সুমাইয়া বেকারিতে নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য তৈরি

গোলাম সারোয়ার তুহিন, গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী মেট্রোপলিটন থানার পাড়া-মহল্লার দোকান থেকে শুরু করে নামিদামি বেকারিতে বিক্রি হচ্ছে বিস্কুট, চানাচুর, কেক, পাউরুটি, মিষ্টি সন্দেশ, সিংগাড়া,সমুসাসহ নানা বাহারি মুখরোচক খাবার। কখনও কি কেউ ভেবে দেখেছেন এই খাবারগুলো কোথায় তৈরি হচ্ছে ? কী দিয়ে তৈরি হচ্ছে ? 

সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, কোনাবাড়ী থানার নছের মার্কেট এলাকায় সুমাইয়া বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে নানা ধরনের খাবার তৈরি হচ্ছে। স্যাঁতস্যাঁতে নোংরা পরিবেশে ভেজাল ও নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে অবাধে তৈরি করা হচ্ছে বেকারি সামগ্রী।

কারখানার ভেতরে যেখানে তৈরি খাবার রাখা আছে সেখানেই আটা, ময়দার গোডাউন। রয়েছে ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ, কেমিক্যাল ও একাধিক পাম ওয়েলের ড্রাম। আশপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নানা ধরনের তৈরি পণ্য। শ্রমিকেরা পায়ে এসব পণ্যের পাশ দিয়ে হাঁটাহাঁটি করছেন। আটা ময়দা প্রক্রিয়াজাত করানো কড়াইগুলোও রয়েছে অপরিস্কার ও নোংরা। ডালডা দিয়ে তৈরি করা ক্রিম রাখা পাত্রগুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে মাছি ভনভন করছে। উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ বাহারি মোড়কে বনরুটি, পাউরুটি, কেক, বিস্কুট, পুডিং,বিভিন্ন ধরনের বেকারি সামগ্রী বাজারজাত করা হচ্ছে। 

বিএসটিআই ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝে মধ্যেই এই কারখানায় অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানা করে। কিন্তু তাতে থেমে থাকে না উৎপাদন ও বিপণন। নেই তার যাবতীয় কাগজপত্র। এগুলো বিভিন্ন চায়ের দোকানে সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফজরের নামাজের পরই কোম্পানির ভ্যানে বিভিন্ন এলাকার পাড়া মহল্লায়, অলিগলির জেনারেল স্টোর ও চায়ের দোকানে ওই সব পণ্য পৌঁছে দেন ডেলিভারিম্যানরা। শহরের বিভিন্ন চায়ের স্টলে গিয়ে দেখা যায়, সুমাইয়া বেকারির মোড়কে একাধিক পলি প্যাকেটে ঝুলছে পাউরুটি, বাটারবন, কেক, পেটিস, সিঙ্গাড়া মিষ্টিসহ অন্যান্য খাদ্যপণ্য।

সুমাইয়া বেকারির উৎপাদিত বেকারি সামগ্রী পাউরুটিসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর মোড়কের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ কিছুই থাকে না, থাকলেও কত তারিখে উৎপাদন হয়েছে বা মেয়াদ কবে শেষ হবে তা বোঝা যায় না।

বিভিন্ন চা দোকানদারদের  কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা গরীব মানুষ, ফুটপাথে চা-পান বিক্রি করে সংসার চালাই। উৎপাদনের তারিখ দেখার সময় নাই। কাস্টমাররা তো আর এসব জিজ্ঞেস করে না। প্যাকেট থেকে কোনমতে তুলে চা বা কলা দিয়ে খেতে ওই সব বেকারি সামগ্রী কিনে নিচ্ছে। উল্লেখ্য যে, সুমাইয়া বেকারিটি কোনাবাড়ী থানার নছের মার্কেট এলাকায় অবস্থিত অথচ প্যাকেটের মোড়কে “সুমাইয়া ব্রেড এন্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরী ঢাকা বাংলাদেশ ঠিকানা ব্যবহার করছে। এব্যাপারে বেকাররি মালিক মোঃ জাকির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে বলেন ঢাকায় আমাদের অন্য একটা কারখানা ছিলো সেটার মোড়ক ব্যবহার করছি।

পাঠকের মন্তব্য