ফালু ও তাঁর স্ত্রীর সব সম্পদ জব্দ করেছে দুদক

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তাঁর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের উপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য আজ রোববার জানান, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদেশে ফালু দম্পতির সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তিনি জানান, আদালতের এই আদেশের ফলে তাঁরা ওই সব সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারবেন না। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালাতে কোনো বাধা থাকবে না।

এ বিষয়ে জানতে মোসাদ্দেক আলী ফালুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তাঁর পক্ষে এনটিভির কোম্পানি সচিব অমিতাভ ভৌমিক বলেন, ‘মোসাদ্দেক আলী ফালু ও তাঁর স্ত্রীর যাবতীয় সম্পদের হিসাব আয়কর নথিতে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা আছে। আয়কর বিভাগ এটা মেনে নিলেও দুদক সেটা মানছে না এবং মামলা করেছে। এখন এটা আইনিভাবেই মোকাবিলা করা হবে।’

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৭ সালে এই দম্পতির বিরুদ্ধে করা পৃথক দুই মামলার ‘তদন্তের স্বার্থে’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক সৈয়দ আহমেদ সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করার আদেশ চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ওই আবেদন করা হয়। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ওই দিনই আদেশ দেন। আদালতের আদেশের অনুলিপি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

মোসাদ্দেক আলী ফালুর জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে—রাজধানীর উত্তরখানে দু’টি স্থানে মোট ৬৭ শতাংশ জমি, বড় মগবাজারের পাঁচ স্থানে ৪৫ শতাংশ জমি, বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দুটি দোকান, কাকরাইলের দুই জায়গায় ১৮ শতাংশ জমি, বাউনিয়ায় সাড়ে ৮২ শতাংশ নিচু জমি, তেজগাঁও শিল্প এলাকায় সাড়ে ছয় শতাংশ জমি, কাকরাইল ও দক্ষিণ শাহজাহানপুরে একটি করে ফ্ল্যাট।

এ ছাড়াও ফালুর ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা অ্যাগ্রো লিমিটেড, রোজা প্রোপার্টিজ লিমিটেড ও স্টার পোরসিলিন প্রাইভেট লিমিটেডের শেয়ারও জব্দ করা হয়েছে। ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার জব্দ করা সম্পদের মধ্যে রয়েছে— গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতাভুক্ত এলাকায় ছয়তলা বাড়ি এবং ইন্টারন্যাশনাল টেলিভিশন চ্যানেল লিমিটেড (এনটিভি), রোজা অ্যাগ্রো লিমিটেড ও এমএএইচ সিকিউরিটিজ লিমিটেডের সব শেয়ার।

দুদকের মামলায় জব্দ হওয়া সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য সম্প্রতি ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা ইউনিট’ নামে আলাদা একটি বিভাগ খুলেছে সংস্থাটি। গত বৃহস্পতিবার ওই বিভাগ নিয়ে এক সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, এখন থেকে প্রতিটি অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সম্পদ জব্দ বা ক্রোক করা হবে। আগে তদন্ত পর্যায় কিংবা মামলার রায়ে সম্পদ জব্দ হলেও এখন থেকে অনুসন্ধান পর্যায়েই সম্পদ জব্দ করবে দুদক।

দুদক সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি প্রায় ২২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার মামলায় ফালু ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় দুদক।

ফালুর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৫ মে রমনা থানায় এই মামলা করে দুদক। মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ ৬৮ হাজার ৩৯৮ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। একই বছরের ১০ আগস্ট ফালুর স্ত্রী মাহবুবা সুলতানার বিরুদ্ধে তিন কোটি ৯৩ লাখ ৮৮ হাজার ৪৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

পাঠকের মন্তব্য