প্রণব'কে ‘ভারত রত্ন’ পুরস্কারের সিদ্ধান্ত : ভারতেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সাবেক প্রেসিডেট প্রণব মুখোপাধ্যায়কে ‘ভারত রত্ন’ পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) সরকারিভাবে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারত রত্ন’ পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রণব বাবুকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। 

কংগ্রেসের সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘আমাদেরই একজনের অপরিসীম অবদান যে স্বীকৃতি পেল, তা কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গর্বের।’

প্রসঙ্গত, প্রণব বাবু আজীবন কংগ্রেসি ঘরানার উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব। যদিও গতবছর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) আমন্ত্রণে তাদের সদরদফতর নাগপুরে গিয়ে ভাষণ দেয়ায় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেখানে তিনি ভিজিটরস বুকে আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারকে ‘ভারতমাতার মহান সন্তান’ বলে অভিহিত করেন।

কার্যত সেই বিতর্ককে উসকে দিয়ে আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সঞ্জয় সিং বলেছেন, ‘বিজেপি’র ‘ভারত রত্ন’ প্রকল্প। একবার সঙ্ঘের শাখায় যাও আর ভারতের রত্ন হয়ে যাও। রসিকতায় পরিণত করা হয়েছে ভারত রত্নকে।’

সঞ্জয় সিং বলেন, ‘সুভাষচন্দ্র বসু, ভগত সিং, ড. রাম মনোহর লোহিয়া, ধ্যানচাঁদকে আজ পর্যন্ত ‘ভারত রত্ন’ দেয়া হয়নি। যদিও নানাজি দেশমুখ, ভুপেন হাজারিকা ও ‘আপ’-এর ২০ বিধায়কের সদস্য পদ বাতিল করার বিষয়টি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আরএসএসের প্রশংসক প্রণবদাকে ‘ভারত রত্ন’ দেয়া হয়েছে।’ 

এদিকে, কর্ণাটকের জনতা দল সেক্যুলারের (জেডিএস) মহাসচিব দানিশ আলী বলেছেন, ‘এটা খুব দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বিজু পট্টনায়ক, কাশীরামজির আগেই প্রণব মুখার্জিকে ‘ভারত রত্ন’ নির্বাচিত করা হয়েছে, কারণ তিনি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সদর দফতরে গিয়েছিলেন।’

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূলের মহাসচিব ও রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রণব বাবু ‘ভারত রত্ন’ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও এর পেছনে কেন্দ্রীয় সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে মনে করছেন।

এ প্রসঙ্গে পার্থ বাবু গণমাধ্যমকে বলেন, ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বৈকি। বাংলা ও  অসম থেকে ভারতরত্ন দেয়ার কারণ কী? রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখলে লোকে বলতে পারে। তা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’

এ বছর প্রণব বাবুর পাশাপাশি মরণোত্তর ভারত রত্ন পাচ্ছেন অসমের প্রখ্যাত  সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকা ও সমাজকর্মী নানাজি দেশমুখ।

প্রসঙ্গত, প্রয়াত শিল্পী ভূপেন হাজারিকা একসময় বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে তিনি অসমের গুয়াহাটি কেন্দ্রে বিজেপি’র প্রার্থীও হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, নানাজি দেশমুখ ছিলেন আরএসএসের স্বয়ংসেবক। আরএসএসের প্রতিষ্ঠাতা হেডগেওয়ারের হাত ধরেই তিনি স্বয়ংসেবক হন। ১৯৪০ সালে হেডগেওয়ারের মৃত্যুর পরে সমাজসেবী নানাজি দেশমুখই আরএসএসকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ  করেন।

পাঠকের মন্তব্য