সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তার নেই, ঠান্ডা ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি 

কনকনে শীতে কাঁপছে সাতক্ষীরাসহ সারা দেশ। শীতল বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ঠান্ডা জনিত রোগ। শিশুদের শীতজনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
সাতক্ষীরার সদর হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত একমাসে শিশু ওয়ার্ডে ৩৬৪ জন রোগি ভর্তি হয়। এরমধ্যে গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ৮৪ জন শিশুরোগি। এদের প্রায় সবাই শীতজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। গত দু’দিনে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৪০জন শিশুরোগি। 

অথচ এ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ১২জন। অধিকাংশ শিশুর চিকিৎসা চলছে মেঝেতে ও বারান্দায়। ১২ জন শিশুর ধারণ ক্ষমতার ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪০জন শিশু। এতে করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারপরও গত এক বছর ধরে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেই কোন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজের সহযোগি অধ্যাপক ডাক্তার শামসুর রহমান দিনে দুইবার এসে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে শিশুরোগিদের দেখাশুনা করছেন বলে জানান রোগির স্বজনরা।

বৃহস্পতিবার সকালে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিল ৩১ জন শিশু। এদের মধ্যে শ্যামনগরের ভারখালি গ্রামের আমিনুর রহমানের ছেলে আব্দুর রহমান, সদরের চুপড়িয়া গ্রামের হরেন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে অপূর্ব বিশ্বাস, বাগডাঙ্গার আলাউদ্দিনের ছেলে আবির হোসেন, বাঁশঘাটার আক্তারুল ইসলামের ছেলে আরিয়ান, তালার তৈলকুপি এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে মোস্তাকিমসহ সকলেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। এদের কয়েকজন ভুগছে শ্বাসকষ্টে। তাদের দেয়া হচ্ছে অক্সিজেনসহ চিকিৎসা।

শিশুরোগিদের স্বজনরা জানান ডাক্তার স্বল্পতার কথা। তারা বলেন, একজন ডাক্তার মেডিক্যাল কলেজ থেকে এসে এখানে দিনে দুইবার দেখে যান। ওষুধপত্র দেন। ডাক্তার শামসুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ডাক্তার শূন্যতার কারণে এভাবে এক বছর যাবৎ তিনি শিশুরোগিদের দেখাশুনা করছেন। দিনে রাতে দুইবার তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরো বলেন, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডটির অবস্থা জরাজীর্ণ। জানালায় নেই গøাস। তাই অবস্থা বুঝে অনেক সময় শিশুরোগিদের বাড়িতে পাঠানো হয়।

সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে ওষুধের ঘাটতি না থাকলেও ডাক্তার সংকট রয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। আশা করা যায়, খুব শিঘ্রই ভাল খবর পাওয়া যাবে।

পাঠকের মন্তব্য