লাইফ সাপোর্টে ওবায়দুল কাদের : মেডিকেল বোর্ড

হার্ট অ্যাটাক করা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে।হৃদযন্ত্রে পাওয়া তিনটি ব্লকের মধ্যে একটিতে স্টেন্ট (রিং) পরানোর পরও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

এ তথ্য জানিয়েছেন ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিক মেডিকেল বোর্ডের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিভেন্টিভ কার্ডিওলজি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক। এই হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) সকাল থেকে ভর্তি ওবায়দুল কাদের।

ডা. হারিসুল হক বলেন, সকাল থেকেই ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক অবস্থা এই ভালো এই মন্দ। উন্নতি-অবনতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা যতটুকু বুঝতে পারছি, তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। এর আগে দুপুরে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বিএসএমএমইউ কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসান জানান, ওবায়দুল কাদেরের শারীরিক পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক।তার শরীর এতটাই নাজুক যে বিদেশ নেয়ার মত নয়।

তিনি আরও বলেন, ওবায়দুল কাদের ‘এই ভালো, এই খারাপ’ পরিস্থিতিতে রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা ক্রমেই সংকটাপন্ন হচ্ছে। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টা না গেলে তার সার্বিক অবস্থা সম্প‌র্কে কিছুই বলা যাচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়ার কথা চিন্তা করা হলেও এই মুহূর্তে তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়ার মতো প‌রি‌স্থি‌তি‌তে নেই বলে জানান ওই চিকিৎসক।

ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য মো. শহীদুল্লাহ সিকদার রোববার দুপুরে বলেন, ‘উনার অবস্থা ক্রিটিক্যাল। আমরা তাকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি। তদুপরি তার পরিবার ও প্রধানমন্ত্রী চাইলে তাকে বিদেশে পাঠানো যেতে পারে।

ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসায় বিএসএমএমইউয়ের হৃদরোগ বিভাগের পক্ষ থেকে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বিএসএমএমইউ কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আলী আহসানের নেতৃত্বে মেডিকেল বোর্ডে রয়েছেন প্রিভেনটিভ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারিসুল হক, অধ্যাপক ডা. চৌধুরী মেশকাত আহমেদ চৌধুরী, অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের অধ্যাপক ডা. দেবব্রত ভৌমিক, অধ্যাপক ডা. একেএম আক্তারুজ্জামান, কার্ডিও সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রেজওয়ানুল হক, অধ্যাপক অসিত বরণ অধিকারী, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান, ডা. তানিয়া সাজ্জাদ প্রমুখ।

এদিকে, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ওবায়দুল কাদেরকে দেখতে বিএসএমএমইউতে যান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওবায়দুল কাদেরকে দেশের বাইরে নেয়া হবে কি না— নেতারা জানতে চাইলে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপাতত দেশের বাইরে নেওয়ার দরকার নেই। এখানেই চিকিৎসা চলবে।’ প্রায় আধা ঘণ্টা হাসপাতালে ছিলেন শেখ হাসিনা।

পরে বিকাল ৪টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও তাকে দেখতে যান বিএসএমএমইউতে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে ওবায়দুল কাদেরকে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ২ নম্বর বেডে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে তাকে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৭২ ঘণ্টা না গেলে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকালে এনজিওগ্রামের পর ওবায়দুল কাদেরের হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। তার হার্টে রিং পরিয়ে একটি ব্লক সচল করা হয়েছে। পরে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। চিকিৎসকদের অনেকেই বলছেন- আগামী ২৪ ঘণ্টা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

সকালে এনজিওগ্রাম করার পর সেতুমন্ত্রীকে বিদেশ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ সন্ধ্যা ৭টায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়ার প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা হয়।

পরে দুপুরে এক বিফ্রিংয়ে বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আলী আহসান জানান, সিঙ্গাপুরে নেয়ার মত অবস্থায় নেই ওবায়দুল কাদের।

এ চিকিৎসক আরও বলেন, উনি আসার সঙ্গে সঙ্গে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে। তখন রক্তচাপ স্টেবল ছিল না, আমরা সেটি স্টেবল করেছি। তিনি আরও বলেন, এনজিওগ্রামে ওবায়দুল কাদেরের হৃদযন্ত্রে তিনটি ব্লক ধরা পড়ে। এর মধ্যে একটি আর্টারি থেকে ব্লক অপসারণ করা হয়।

সকালে বিদেশ নেয়ার পরামর্শ দিয়ে দুপুরে কেন নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আলী আহসান বলেন, ‘যে কোনো মুহূর্তে উনার অবস্থা অবনতির দিকে যেতে পারে। এ কারণে তাকে বাইরে পাঠানোর কথা আমরা বলেছিলাম। আমাদের এখানেও ভালো চিকিৎসা হয়। তবে উন্নত চিকিৎসার যেহেতু শেষ নেই, সে কারণেই বিদেশে নেয়ার কথা বলা হয়েছিল।’

একটি ব্লক অপসারণের পর এখন ওবায়দুল কাদের কেমন আছেন, জানতে চাইলে কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান বলেন, ‘উনি ক্রিটিক্যাল সিচুয়েশনে আছেন। ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার আগে কিছুই বলা যাবে না।’ এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ অসুস্থবোধ করলে ওবায়দুল কাদেরকে বিএসএমএমইউর ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেয়া হয়। সেখান থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) নিয়ে ভর্তি করা হয়। পরে এনজিওগ্রাম শেষে ওবায়দুল কাদেরের হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়ার কথা জানান চিকিৎসকরা।

সেতুমন্ত্রীর জনসংযোগ কর্মকর্তা আবু নাছের জানান, সকালে ফজরের নামাজ শেষে হঠাৎ করেই শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা অনুভব করেন মন্ত্রী মহোদয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসকরা তার মেডিকেল চেকআপ করেন। চেকআপ শেষে তাকে দ্রুত এনজিওগ্রাম করার পরামর্শ দেন। পরে এনজিওগ্রাম শেষে চিকিৎসকরা জানান তার হার্টে তিনটি ব্লক ধরা পড়েছে।

তার সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর দোয়া চেয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার পরিবার।

পাঠকের মন্তব্য