সুদ আদায়ে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক

শিল্প খাতে ঋণের বিপরীতে সুদ আদায়ে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক।

মঙ্গলবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বিপরীতে ৯ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন দাখিল করলেও বাস্তবে ব্যাংকটি ৯ শতাংশ সুদে শিল্প খাতে ঋণ দিচ্ছে না।

ব্যাংকটি ঋণের বিপরীতে ১২ থেকে সাড়ে ১২ শতাংশ সুদ আদায় করছে। এ ছাড়া অন্য খাতে ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি ৯ থেকে সাড়ে ১৪ শতাংশ সুদ নিচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানালেও বাস্তবে সুদ নিচ্ছে সাড়ে ১২ থেকে ১৬ শতাংশ।

ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। ঋণের সুদের হার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য গত বছর ব্যাংকগুলো সরকারের কাছ থেকে বিশেষ কিছু সুবিধাও আদায় করে নিয়েছিল।

গত বছর জুনে এক বৈঠকে ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার ঘোষণা দেয় বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। একই ঘোষণা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও দিয়েছিল।

ঘোষণা অনুযায়ী ঋণের সুদ কার্যকর না হওয়ায় গত বছরের ২ আগস্ট এক বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, সব ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডির উপস্থিতিতে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।

এ প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট সবাই আশা করেছিল, ব্যাংকগুলো উল্লিখিত বিষয়টি যথাযথভাবে কার্যকর করবে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী কয়েকটি ব্যাংক সুদের হার কমালেও ইসলামী ব্যাংকসহ বেসরকারি খাতের অনেক ব্যাংক তাদের কথা রাখেনি।

শিল্প খাতে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে না আনলে দেশে কাক্সিক্ষত মাত্রায় শিল্পায়ন হবে না। শিল্পায়ন না হলে কাক্সিক্ষত মাত্রায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে না। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় এনে ব্যবসায়ীরাও শিল্প ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংক ঋণের সুদের হারের মাসিক প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে পাঠানোর পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। এ ক্ষেত্রেও ইসলামী ব্যাংক কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকে।

ফলে এ ব্যাংকটির ঋণের সুদের হার ওয়েবসাইটে একনজরে দেখার সুযোগ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংক এসব অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে, এটাই কাম্য।

পাঠকের মন্তব্য