পারিবারিক কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন কবি 

কবি আল মাহমুদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ (রোববার) বাদ জোহর ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জানাজার পরই মৌড়াইলে পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত হন তিনি।

জানাজা পরিচালনা করেন মাওলানা আশেক উল্লাহ ভূইয়া। জানাজা ও দাফন কাজে স্বজন-নিকটাত্মীয়দের পাশাপাশি অংশ নেন এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। কবিকে চিরশায়িত করতে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন তার অনেক ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এর আগে কবির পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছ থেকে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।

জানাজার পর কবি আল মাহমুদের মরদেহের কফিনে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন ব্যক্তিরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। পরে মৌড়াইলে পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে কবিকে দাফন করা হয়।

এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দক্ষিণ মৌড়াইল মোল্লা বাড়িতে এসে পৌঁছায় কবির মরদেহ।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইবনে সিনা হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কবি আল মাহমুদ। গতকাল (শনিবার) দুপুর পৌনে ১২টায় কবির মরদেহ বাংলা একাডেমিতে নেয়া হয়। সেখানে একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীসহ সর্বস্তরের মানুষ তার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানান। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে। সেখানে কবির প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হয়, শ্রদ্ধা জানান ভক্ত-শুভানুধ্যায়ীরা। সেখান থেকে কবির মরদেহ নেওয়া হয় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে। জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা শেষে কবিকে দাফনের জন্য তার মরদেহ নিয়ে আসা হয় গ্রামের বাড়িতে।

আল মাহমুদ ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে আল মাহমুদ ছিলেন বড়। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ছিলেন ‘পিয়ারু মিয়া’ নামে। তাঁর প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর।

বাংলা সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য আল মাহমুদ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদক, জয় বাংলা পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, জীবনানন্দ স্মৃতি পুরস্কার, কাজী মোতাহার হোসেন সাহিত্য পুরস্কার, ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, ভানুসিংহ সম্মাননা পদক ও লালন পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য