উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন

চাই যুববান্ধব নগরী ঢাকা

ওমর ফারুক চৌধুরী, উপ-সম্পাদকীয় : ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এ নির্বাচন নানা কারণেই গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সেই উন্ননের অভিযাত্রায় ঢাকা উত্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ঢাকা উত্তরকে বাংলাদেশের হৃৎপি- বলা যেতে পারে। ঢাকাকে বলা হয় বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র। আর ঢাকা উত্তর হলো এ নগরীর মূল চালিকাশক্তি। 

সেই বিবেচনা থেকে ঢাকা উত্তরের নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ যুবশক্তিতে ভরপুর এক দেশ। যুবকরাই উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাই ঢাকা শহরকে যুববান্ধব একটি মহানগরীতে রূপান্তর অত্যন্ত জরুরি। 

 

এ কারণেই আমি যুববান্ধব এক ঢাকা মহানগরী গড়তে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করতে চাই- 

১. একটি সুচিন্তিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে জাতীয় যুবনীতির আলোকে ঢাকা মহানগরীতে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। 
২. ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে পৃথক যুব বিভাগ গঠন করা প্রয়োজন; যা আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করেছে। 
৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে পৃথক যুব বাজেট করার জোর দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। 
৪. ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে ‘যুব গবেষণা কেন্দ্র’ স্থাপনের প্রয়োজন আজ সময়ের দাবি। 
৫. আমরা জানি, দেশের উচ্চশিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই ঢাকায়। তাই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোয় যুগোপযোগী কারিগরি তথ্য যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে অধিকতর বিনিয়োগের প্রয়োজন। 
৬. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় গবেষণার জন্য আর্থিক এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য যেন সিটি করপোরেশন ও সরকার পদক্ষেপ নেয়, সেই দাবি যুবক ও তরুণদের। 
৭. যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমেই মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত একটা বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব। এ লক্ষ্যে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি’র মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে ঢাকার সব কর্মক্ষম যুবকের তালিকা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। 
৮. ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোকে যুব কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা যেতে পারে। 
৯. বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য পৃথক সেল গঠন করা যেতে পারে ঢাকা মহানগরীতে। 
১০. ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে স্বল্প, মধ্যম ও উচ্চশিক্ষিত তরুণদের জন্য একটি ইন্টিগ্রেটেড ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোয় যখন যে ধরনের জনবলের দরকার হবে এই ডাটাবেজ থেকে যোগ্যতা অনুযায়ী তরুণদের নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। 
১১. বাংলাদেশের তরুণ-যুবকরা এখন চাকরির চেয়ে আত্মকর্মসংস্থানকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তরুণদের আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বিনা জামানতে এবং সহজশর্তে ব্যাংক ঋণ পেতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। 
১২. সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য কারিগরি, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোরও ব্যবস্থা নিতে হবে। 
১৩. ঢাকা মহানগরীতে তরুণ উদ্যোক্তা তৈরির জন্য একটা তরুণ উদ্যোক্তা নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে বলে আমরা আশা করছি।
১৪. তরুণদের সুস্থ বিনোদনের জন্য পর্যায়ক্রমে ঢাকা উত্তরের বিভিন্ন এলাকায় যুব বিনোদন কেন্দ্র স্থাপনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। যেখানে থাকবে ইনডোর গেমসের সুবিধা, মিনি সিনেমা হল, লাইব্রেরি, মাল্টিমিডিয়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি কর্নার ইত্যাদি। এর ফলে তরুণসমাজ মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখবে। 
১৫. ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কাছে আমার আবেদন- স্বল্প খরচে যুবকদের ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দিতে যেন অবিলম্বে ইয়ুথ প্ল্যান তৈরি করা হয়। 
১৬. উগ্র-সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর প্রথম টার্গেট হলো যুবসমাজ। এ যুবসমাজ যেন ভ্রান্ত ধারণায় মোহাবিষ্ট হয়ে জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত না হয়, সেজন্য তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সেলিং কেন্দ্র তৈরি করা যেতে পারে। 
১৭. যুবকদের ভয়াল মাদকাসক্তি থেকে মুক্ত করতে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলা যেতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি নিরাময় কেন্দ্রগুলোয় সিটি করপোরেশনের অনুদান বাড়ানোরও ব্যবস্থা নিতে হবে। 
১৮. ঢাকায় একটি যুব কমপ্লেক্স গড়ে তোলার দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ। 

এ প্রস্তাবগুলোর সবই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যে ইশতেহার ঘোষণা করেছে তাতে রয়েছে। ইশতেহারের কথাগুলো আজ বাস্তবে গ্রহণ করা সময়ের দাবি। ঢাকা উত্তরে যিনিই মেয়র নির্বাচিত হোন, তিনি যুববান্ধব ঢাকা গড়তে এ প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করবেন বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।

লেখক : চেয়ারম্যান, আওয়ামী যুবলীগ।

পাঠকের মন্তব্য