মরদেহের সংখ্যা বাড়ছেই

মর্গে জমা ৮১টি মরদেহ

চকবাজারের কেমিক্যালের গোডাউনে লাগা আগুনের ঘটনায় মরদেহের সংখ্যা বাড়ছেই। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও ঢামেক হাসপাতালের মর্গে জমা হয়েছে ৮১টি মরদেহ। তবে এসব মরদেহের স্থান সংকুলান হচ্ছে না এখানে। সেগুলোকে আশপাশের হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা ভাবছে ঢামেক কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ সারাবাংলাকে বলেন, এখন পর্যন্ত কলেজ ও হাসপাতালের দুই মর্গে মোট ৮১টি মরদেহ রাখা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে আমাদের ৬৭টি ব্যাগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অনেক ব্যাগেই রয়েছে একাধিক মরদেহ। সব মিলিয়ে এসব ব্যাগ থেকে পাওয়া ৭০টি লাশ রাখা হয়েছে ঢামেক মর্গে। এর বাইরে হাসপাতালের জরুরি মর্গে রাখা হয়েছে ১১টি লাশ।

ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, যে ৮১টি লাশ আমরা পেয়েছি, এর মধ্যে ৩৫টি লাশ বর্তমান অবস্থাতেই শনাক্ত করা যাবে। বাকি লাশগুলো এতটাই পুড়ে গেছে যে সেগুলো সরাসরি শনাক্ত করার অবস্থায় নেই। সেগুলোকে ফিংগারপ্রিন্ট বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মাধ্যমে শনাক্ত করা যাবে।

এদিকে, লাশের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ঢামেকে সেগুলোর স্থান সংকুলান সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের মর্গে ১২টি, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের মর্গে ১০টি ও কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালেও ছয়টি লাশ পাঠানো যাবে। এর বাইরে অন্যান্য হাসপাতালগুলোতেও যতগুলো সম্ভব লাশ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সেগুলো শনাক্তের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগে চকবাজারের ওয়াহেদ ম্যানসনে। ওই ভবনে থাকা কেমিক্যালের গোডাউন থাকার কারণেই মূলত আশপাশের ভবনগুলোতে আগুন ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফায়ার সার্ভিস বলছে, আগুন তাদের ‘আওতাধীন’ রয়েছে, এখনই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাবে না।

পাঠকের মন্তব্য