অঝোরে কাঁদলেন ওবায়দুল কাদের

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিভাবক সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে হারানোর বেদনায় অঝোরে কাঁদলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স যোগে হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে আশরাফের মরদেহ গ্রহণ করেন তিনি। 

দলীয় নেতাকর্মী ও সৈয়দ আশরাফের স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে রানওয়ের পাশে দাঁড়ান ওবায়দুল কাদের। এক পর্যায়ে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধকালীন রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের ছেলে আশরাফের সঙ্গে যে স্মৃতি জমেছিল, সেই স্মৃতির কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেললেন কাদের। তার পাশাপাশি আশরাফের স্বজনদের কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আওয়ামী লীগের অন্য নেতাকর্মীরাও। তাছাড়াও পাশে থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের সান্ত্বনাও দেন।

এদিকে রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর হেলিকপ্টারযোগে মরদেহ কিশোরগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে এবং দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহে দ্বিতীয় জানাজা এবং বেলা ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাহে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

মরহুমের তৃতীয় নামাজে জানাজা দুপুর ২টায় ময়মনসিংহের আঞ্জুমান ঈদগাঁ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বাদ আসর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।

২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী শীলা ইসলাম মারা যাওয়ার পর থেকেই তিনি প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এক কন্যার জনক আশরাফুল ইসলাম ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংসদ থেকে ছুটি নেন। এ অবস্থাতেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকে জয়ী হন সৈয়দ আশরাফ।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আমৃত্যু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। টানা ৫ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য আশরাফ একাধারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য