শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত

আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এ যোগ দেয়া ব্রিটিশ তরুণী শামিমা বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটেন৷ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণী ১৫ বছর বয়সে জঙ্গি গোষ্ঠীটিতে যোগ দিতে দুই বান্ধবীসহ সিরিয়া যান৷

সিরিয়া এবং ইরাকের কিছু অংশ দখল করে নিয়ে ‘খেলাফত' প্রতিষ্ঠা করেছিল আইএস৷  জঙ্গি গোষ্ঠীটিরপ্রচারণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দুই বান্ধবীসহ ২০১৫ সালে সেখানে যান শামিমা বেগম৷ এক আইএস যোদ্ধার স্ত্রী হন তিনি৷ কিন্তু, আইএস-এর খেলাফতের পতন ঘটলে তার ঠিকানা হয় সিরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলের এক শরণার্থী শিবির৷

গত সপ্তাহে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন বেগম৷ একসময় আইএস-এর ‘পোস্টার গার্ল' হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠা এই তরুণী সম্প্রতি ব্রিটেনে প্রত্যাবর্তনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন৷ তবে, ব্রিটেন সেই তরুণীর নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে৷

শামিমা বেগমের আইনজীবী তাসনিম আকুঞ্জ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) তাঁর মক্কেলের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সবরকম আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চান তিনি৷

এদিকে, ব্রিটেনের আইটিভি নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বেগমের নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত এক চিঠি মঙ্গলবার তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়৷ এতে বেগমের নাগরিকত্ব বাতিলের পাশাপাশি তিনি যে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলও করতে পারেন - সেকথা উল্লেখ করা হয়েছে৷

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে এমন খবরও প্রকাশ হয়েছে যে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে শামিমা বেগম চাইলে বাংলাদেশে চলে যেতে পারেন, কেননা তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত৷ ব্রিটেনের নাগরিকত্বের পাশাপাশি তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব রয়েছে বলে স্কাই নিউজ এক সরকারি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে৷ তবে, বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কোনো বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকার কথা এবং অতীতে কখনো বাংলাদেশে না যাওয়ার কথা জানিয়েছেন বেগম৷

উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেটে যোগ দেয়া ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজ নিজ দেশে ফেরত নেয়া নিয়ে বেশ বিতর্ক চলছে৷ জার্মানির রক্ষণশীল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার জানিয়েছেন, আইএস-এ যোগ দেয়া জার্মান নাগরিকদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত প্রয়োগ করা হবে৷ বর্তমানে আইএস-এ যোগ দেয়া চল্লিশজনের মতো জার্মান নাগরিক সিরিয়ায় বন্দিশিবিরে রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷

পাঠকের মন্তব্য