নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে দূতাবাসগুলিতে বিএনপির নালিশ

নির্বাচনে বিশ্বের অব্যাহত সমর্থনের পরও বিএনপির নালিশ করার প্রবণতা ভোটকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে ভূ-প্রকৃতিগত কারণে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সরকারকে সর্তক থাকার পরামর্শও তাদের।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট। সংসদ সদস্য হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ না নিয়ে ধর্না দিচ্ছেন বিভিন্ন দূতাবাসে। শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেখা করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলারের সঙ্গে। বহি:বিশ্বের শক্তিধর দেশের কাছে নালিশ জানানোকে রাজনৈতিক এ দলটির হীনমন্যতা হিসেবে দেখছেন কূটনীতিকরা।

বিআইআইএসএস’র চেয়ারম্যান মুন্সী ফয়েজ আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক যারা থাকেন তাদের কাজ হলো সেদেশের খবর যতটা বেশি তাদের দেশে পাঠাতে পারেন সেই চেষ্টা করা, তা তারা দ্রুত করেন। তাদের কাছে গিয়ে যেচে কেউ খবর দিলে তা তারা তো শুনবেন। 

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে যে সফল হয়েছে এটা সবাই স্বীকার করেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শিকার করে। 

বাংলাদেশের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের সংশ্লিষ্টতা উঠে এসেছে বারবার। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, জোটটির সঙ্গে বিশ্বের সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নেতৃত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সফিউল্লাহ বলেন, দূতাবাসের কোনো ভূমিকা নেই যে বাংলাদেশে যে রায় হয়েছে তা পরিবর্তন করবে। কোনো ক্ষমতা নাই, এটাকে একটা হীনমন্যতার পরিচয় বলবো আমি। আইনি ব্যবস্থা রয়েছে, নির্বাচন কমিশন আছে, কোর্ট আছে। আইন যা বলে তাই হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধবাজ জাতি, সিরিয়াতে বিলিয়ন বিলিয়ন অস্ত্র বিক্রি করে এখন সিরিয়া থেকে সরে পড়েছে। এখন তারা নতুন ঘাঁটি তৈরি করতে চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান হারানোর পর এশীয় অঞ্চলের কাছাকাছি ঘাঁটি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।

আন্তর্জাতিক এ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

পাঠকের মন্তব্য