একঘরে নন প্রমাণেই সৌদি যুবরাজের এশিয়া সফর

সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সৃষ্ট কূটনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর শুরু করেছেন। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় ৪৪ ভারত সেনার নিহতের ঘটনায় পাক-ভারত সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েনের মধ্যেই তিনি ইসলামাবাদে পা রাখলেন।

তার এ সফর নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বেশ আলোচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অব্যাহত চাপের মুখে সৌদি যুবরাজ একঘরে হয়ে পড়েননি, এমনটি প্রমাণ করতেই তার এ সফর।

পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে সৌদির প্রভাব ফুরিয়ে যায়নি এমনটিও জানান দিতে চান যুবরাজ সালমান। সৌদি যুবরাজের এশিয়া সফরের বিষয়ে দক্ষিণ সিঙ্গাপুরভিত্তিক এস রাজারত্নাম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক জেইমস এম ডরসি বলেন, এ সফরের মধ্য দিয়ে সৌদি যুবরাজ বোঝাতে চাচ্ছেন যে, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে অস্পৃশ্য কেউ নন।

এ গবেষক আরও বলেন, সৌদি যুবরাজের এখন এটিই প্রমাণ করার বিষয় যে, সৌদির এখনও আন্তর্জাতিক প্রভাব রয়েছে। আগের মতোই এখনও যে বিশ্ব অর্থনীতিতে সৌদির প্রভাব আছে, সেটিই প্রমাণ করতে চাচ্ছেন দেশটির যুবরাজ।

খাশোগি হত্যার ঘটনায় কয়েকটি পশ্চিমা দেশ যুবরাজকে দায়ী করলেও তিনি তা অস্বীকার করছেন। চীনের আন্তর্জাতিক শিক্ষা ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক পরিচালক লি গোউফু বলেন, সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পশ্চিমা দেশগুলোর ক্ষোভের মুখে পড়েছেন যুবরাজ। কাজেই সেসব দেশ সফরে যাওয়া তার জন্য সুবিধাজনক হবে না।

তিনি বলেন, তিনি পশ্চিমা দেশে সফরে যেতে পারছেন না মানে এই নয় যে, প্রাচ্যেও আসতে পারবেন না। সৌদি আরব এখন তার পররাষ্ট্রনীতিতে কৌশলগত সমন্বয়ের দিকে যাচ্ছে। কাজেই দেশটির নতুন গতিপথ হচ্ছে এখন এশিয়া।

এশিয়ার দেশগুলোর একটি বিশেষ চরিত্র হচ্ছে, তারা অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। তবে যুবরাজের সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উপাদান হিসেবেও কাজ করছে।

ডরসি বলেন, সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেলের বড় ক্রেতা হচ্ছে চীন। ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াও দেশটির অন্যতম ক্রেতা।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক কারেন ইয়ং বলেন, উপসাগরীয় জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের একটি উৎস হচ্ছে এশীয় দেশগুলো। এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ হচ্ছে এশিয়ার দিকে।

সৌদি যুবরাজ গত বছরের ডিসেম্বরে আর্জেন্টিনায় জি-২০ সম্মেলনে অংশ নেয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ায় রোববার সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক সফরে বের হলেন।

ইস্তানবুলে সৌদি কনস্যুলেটে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের প্রদায়ক জামাল খাশোগি হত্যার পর প্রচণ্ড চাপের মধ্যে রয়েছেন পাশ্চাত্যে এমবিএস নামে পরিচিত মোহাম্মদ বিন সালমান। এর পাঁচ মাস পর ধোঁয়াশা থেকে একটু ফুরসত পেতে তিন দেশ সফরে বেরিয়েছেন তিনি।

পাকিস্তান সফরের পরেই ভারতে যাবেন এমবিএস। সেখানে তিনি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার চীন সফরের মধ্য দিয়ে নিজের দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর শেষ করবেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

পাঠকের মন্তব্য