প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন

গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণেই অগ্নিকাণ্ডের কারণ 

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের আশপাশে কেমিকেলের কোনো কারখানা বা গোডাউন ছিল না, প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর ভাষ্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণকে এই অগ্নিকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজ (বৃহস্পতিবার) শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মফিজুল হকের স্বাক্ষরিত প্রাথমিক তদন্তে প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে ওই প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শিল্প মন্ত্রণালয়।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে চকবাজারের চুড়িহাট্টা জামে মসজিদের পাশে আসগর লেন, নবকুমার দত্ত রোড ও হায়দার বক্স লেনের সংযোগস্থলে অগ্নিকাণ্ড সংগঠিত হয়। গলির একপাশে ছিল ৬৪ নম্বর হোল্ডিংয়ের ওয়াহিদ ম্যানসন, অন্যপাশে বাচ্চু মিয়ার বাড়ি। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, হোটেল অথবা গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডার হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের ফলে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই আগুন হঠাৎ বিদ্যুতিক লাইনের ট্রান্সফরমারে ধরে যায়। ফলে ট্রান্সফরমারে বিস্ফোরন ঘটে। এর ফলে পুরো এলাকা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। ওই এলাকার বাসিন্দারা অন্ধকারে বের হওয়ার পথ হারিয়ে ফেলেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে ওয়াহিদ ম্যানসন, বাচ্চু মিয়ার বাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। সিলিন্ডার ভর্তি গাড়িটি ভস্মিভূত হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি দোকান বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তায় প্রচুর কসমেটিকস, বোতল ও প্লাস্টিকের গ্রেনুলার ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে কোনো কেমিক্যালের কারখানা বা গোডাউন ছিল না।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে এখন পর্যন্ত ৭৮-এ দাঁড়িয়েছে। দগ্ধসহ আহত অর্ধশতাধিক। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন, অগ্নিদগ্ধ, ভর্তিকৃত রোগীর কারো থেকে কেমিকেলের চিহ্ন অথবা গন্ধ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অতিরিক্ত সচিব মফিজুল হককে প্রধান ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী পাঁচদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এটি কেমিকেলের অগ্নিকাণ্ড নয় : শিল্পমন্ত্রী

এর আগে, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংবাদিকদের বলেন, 'চকবাজার এলাকার রাজ্জাক ভবনে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে সংঘটিত হয়েছে। তারপরও এই দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান, প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন এবং অগ্নি দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুপারিশ দেওয়ার জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ১২ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন পেশ করবে। এর আলোকে শিল্প মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে কেমিকেলের কোনো মজুদ ছিল না। এখানে কেমিকেলের কোনো গোডাউন নেই। সিলিন্ডার থেকে এটা হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'আমি সরেজমিনে দেখে এসেছি। এটি আলাদা ঘটনা। যেখানে ঘটেছে সেটা ছিল একটি রেস্টুরেন্ট। এটা হচ্ছে সিলিন্ডার ব্লাস্ট। ওই এলাকায় গ্যাস স্বল্পতা ছিল। হোটেলে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার করতো। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেটা কেমিকেল এলাকা নয়। এখান থেকে সারাদেশের পাইকারী পণ্য বিক্রি হয়। ওখানে কসমেটিকস আছে, স্প্রে মেশিন আছে– এটাই দেখলাম'।

তিনি আরও বলেন, 'দুঃখজনক ঘটনা এখানে অনেকগুলো সিলিন্ডার একসঙ্গে ছিল। এগুলো ব্লাস্ট হয়েছে। একটার ওপর আরেকটা ছিল। আমি নিজেই দেখে এসেছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এটি মোকাবেলা করেছি'।

পাঠকের মন্তব্য