‘বাসায় ঢুকে’ যুবলীগ নেতাকে গুলি

যশোর শহর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহবুব রহমান ম্যানসেল (৩০) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহতের পরিবারের দাবি, পুলিশ গভীর রাতে বাসায় ঢুকে অসুস্থ ম্যানসেলকে ঘর থেকে তুলে ছাদে নিয়ে গিয়ে বাম পায়ে গুলি করেছে। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাটি বলছে, রবিবার (২৭ জানুয়ারি) গভীর রাতে শহরের ষষ্টীতলাপাড়া এলাকায় দুই পক্ষের গোলাগুলির পর ম্যানসেলকে তারা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

আহতের বাবা মোহাম্মদ আলমাস বলেন, ‘স্ট্রোকের কারণে অসুস্থ ম্যানসেল রবিবার রাতে বাসার নিচতলায় ঘুমিয়ে ছিল। রাত আড়াইটার দিকে সাদা পোশাকের একদল পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে তারা ম্যানসেলকে তুলে বাড়ির ছাদে নিয়ে যায়। এরপর আমরা গুলির শব্দ শুনি। তবে আমরা কেউ ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। কারণ,বাড়ির দরজা পেছন থেকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে দেখি ম্যানসেলের বামপায়ে গুলির জখম।’

আহতের মামা এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) হাসান ইমাম লাল বলেন, ‘গভীর রাতে ষষ্টীতলাপাড়ার কয়েকটি বাড়ির সামনে প্রচুর পুলিশ অবস্থান নেয়। কিছু সময় পর গুলির শব্দ শুনতে পাই। সেসময় আমরা ঘর থেকে বের হতে পারিনি; আমাদের ঘর বাইরে থেকে আটকে রাখা হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগ নেতা হাসান ইমাম লালের বাড়িতে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যদের ছোড়া ইটপাটকেলে তার বাড়ির জানালার কাচ ভেঙে যায়। তার মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারও ভাঙচুর করা হয়।

এ বিষয়ে যশোর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুদ্দিন মিঠু বলেন, ‘ম্যানসেল কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেন। তার শরীরের ডানপাশ প্রায় অবশ। তিনি বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকতেন। গতরাতে পুলিশের সঙ্গে মুখবাঁধা অবস্থায় শহরের চিহ্নিত কতিপয় সন্ত্রাসীরা অংশ নেয় এবং তারা ষষ্টীতলাপাড়া এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।’

তবে পুলিশ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি অপূর্ব হাসান বলেন, ‘রাত দুইটার দিকে আমরা খবর পাই- ষষ্টীতলাপাড়া এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হচ্ছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই এবং ম্যানসেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেই।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে।’

এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জন আব্দুর রউফ জানান, আহতের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা না দেওয়া হলে তার পা রক্ষা করা যাবে না বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন তিনি। সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

পাঠকের মন্তব্য