সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

বগুড়ায় টেন্ডার ছাড়াই সরকারি জমি বিক্রি করে প্রায় ৪১ লাখ টাকা ক্ষতি করায় সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীসহ দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে দুদক। সোমবার সকালে বগুড়া সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বগুড়ার বিচারিক আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সরকারি এই জমি ইজারা নেওয়ার জন্য ২০১০ সালের ১১ মে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন জাহানারা রশিদ। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সময় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বাংলাদেশ জুট করপোরেশনের আওতায় সরকারি জমি ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ইজারার টাকা পরিশোধ করেননি। মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার কারণে জাহানারা জমি দখলে নিয়েছিলেন।

অভিযোগপত্রে আরো বলা হয়েছে, ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে তিনি (জাহানারা রশিদ) ওই জমি ক্রয়ের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি সম্পত্তি বিক্রয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই বিক্রি করেন। সরকারি মূল্যের ৬৪ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা মূল্যের জমি বিক্রি করা হয় মাত্র ২৩ লাখ ৯৪ হাজার ৭৭৪ টাকায়।

তৎকালীন মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী একক ক্ষমতাবলে এসব করেছেন উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, নিজে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে তিনি (লতিফ সিদ্দিকী) সরকারের ৪০ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকা ক্ষতি করেছেন। এতে দণ্ডবিধির ৪২০/১০৯ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। তদন্তে এর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আদমদীঘির দারিয়াপুর মৌজায় বাংলাদেশ জুট কর্পোরেশনের ২ দশমিক ৩৮ একর জমি একসময় সরকারি ‘পাট ক্রয়কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যবহার হতো। ২০১২ সালের ৩০ ডিসেম্বর কোনো টেন্ডার ছাড়াই তৎকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী তার পূর্ব পরিচিত বগুড়া শহরের কাটনার পাড়া এলাকার জাহানারা রশিদের কাছে ২৩ লাখ টাকায় পরিত্যক্ত ওই সরকারি জমি বিক্রি করেন। অথচ, বাজারমূল্যে ওই জমির দাম প্রায় ৬৫ লাখ টাকা। এই অভিযোগে আদমদীঘি থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তভার দেয়া হয় দুদকের কাছে।

দুদকের এই কর্মকর্তা আরো জানান, তদন্তে প্রমাণিত হয় যে, এই অবৈধ বিক্রিতে সরকারের ৪০ লাখ ৭০ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তদন্ত শেষে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী ও জাহানারা রশিদকে অভিযুক্ত করে সোমবার এই অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

পাঠকের মন্তব্য