বড় জয়ে, মন্ত্রিসভায় বড় চমক রাখছে আওয়ামী লীগ

শপথ না নিয়ে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট পুরোনো ভুলের পুনরাবৃত্তি করছে। আমি আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে, সরকারের পক্ষ থেকেও আমি আমন্ত্রণ করেছিলাম। তাদেরকে অনুরোধ করেছিলাম যে, জনগণের রায়কে অসম্মান করা উচিত হবে না।' শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।  

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিয়ে তারা যে ভুল করেছে, এবারও শপথ না নিয়ে একই ভুল করছে বিএনপি।’

এসময় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, '৩০ ডিসেম্বর জনগণ যে রায় দিয়েছে, যেটুকু রায় দিয়েছে এটা তাদের সম্মান করা উচিত। সেটা তারা সম্মান করতে ব্যর্থ। ব্যর্থতার গণ্ডিতে বারে বারে আটকে থাকতে হচ্ছে তাদের। ব্যর্থতা থেকে বেরোতে পারছে না তারা।'

তিনি বলেন, 'জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে উন্নয়নের পক্ষে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে, জাতীয় ঐক্যজোটের বিজয়ীরা যদি শপথ না নিয়ে আবারও ভুল করে, তাহলে তাঁরা চোরাবালিতে হারিয়ে যাবেন।' ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ভোট বাতিল দাবিতে স্মারকলিপি দেয়া প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, এসব হচ্ছে বিরোধীদল সুলভ আচরণ।

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বড় জয় যেমন এসেছে, মন্ত্রিসভায়ও বড় চমক থাকতে পারে।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে ২৫৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে আওয়ামী লীগ। ১ জানুয়ারি নির্বাচনের ফল গেজেট আকারে প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (৩ জানুয়ারি) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে দশম সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে শপথ নেন তারা। পরে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দল এবং নির্বাচিত তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীও শপথ নেন। তবে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত সাত সংসদ সদস্য এখনও শপথ নেননি।

এদিকে, শপথ শেষে দলের সংসদীয় সভায় শেখ হাসিনাকে চতুর্থবারের মতো সংসদ নেতা নির্ধারণ করেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা। পরে বিকেলে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে শেখ হাসিনা সাক্ষাৎ করলে রাষ্ট্রপতি তাকে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। ফলে একাদশ সংসদে চতুর্থবারের মতো দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা।

পাঠকের মন্তব্য