যুবকের হাতে থাকা অস্ত্রটি 'খেলনা পিস্তল' 

চট্টগ্রামে বিমান ছিনতাই করতে গিয়ে কমান্ডো অভিযানে নিহত যুবকের হাতে থাকা অস্ত্রটি 'খেলনা পিস্তল' বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টার জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর রোববার রাতে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহবুবর রহমান বলেন, “তার কাছে যে অস্ত্রটি পাওয়া গেছে এটা ফেইক, খেলনা পিস্তল।”

তিনি আরও বলেন, পুলিশের এখন তদন্ত শুরু হল। তার পরিচয় এখনও নিশ্চিত করে কিছু পাওয়া যায়নি। তবে এ নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে।

পরে বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীও রাতে এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে বলেন, ওই পিস্তলটি ছিল খেলনা। এক ‘চিত্রনায়িকার প্রেমে ব্যর্থ হয়ে’ ওই যুবক এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন।

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী মাহাদী নিহত হন। এ বিষয়ে ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এবং চটগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আমরা তাকে আহত অবস্থায় আটক করেছিলাম। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়। ছিনতাইকারীর নিজের নাম বলেছে ‘মাহাদি’। বয়স ২৫। তিনি বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁর কাছে একটি পিস্তল ছিল। তার দাবি ছিল, তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নিজের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান।

অভিযানের বর্ণনা দিয়ে এসএম মতিউর রহমান আরও বলেন, শুরুতে আমরা ছিনতাইকারীকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করি। পরে সে আক্রমণাত্মক থাকায় স্বাভাবিক নিয়মে অভিযান চালানো হয়। এতে সে শুরুতে আহত হয়। পরে নিহত হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। বিমানের মধ্যে তার সাথে আমাদের অ্যাকশন হয়েছে, পরে সে বাইরে নিহত হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম মাহাদি বলা হলেও টিকিটে তার নাম মো. মাজিদুল বলে জানা গেছে। তবে তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়ানি। ইতোমধ্যে তার ছবি প্রকাশ করা হয়েছে। বিমান ছিনতাইয়ের এই ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

পাঠকের মন্তব্য