টি আসনে জয় পান।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছিল। দুই বছর জরুরি অবস্থার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০, বিএনপি ২৯, জাতীয় পার্টি ২৭, জাসদ তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, এলডিপি একটি, বিজেপি একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয়ী হন।

পাঠকের মন্তব্য