কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর আজ

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর আজ। তবে ১৪ বছরেও হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি। মামলার পর তদন্ত করতেই পার হয়ে গেছে ৯ বছর। এই সময়ে আদালতে পাঁচ দফা অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেওয়া হয়। তবে এতে প্রথম চারবারই নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও নিহতের পরিবার।

এরপর আদালতে বিচার শুরু হলেও আসামিদের অনুপস্থিতিতে বারবার বিচারে বিঘ্ন ঘটেছে। তবে অবশেষে এ মামলার বিচারে গতি আনতে নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। চলতি বছরের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বিচার শেষ করতে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা রয়েছে।

এ অবস্থায় মামলার নির্ধারিত দিনে গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের উপস্থিতি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি হত্যা মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের কথা রয়েছে। এ জন্য প্রায় সব আসামিকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল ও সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

২০০৫ সালের ১৮ মার্চ শহীদ জিয়া স্মৃতি ও গবেষণা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা অভিযোগপত্র দেওয়া হলে কিবরিয়ার পরিবার ও বাদীর পক্ষ থেকে নারাজি আবেদন করা হয়। প্রথম অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে মামলার বাদী মজিদ খান আদালতে নারাজি আবেদন করলে ২০০৭ সালে পুনঃতদন্তের জন্য ফের সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১১ সালের ২০ জুন আসামির সংখ্যা ১৬ জন বাড়িয়ে মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এদের মধ্যে দু’জন ভারতে মারা যায়।

এবার কিবরিয়ার স্ত্রী আসমা কিবরিয়া নারাজি দিলে তৃতীয় দফায় পুনঃতদন্তের পর নতুন করে আরও ৯ জনসহ মোট ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর হত্যা মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার পঞ্চম তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন্নেসা পারুল।

এই অভিযোগপত্রে নতুন করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের মেয়র ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ, মাওলানা তাজউদ্দিনের ভগ্নিপতি জঙ্গি হাফেজ মো. ইয়াহিয়া, আবু বকর, দেলোয়ার হোসেন, শেখ ফরিদ, আবদুল জলিল ও মাওলানা শেখ আবদুস সালামকে আসামি করা হয়। পাশাপাশি প্রথম দফায় অভিযোগপত্রের ১০ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করা হয়। একই তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তী সময় বিস্ম্ফোরক মামলায় হত্যা মামলার আসামিদের অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেন। ২০১৫ সালের ৩ জুন মামলাটি হবিগঞ্জ থেকে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এই মামলার আসামিদের মধ্যে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বাবরসহ জঙ্গিদের প্রায় সবার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেকগুলো মামলা রয়েছে।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে কিবরিয়া হত্যা ও বিস্ম্ফোরক মামলার বিচার শেষের জন্য সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হলেও দফায় দফায় তা বিঘ্নিত হয়েছে। এই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন আসামিদের অন্য মামলার হাজির থাকায় অনেক দিন সিলেটে তাদের হাজির করা সম্ভব হয়নি। তবে এবার কিবরিয়া হত্যা মামলাকে গুরুত্ব দিয়ে মূল আসামিদের আগেভাগে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে।

 ওই গ্রেনেড হামলায় আহত হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির এমপি এবং মামলার বাদী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ খানও দ্রুত বিচার শেষের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এদিকে আজ দিনটি পালনে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠন এবং কিবরিয়া স্মৃতি পরিষদ।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সালে ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে আওয়ামী লীগের জনসভায় গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। গ্রেনেড হামলায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান কিবরিয়ার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ৭০ জন। পরদিন হবিগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান এমপি আবদুল মজিদ খান বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ম্ফোরক আইনে দুটি মামলা করেন। একপর্যায়ে মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য