প্রতারকরা পাকিস্তান থেকে কলকাতায়

লটারির পুরস্কারের টোপে ফাঁকা অ্যাকাউন্ট !

লটারির পুরস্কারের নাম করে চল্লিশ জনের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে গিয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা৷ ঘটনার তদন্তে নেমে সিআইডির হাতে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, পাকিস্তান থেকে এই চক্র চালাচ্ছে এক দল প্রতারক৷ হাওলার মাধ্যমে কলকাতা থেকে হাত বদলে সেই টাকা পৌঁছে যাচ্ছে তাদের কাছে৷ এই ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছেন সিআইডি৷ ধৃতরা হল রাজেশ ঘোষ ও বিধান কীর্তনিয়া৷

গোয়েন্দা সূত্রের খবর, পাকিস্তানে বসে দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা-সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে প্রতারণা চালাত ওই চক্রটি৷ এক্ষেত্রে তাঁরা কাজে লাগাত কলকাতার বেশ কয়েকটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাকে৷ ওই সংস্থাগুলির সাহায্যে, প্রথমে কারও ফোনে লটারি জেতার মেসেজ পাঠানো হত৷ যাতে লেখা থাকত, বিপুল অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার জেতার কথা৷ এরপর ওই ব্যক্তি পুরস্কার গ্রহণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলে, তাঁকে বলা হত, প্রসেসিং ফি বাবদ কিছু অর্থ জমা করতে হবে৷ মেসেজ বা হোয়াটস অ্যাপের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠাতে বলত প্রতারকরা৷ মেসেজে অ্যাকাউন্ট নম্বর জানতে পারা মানেই সর্বনাশ! ধাপে ধাপে ওই ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে গায়েব হয়ে যেত বিপুল পরিমাণ টাকা৷ জানা গিয়েছে, এইভাবে প্রায় চল্লিশ জন টাকা খুইয়েছেন৷

গত ১৩ জানুয়ারি এই প্রতারণার অভিযোগ জমা পড়ে পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা থানায়৷ ভারতীয় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় এবং তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ ডি ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ৷ এরপর ঘটনার তদন্তে নামে সিআইডি৷ সেই তদন্তে নেমেই, গোয়েন্দাদের হাতে আসে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর তথ্য৷ তদন্তকারীরা জানতে পারেন, চিনার পার্কের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার মাধ্যমে চালানো হয়েছে এই প্রতারণা৷ সেই সংস্থারই ডিরেক্টর ও ম্যানেজার পদে কাজ করত ধৃত রাজেশ ঘোষ ও বিধান কীর্তনিয়া নামে দু’জন৷ ইতিমধ্যেই ধৃতদের জেরা করতে শুরু করেছে গোয়েন্দারা৷ এই চক্রের পিছনে আর কারা যুক্ত রয়েছে? কীভাবে সেই টাকা কলকাতা থেকে হওলা চক্রের মাধ্যমে পাকিস্তানে পৌঁছে যেত? এই সমস্ত প্রশ্নের হদিশ পেতে চাইছেন তদন্তকারীরা৷

পাঠকের মন্তব্য