মুস্তাফিজ নৈপূণ্যে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ জিতলো রাজশাহী

পেন্ডুলামের মতো ঝুলতে থাকা ম্যাচে ছড়ালো উত্তেজনা। নাটকীয়তার কমতি ছিল না। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছিল না কারা হাসছে শেষ হাসি।

রাজশাহী কিংসের দেয়া ১৯৯ রান তাড়া করে জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৩ রান প্রয়োজন ছিল চিটাগং ভাইকিংসের। এতো রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই বিপিএলে। কিন্তু অঘটন কিছু ঘটল না। পাল্টালো না পুরনো ইতিহাস। ৭ রানে ম্যাচ হারলো চিটাগং।

মুস্তাফিজের শেষ ওভার থেকে চিটাগং নিতে পারল মাত্র ৫ রান। শেষ ওভারে দুই উইকেট নিয়ে রাজশাহীকে পঞ্চম জয়ের স্বাদ দিলেন মুস্তাফিজ।

অথচ একটা সময়ে জয়ের পাল্লা ভারী ছিল চিটাগংয়ের দিকেই। ১৩ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তারা তুলেছিল ১২৯ রান। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান ছিল ৪২ বলে ৭০ রান। কিন্তু ১৪ ও ১৫তম ওভারে পরপর দুই সেট ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলী ও মুশফিককে হারিয়ে হাত থেকে ম্যাচ ফসকে যায় চিটাগংয়ের। ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৮ রান করা ইয়াসিরকে বোল্ড করেন সানী। পরের ওভারে মুশফিক আউট হন কামরুল ইসলাম রাব্বীর বলে।

এরপর সিকান্দার রাজা স্বাগতিকদের ম্যাচে রাখলেও শেষটা রাঙাতে পারেননি। শেষ ওভারের প্রথম বলে মুস্তাফিজের ইয়র্কারে বোল্ড হন ১৫ বলে ২৯ রান করা রাজা। এর আগে পাহাড় সমান রান তাড়া করতে নেমে শুরুর ঝড়টা তোলেন মোহাম্মদ শাহজাদ।

রাব্বীর প্রথম ওভার থেকেই শাহজাদ তিন ছক্কা ও এক চারে তোলেন ২২ রান। ব্যাট হাতে তার দোর্দন্ড প্রতাপে পুড়ে ছারখার রাজশাহীর শুরুর বোলিং। শাহজাদ ঝড় থামানোর দায়িত্ব নেন মিরাজ। অষ্টম ওভারে মিরাজকে তুলে মারতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন আফগান হার্ডহিটার। এর আগে ২২ বলে ৪৯ রান করেন ৩ চার ও ৫ ছক্কায়।

মুশফিক ও ইয়াসির রানের চাকা সচল রেখে দ্রুত রান তোলেন। কিন্তু তাদের থামিয়ে ম্যাচে ফিরে শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে রাজশাহী কিংস। দারুণ বোলিংয়ে রাজশাহীকে জয় এনে দেন মুস্তাফিজ। ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার।

এর আগে রাজশাহী ব্যাটিংয়ে নেমে এবারের আসরে সবথেকে ভালো শুরু পায়। ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তোলে ৫০ রান। দলে ফেরা সৌম্য সরকার ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো করেছিলেন। চতুর্থ ওভারে নাঈম হাসানকে স্বাগত জানান তিন বাউন্ডারি মেরে। পেসার খালেদ আহমেদকেও মেরেছিলেন দুই চার। তার ব্যাটে বল লাগছিল ঠিকমতোই। কিন্তু পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে নিজের উইকেট উপহার দিয়ে আসেন বাঁহাতি ওপেনার। ২০ বলে ২৬ রান করে খালেদকে উড়াতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন মুশফিকের হাতে।

প্রথমবারের মতো মাঠে নেমেছেন গত আসরের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লস। শুরুটা নড়বড় হলেও মধ্যভাগে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দলের স্কোরবোর্ড সমৃদ্ধ করেন ক্যারিবীয়ান ওপেনার। তাকে দ্বিতীয় উইকেটে দারুণ সঙ্গ দেন লরি ইভান্স। দুজন ৭০ রানের জুটি গড়েন। পনেরতম ওভারে খালেদের লেন্থ বল ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২৯ বলে ৩৬ রান করা ইভান্স।

ক্রিজে নেমেই ঝড় তুলেন রায়ান টেন ডয়েসকাট। ষোলোতম ওভারে নাঈমকে তিন ছক্কা মারেন নেদার‌ল্যান্ডসের এ ক্রিকেটার। ওই ওভারে ২০ রান দেন নাঈম। সতেরতম ওভারে হাফ সেঞ্চুরি পাওয়া চার্লসকে ফেরান আবু জায়েদ রাহী। ডানহাতি পেসারকে মিডউইকেটে খেলতে গিয়ে এলবিডব্লিউ হন ৪৩ বলে ৫৫ রান করা চার্লস। ডয়েসকাট (১২ বলে ২৭ রান) ১৯তম ওভারের শেষ বলে রান আউট হয়ে ফিরে গেলেও ক্রিস্টিয়ান জঙ্কারের শেষ ঝড় তখনও বাকি ছিল।

শেষ ওভারে প্রথম চার বলেই তিন ছক্কা হাঁকান ডানহাতি ব্যাটসম্যান। টানা দুবার উচ্চতার কারণে নো বল দেয়ায় ওভার শেষ করতে পারেননি রবিউল ইসলাম। পরের দুই বলে অবশ্য রাজশাহী বেশিদূর যেতে পারেনি। ক্যামেরুন ডেলপোর্তের করা শেষ বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দেন ফেরেন ১৭ বলে ৩৭ রান করা জঙ্কার।

দশ ম্যাচে এটি রাজশাহীর পঞ্চম জয়। দারুণ জয়ে সুপার ফোরের লড়াইয়ে টিকে রইল রাজশাহী। আর ঘরের মাঠে টানা দ্বিতীয় পরাজয়ের স্বাদ পেল চিটাগং। নবম ম্যাচে এটি তাদের তৃতীয় পরাজয়। তবে ছয় জয় নিয়ে এখনও তারা রয়েছে শীর্ষে।

পাঠকের মন্তব্য