সংসার চলে যাদের অনাহারে-অর্ধাহারে

এল.এন.শাহী, গাইবান্ধা জেলা : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে একটি অসহায় পরিবারে চলছে চরম দুর্দিন। যেন দেখার কেউ নেই।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার রামজীবন ইউনিয়নের বাজারপাড়া গ্রামের মৃত নছর উদ্দীনের পুত্র নবীর হোসেন বাস্তভিটার মাত্র ১০ শতক জমিতে বসবাস করছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। নিজে থাকেন বসতবাড়ির দক্ষিণ দুয়ারী ১২ হাত দৈর্ঘের খড়ের ঘরে। পশ্চিম দুয়ারী ৬-৭ হাত দৈর্ঘের ছোট্ট খড়ের রান্না ঘরেই রাখেন তার মূল্যবান সম্পদ ২টি গাভী ও ২টি বাছুর। নবীর হোসেন ও তাঁর স্ত্রী রেজিয়া খাতুনের দাম্পত্ত জীবনে ২ ছেলের মধ্যে বড় ছেলে রিয়াজুল হক তার সাড়ে ৩ বছরের পুত্র আলিফ নূর ও স্ত্রী আলেমা খাতুনসহ থাকেন বাড়ির পূর্ব- দুয়ারী ৬ ফুট দৈর্ঘ বিশিষ্ট ৭-৮ হাতের একমাত্র টিনের চালা ঘরে। 

ছোট্ট ছেলে রবিউল ইসলাম তার আড়াই বছরের একমাত্র পুত্র ও স্ত্রী আলেয়া আক্তার আলোকে নিয়ে বগুড়া শহরের বকশীবাজারের একটি ভাড়া বাসায় অতি দুঃখ-কষ্টে অনাহারে-অর্ধাহারে দিনাতিপাত করেন। রবিউল শহরের একটি হোটেলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন আর তার স্ত্রী অন্যের দর্জির দোকানে বাচ্চাদের জামা-কাপড় সেলাইয়ের কাজ করেন। নবীর হোসেন দিনমজুরী করেন। 

রিয়াজুল হক বিএসএস (সম্মান) ও তার স্ত্রী আলেমা খাতুন বিএ পাশ হলেও কোথাও কোন কাজ পাননি। রিয়াজুল হক প্রাইভেট পড়ানোর রোজগার থেকে সংসার চালান। তাঁর পিতা নবীর হোসেন বয়ঃবৃদ্ধ হওয়ায় দিনমজুরীতে তেমন কিছু আয় করতে না পারায় সংসার চলে অনাহারে-অর্ধাহারে। বসবাসের জায়গাটুকু থাকলেও নেই বসবাসোপযোগী ঘর-দরজা। নেই দু'বেলা দু'মুঠো পেট ভর্তি খাবারের নিশ্চয়তা। বয়সের ভারে নূঁইয়ে পড়া রিয়াজুল ও রবিউলের পিতা নবীর হোসেন ও মা রেজিয়া খাতুন জানান, তাঁদের ভাগ্যে 'জমি আছে ঘর নাই'। এমন প্রকল্পের অধীনে ঘর- দরজা তো দূরের কথা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বয়স্ক, ভিজিডি বা এমন কোন ধরণের সহায়তা তাঁদের ভাগ্যে জোটেনি।

পাঠকের মন্তব্য