১০-১৭ বছর বয়সীরাও পাবে জাতীয় পরিচয়পত্র 

১০ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রায় আড়াই কোটি কিশোর-কিশোরীর তথ্য সংগ্রহের চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। চলতি বছর দেশের এসব তরুণ নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হতে পারে। ভোটার না হলেও তাদের ছবি, আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ সংগ্রহ করে ইসির তথ্য সংরক্ষণকারী সার্ভারে আপলোড করা হবে। এদেরকে পেপার লেমিনেটেড এনআইডি দেয়া হবে। পর্যায়ক্রমে শূন্য থেকে সব বয়সীদের অস্থায়ী এনআইডি দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, কিশোর-কিশোরীদের এনআইডি দেয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা আছে। অন্যদিকে, এনআইডির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তথ্য সংগ্রহের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আইরিশ ও দশ আঙ্গুলর ছাপ দেয়ার মেশিন সব উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসেই রয়েছে। বেশিরভাগ ছেলেমেয়েই লেখাপড়া করে। তাই বাড়ি বাড়ি না গিয়ে তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিবন্ধন ফরম পাঠানো হবে। সেখানে শিক্ষকরা তা পূরণ করে দিবেন। আর যারা পড়াশুনা করে না, তাদের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ ঠিক করে উপজেলা/ থানা নির্বাচন, ইউনিয়ন পরিষদ অফিসে নিবন্ধন করানো হবে। ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধন কার্যক্রম শেষে তাদের হাতে যে পেপার লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়া হবে তার মেয়াদ থাকবে ১০ বছর।

ইসি সচিবালয়ের যুগ্ম সচিব ও জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. আবদুল বাতেন বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন (সংশোধন) আইন-২০১৩ অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনকে ভোটার ছাড়াও অন্য নাগরিকদের নিবন্ধনের মাধ্যমে পরিচয়পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এতদিন কারিগরি সীমাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন কারণে এদের নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়া যায়নি। 

এনআইডি পাওয়া কিশোর-কিশোরীরা ১৮ বছর পূর্ণ করলে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। তখন তারা স্মার্টকার্ড পাবে। এই পরিকল্পনার কারণ হিসাবে তিনি বলেন, অনেক সময় স্কুল-কলেজ পড়ুয়াদের নাম ও বয়স পরবর্তীতে এনআইডিতে দেয়া নাম ও বয়সের সঙ্গে মেলে না। এসব বিষয় মাথায় রেখে ইসি এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

এদিকে অতিরিক্ত চাপের কারণে সার্ভারে সমস্যা দেখা দেয়ায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম। এর আগে সার্ভার সমস্যার কারণে ১০ জানুয়ারি থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা ১২দিন বন্ধ ছিল এই কার্যক্রম। এরপর পুনরায় চালু হলেও তিনদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। তারা বলছেন, ভোটারের বাইরে অনাকাঙ্ক্ষিত চাপের কারণে সার্ভার ডাউন হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ১০ কোটি ৪২ লাখ ভোটার আছেন।

ভোটার দিবস উদযাপন: এদিকে জাতীয় ভোটার দিবস প্রথমবারের মতো জাঁকজমকভাবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এজন্য কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ১ মার্চ সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য