সড়ক দুর্ঘটনায়

৮ হাজার প্রাণহানি ঘটেছে ২০১৮ সালে

২০১৮ সালে সড়ক-রেল-নৌ ও আকাশপথে ৬ হাজার ৪৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭ হাজার ৭৯৬ জন। একই সঙ্গে এসব দুর্ঘটনায় আরো ১৫ হাজার ৯৮০ জন আহত হয়েছেন।

শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। দেশের জাতীয় আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদ  মাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এ প্রতিবেদন তৈরি করে তারা।

প্রতিবেদন বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ৫৫১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ২২২ জন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ১৫ হাজার ৪৬৬ জন। রেলপথে ৩৭০টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ২৪৮ জন আহত হয়। নৌপথে ১৫৯ দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত, ২৩৪ জন আহত এবং ৩৩৭ জন নিখোঁজ হয়েছে। আকাশ পথে পাঁচটি দুর্ঘটনায় ৫৫ জন নিহত এবং ৩২ জন আহত হয়।

দুর্ঘটনায় কবলিত সড়ক পরিবহণগুলোর মধ্যে সর্বমোট ৭ হাজার ৩৫০টির পরিচয় মিলেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। আর ৪২ দশমিক ৫৩ শতাংশ গাড়ি চাপা, ২৯ দশমিক ৭২ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৬ দশমিক ১৮ শতাংশ যানবাহন খাদে পড়ায় প্রাণহানি ঘটেছে।

এ প্রাণহানির জন্য বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, বিপদজনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাটের নির্মাণ ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতা, চালকের অদক্ষতা, চলন্ত অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোন ব্যবহার, রাস্তায় ফুটপাত না থাকা বা দখলে থাকাসহ বিভিন্ন কারণ চিহ্নিত করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, ২০১৮ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও প্রাণহানি আগের বছরের তুলনায় সামান্য কমেছে। ২০১৭ সালে সারাদেশে চার হাজার ৯৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহত হন সাত হাজার ৩৯৭ জন। বাস নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে অটোরিক্সা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে দুর্ঘটনার পরিমাণ ও ঝুঁকি বেড়েছে। কিন্তু এর বিপরীতে এ নীরব গণহত্যার বিষয়টি যাত্রী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, সরকার সবার কাছে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বেশকিছু সুপারিশমালাও তুলে ধরেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এরমধ্যে আছে, সড়কের জন্য বিদ্যমান বিভিন্ন আইন সম্পর্কে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষের মাছে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা; গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশ থেকে হাট-বাজার অপসারণ করা; ফুটপাত দখলমুক্ত করা; রোডসাইন স্থাপন করা, জেব্রাক্রসিং অঙ্কন করা; চালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও নৈতিক শিক্ষা দেয়া অন্যতম। সেইসঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা আইনে দুর্বলতা দূর করে যথাযথ প্রয়োগের দাবিও জানায় যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

পাঠকের মন্তব্য