চকবাজার-ট্র্যাজেডি : মুখ্যমন্ত্রী মমতার শোকপ্রকাশ

রাজধানী ঢাকার চকবাজারে রাসায়নিক গুদামে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড৷ এই ঘটনায় ক্রমশই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা৷ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত মোট ৭০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷ টুইটে নিহতদের পরিবারের প্রতি শোকজ্ঞাপন করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ 

ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের খবরে খুবই শোকাহত হলাম। নিহতদের পরিবারকে জানাই সমবেদনা। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি

ঢাকার চকবাজারের রাজ্জাক ভবনে আবাসন রয়েছে৷ এছাড়াও রয়েছে রাসায়নিকের গুদাম৷ বুধবার রাত ১০.১০ মিনিট নাগাদ আচমকাই ওই বহুতলের নিচতলায় রাসায়নিকের গুদাম থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখেন স্থানীয়রা৷ সেখানে মজুত করা দাহ্য পদার্থ এবং গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণের জেরে মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়৷ তড়িঘড়ি করে আবাসন থেকে একে একে নিচে নেমে আসেন আবাসিকরা৷ খবর দেওয়া হয় দমকলে৷ ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছতে বেশ কিছুটা সময় লেগে যায়৷ প্রাথমিক পর্যায়ে স্থানীয়রাই আগুন নেভানোর কাজে হাত লাগান৷ এরপর একে একে দমকলের ৩৭টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয়৷ রাতভর আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন দমকলকর্মীরা৷ 

প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে দমকলকর্মীরা পাঁচটি দেহ উদ্ধার করেন৷ সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও৷ বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে৷ এখনও নিখোঁজ অন্তত ৫০ জন৷ তাঁদের খোঁজে চলছে তল্লাশি৷ মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জখম হয়েছেন অনেকেই৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভরতি রয়েছেন তাঁরা৷

ওই গুদামের পাশেই রয়েছে ট্রান্সফর্মার৷ তাই ওই ট্রান্সফর্মার থেকে শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুন লেগেছে বলে মনে করছেন কেউ কেউ৷ যদিও কীভাবে ওই রাসায়নিক গুদামে আগুন লাগল, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে দমকলের তরফে এখনও কিছুই জানানো হয়নি৷ এর আগে ২০১০ সালের জুনে নিমতলীতে একটি রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে যায়৷ প্রাণ হারান ১২৪জন৷ ওই অগ্নিকাণ্ডের পর আবাসিক এলাকায় রাসায়নিক গুদাম তৈরির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল৷ তা সত্ত্বেও কীভাবে আবারও ঘিঞ্জি এলাকায় রাসায়নিকের গুদাম তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷

পাঠকের মন্তব্য