এক জীবনের পাওয়া

এক জীবনের পাওয়া

রাত্রি এখন গভীর
সব আলো আর রঙ নিভে গিয়ে
স্তব্ধতার গহ্বরে কোলাহল যখন স্থির
তখন বিনীদ্র তুমি কেন বসে আছো একাকী
মৌণতার প্রহর গুনে ?
মধ্যরাতের চরাচরে শুনি
এ কার দীর্ঘশ্বাসের ধ্বনি
আমি তো নিজেও নিঃসঙ্গতার শূন্য সেতুর ওপর
দিয়ে হেঁটে সেই কন্ঠধ্বনি খুঁজি ফিরি
রাত্রি জাগরনের এক অতন্দ্র প্রহরী আমি
কৃষ্ণপক্ষের সাথে সন্ধি করে আজন্ম একাকী
চন্দ্রাহত হরিণের মত রয়ে গেলাম দূর অরণ্যের গহীনে ।
মেঘের ওপারে মেঘ, তারপর নিঃসীম শূন্যতা
ধোঁয়াটে মেঘের আগে পরে- দেখি অন্তহীন
যদিও চাঁদ–সূর্য ওঠে, ওঠে না চন্দ্রিমার ঢেঊ ।
তুমি তো হারিয়ে গেছো মেঘের অন্তরালে এমনভাবে
যেন এ জীবনে ছিল না কেউ !
তবুও দেখি দূর বহুদূরে ধূসর মাটির ধূলো ওড়া 
মরু প্রান্তরে তোমার ফেলে যাওয়া লাবণ্যের আভা
আর অস্তিত্বের বর্ণালী ছায়া
সত্য হোক আর না হোক
এই স্বপ্নের ভ্রম নিয়ে বেঁচে থাকি, হয়তো একদিন
পৌঁছে যা্বো মায়াবতীর নিঝুম আশ্রমে
দেখবো তখন কী সুধা, নাকি বিষ আছে তার ঠোঁটে !
নাকি পায়ের শব্দে উড়ে যাবে সাদা বকের মত বিশ্বাসী ছায়া।
না হয় তাই বা হলো এক জীবনের অন্ধকার পাওয়া !

দেলওয়ার হোসেন : স্টকহোল্ম, ২০১৯,০২,১৭

পাঠকের মন্তব্য