স্বামীকে হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিলেন স্ত্রী

ঠাণ্ডা মাথায় বঁটি দিয়ে স্বামীকে কেটে ফেলতে একটুও কষ্ট হয়নি৷ এসব করার আগে পেট ভরে খেয়ে এসেছিল৷ তারপর একে একে স্বামীর হাত-পা-মাথা সহ শরীরের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ কেটে নিয়ে বস্তায় পুরে পাচার করে স্ত্রী৷ সবকিছুর মূলে পারিবারিক কলহ৷ এসবই অকপটে স্বীকার করে নিতেই পুলিশ গিয়েছে চমকে৷ এমন করে মেরে ফেলার মধ্যে কতটা প্রতিহিংসা কাজ করেছে সেটাই ভাবিত তদন্তকারী অফিসারদের৷

ঢাকার পোশাক কারখানার কর্মী রফিকুলের খণ্ড বিখণ্ড বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার পরেই সন্দেহ দানা বাধতে শুরু করে৷ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর স্ত্রী জীবন নাহারের কিছু কথাবার্তায় পুলিশের ধন্ধ বাড়ে৷ তাকে বিশেষ জেরা করতেই উঠে এসেছে খুনের একটা পর একটা শ্বাসরোধকারী পর্ব৷ অপরাধ স্বীকার করে স্ত্রী জীবন জানিয়েছে, পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী রফিকুল মারধর করেছিল৷ তাই কেটে কেটে খুন করেছি৷

গত বৃহস্পতিবার সকালে কথা কাটাকাটি হয়৷ সেই সময় স্ত্রীকে থাপ্পড় মারে রফিকুল। সুযোগ বুঝে স্বামী ঘুমিয়ে থাকার সময় ইঁট দিয়ে মাথায় আঘাত করে জীবন নাহার৷ তারপর রফিকুলের গলায় গামছা দিয়ে চেপে ধরতেই তার মৃত্যু হয়৷

ঢাকা মহানগর পুলিশ জানাচ্ছে, একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন রফিকুল ও জীবন নাহার৷ এই দম্পতি পোশাক কারখানার কর্মী৷ রফিকুলের বেতন ছিল ৭ হাজার টাকা৷ আর স্ত্রীর বেতন ১৩ হাজার টাকা৷ মাঝে মধ্যেই স্ত্রীর কাছে বেশি টাকা চাইত রফিকুল৷ এর জেরে অশান্তি লেগেই থাকত৷ এই কারণে রফিকুলকে ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন স্ত্রী।

খুনের পরেও নির্বিকার হয়েই পুরো দিনটা কাজে কাটিয়েছে বলে জানায় জীবন নাহার৷ জেরায় স্বীকার করে নেন- নিহত স্বামীর দেহ আলমারির মধ্যে ঢুকিয়ে কারখানায় চলে গিয়েছিলাম৷ তদন্তে উঠে এসেছে, রাতে বাড়ি ফিরে বোন লুৎফুন্নাহারের কাছে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করেন জীবন নাহার৷ গভীর রাতে বাড়ি ফিরে রাত স্বামীর দেহ কেটে টুকরো করে বস্তায় ভরে বাড়ির কাছেই ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেয় ওই মহিলা৷

পুরো স্বীকারোক্তিতে চমকে গিয়েছে পুলিশ৷ কী করে এমন ঠাণ্ডা মাথায় স্বামীকে কেটে দিতে পারে এক স্ত্রী তাই নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ৷ দোষ স্বীকার করা স্ত্রী জীবন নাহারকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

পাঠকের মন্তব্য