পাইকারি দাম কমলেও খুচরা বাজারে কমেনি

ভরা মৌসুমে প্রধান খাদ্য শষ্য চালের মূল্য পাইকারি বাজারগুলোতে গত সপ্তাহে কেজিপ্রতি তিন-পাঁচ টাকা বেড়ে যাওয়ার পর এখন তা কমতে শুরু করেছে। নির্বাচনের পরপরই হঠাৎ করে বাজারে চালের মূল্য বৃদ্ধি ঘটে। গত ১০ জানুয়ারি নতুন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি মিলমালিক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এ নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা দাম কমানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। এরপর মূলত চালের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ হয়েছে।  

এ সপ্তাহে পাইকারী বাজারে কোন কোন ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি একটাকা কমলেও খুচরা বাজারের ক্রেতারা তার সুফল পাচ্ছে না।  

রাজধানীর খুচরা বাজারে চালের দাম আগের মতোই আছে। যা বেড়েছিল, তা আর কমেনি। খুচরা বাজারে এখন প্রতি বস্তা ভালো মানের সরু মিনিকেট চাল ২৭০০ থেকে ২৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে কেজিপ্রতি দর পড়ে ৫৪-৫৫ টাকা। আর কেজি দরে কিনলে বিক্রেতারা ৫৬-৫৮ টাকায় বিক্রি করছেন। অন্যদিকে মাঝারি মানের বিভিন্ন চাল ৪৪-৪৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ভালো মানের মোটা চাল খুচরা বাজারে ৪০ টাকা।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, বাজারে যারা বড় সরবরাহকারী, তারা দাম বাড়িয়ে দিলে অন্যরা সেটা অনুসরণ করে। কারণ ছাড়াই কারা দাম বাড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে চালের উৎপাদন বেড়েছে ৭ শতাংশ বা ২৪ লাখ ৭৪ হাজার টন। ফলে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬২ লাখ ৭৯ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪২ লাখ টনের বেশি চাল আমদানি হয়েছে। আগের বছর হয়েছিল মাত্র ১ লাখ ৮৮ হাজার টন।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে চালের দাম বেড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের (বিটিসি) দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেল একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে।

তাতে সংস্থাটি বলেছে, চালের উৎপাদন বেড়েছে। বিশ্ববাজারের দরও আগের চেয়ে কম। ফলে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বাড়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। তবে প্রতিবেদনে সরবরাহ ও দাম স্থিতিশীল রাখতে বাজারে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য