ঢাবি শিক্ষকের বিরূদ্ধে ছাত্রীর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড়

ঢাবি শিক্ষকের বিরূদ্ধে ছাত্রীর অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অভিযোগটি করেছে উম্মে কুলসুম সিমু। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিবিএ ৬ষষ্ঠ ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০১২-২০১৩) ও এমবিএ ৯ম ব্যাচ (শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-২০১৭)-এর ছাত্রী।

তিনি বিবিএতে মেধা তালিকায় ১ম স্থান (সিজিপিএ ৩.৮৬) অর্জন করেন কিন্তু এমবিএতে তার সিজিপিএ-র চরম বিপর্যয় ঘটে। তার সিজিপিএ-র চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মূল কারণ হিসেবে তিনি ২ শিক্ষককে দায়ী করেন। এরা হলেন ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক আফজাল হোসেন এবং শেমশাদ নওরিন। ব্যাক্তিগত আক্রশের জের ধরে ঐ ছাত্রীকে কম নম্বর দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছন ছাত্রী।

ভুক্তভোগী ছাত্রী তার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, আমি কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বিবিএতে আমার ব্যাচের (১০৫ জন ছাত্র-ছাত্রী) মধ্যে সিজিপিএ ৩.৮৬ অর্জনের মাধ্যমে, সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন করি। এমবিএ ফাইনাল সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষের প্রায় ৮ মাস পর গত ০৭/০২/২০১৯ ইং তারিখে আমাদের বিভাগ থেকে সমন্বিত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। উক্ত ফলাফল প্রকাশের পর আমি জানতে পারি আমি এমবিএ প্রথম সেমিস্টারে এসজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৯০ পেয়ে ২য় স্থান লাভ করি, এবং ২য় সেমিস্টারে আমি এসজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩.৬০ পাই। যার কারণে আমার সমন্বিত সিজিপিএ-র চরম বিপর্যয় ঘটে,যা ৪ এর মধ্যে ৩.৬৭ তে নেমে আসে, যা দিয়ে আমি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোন ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার আবেদন করতে পারবো না। 

আমি আমার বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখে জানতে পারি, আমার ২টা বিষয়ে (THM-517: Tourism and Hospitality Entrepreneurship by Prof. Dr. Afjal Hossain, THM-524: Coastal and Marine Tourism by Asst. Prof. Mrs. Samshad Nowreen) আমি লেটার গ্রেড B+, গ্রেড পয়েন্টে ৪ এর মধ্যে ৩.২৫ পাই।

আমি আরো জানতে পারি যে, আমার এমবিএ ফাইনাল সেমিস্টারের পরবর্তী বাধ্যতামূলক করা থিসিসে আমি লেটার গ্রেড B, গ্রেড পয়েন্ট ৪ এর মধ্যে ৩ পাই যা আমি প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন এর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করে থাকি। যা আমার সমন্বিত সিজিপিএ-র চূড়ান্ত বিপর্যয়ের মূল কারণ। উল্লেখ্য, থিসিস কালীন সময়ে আমি উনার প্রতিটি গাইড লাইন মেনে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করে উনার কাছে হস্তান্তর করি। সেই সময়ে উনার তত্ত্বাবধানে করা থিসিস আমার সহপাঠীদের সামনে উনি আমার থিসিসের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন এবং থিসিসে স্বাক্ষর করেন।
 
আমি আরো উল্লেখ্য করতে চাই যে, আমার এই ২ শিক্ষক পরস্পরের নিকটাত্মীয়। সেমিস্টারের শুরুতে আমার সিজিপিএ জানতে চেয়েছেন, তারপর আমার জেলা কোনটি জানতে চেয়েছেন। সেমিস্টারের শুরুতে থেকেই তারা আমার প্রতি রূঢ় আচরণ করতেন। শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কালে আমার বিবিএতে ১ম স্থান অর্জন নিয়ে কটূক্তি করতেন। ওনাদের বিষয় গুলোতে গ্রুপ ভিত্তিক ও একক এসাইনমেন্টে আমাকে তিরস্কার করে কথা বলতেন, প্রেজেন্টেশন কালে আমায় বার বার থামিয়ে দিতেন। তাই আমার কাছে স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, এই ২ শিক্ষক পরস্পরের যোগসাজশে সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে আমার ফলাফলের বিপর্যয় ঘটিয়েছেন।তবে শিক্ষক আফজাল হোসেন কান্ট্রিনিউজের কাছে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ঐ ছাত্রী থিসিস রিপোর্টে অসদুপায় অবলম্বন করেছেন। তাই নম্বর কম পেয়েছেন। তদন্ত করলে বিষয়টি বের হবে।

উল্লেখ্য, সেই শিক্ষক আফজাল হোসেনের বিরূদ্ধে আগেও ছাত্রী নির্যাতনসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল। অনিয়মের অভিযোগে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাকে অপসারণ করা হয়েছিল।

পাঠকের মন্তব্য