জটিল সমীকরণে অমীমাংসিত যে সমস্যা

উপ-সম্পাদকীয় : গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভারতের আধা সামরিক বাহিনীর গাড়িবহরে হামলাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মুহাম্মদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়েছে বলে ভারত দাবি করছে।

মঙ্গলবার ভোর রাতে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে অভিযান চালায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান। গত বুধবার পাকিস্তান ও ভারতের যুদ্ধবিমানগুলো কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় আকাশযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এতে ভারত হারিয়েছে দুটি যুদ্ধবিমান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এক পাইলট যাকে ভারতে ফেরত দিয়ে ইতিমধ্যে ভারতসহ বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন পাকিস্তানের বিশ্বকাপ জয়ী সাবেক ক্রিকেটার ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। দুই বৈরী প্রতিবেশী ও পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের সশস্ত্র-সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের বিভক্তি ও স্বাধীনতার পর থেকে, তারা তিনটি যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। কাশ্মীরের হিন্দু শাসক মহারাজা হরি সিংহ মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্বাচন করতে অক্ষম হয়ে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

তবে কোনো লাভ হয়নি বরং সংঘাত বাড়তেই থাকে এবং প্রথম সংঘর্ষ ১৯৪৭-৪৮ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে পরিণত হয়েছিল। ভারত বিদ্যমান সংঘাত ও দ্বন্দ্বের মধ্যস্থতায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়েছিল, যা সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি এবং জনগণের সরাসরি ভোট গ্রহণের দিকে ধাবিত করেছিল।

ভোটে জিতে যাওয়ার সম্ভাবনায় ভারত যখন অধিক আশাবাদী তখন ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান তার আক্রমণ অব্যাহত রাখে এবং যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একমত হয়, যা থেকে আজকের সীমান্ত বা de facto border ev Line of Control (নিয়ন্ত্রণ লাইন হিসেবে পরিচিত) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ভারত ৬৫ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতে থাকে।

ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আরও দুটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, ১৯৬৫ সালে দ্বিতীয় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৯৯ সালে কারগিল সংঘর্ষ। বর্তমানে তিনটি দেশ কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ দাবি করে। ভারত জম্মু, কাশ্মীর উপত্যকা, লাদাখ ও সিয়াচেন হিমবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে; পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিট-বাল্টিস্থান নিয়ন্ত্রণ করে; চীন ডেমচক জেলা, শাকসগাম উপত্যকা এবং আকসাই চীন অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে।

কাশ্মীরে সংঘর্ষ শুধু পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যেই নয়, ভারতীয় শাসন থেকে স্বায়ত্তশাসনের জন্য অঞ্চলের জঙ্গিগোষ্ঠীর মধ্যেও সংঘর্ষ চলমান থাকে। এ গোষ্ঠীগুলো হিজবুল মুজাহিদিন, জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট, যা কাশ্মীরের জন্য স্বাধীনতা কামনা করে এবং পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি)। ইসলামাবাদ এবং ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার সঙ্গে এ সন্ত্রাসী দলের সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে ধারণা করা হয়।

তুষারাবৃত পার্বত্য এলাকা কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তান দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে। এ এলাকাটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে কোনো সময় যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। কাশ্মীরের মাধ্যমে প্রবাহিত হিমবাহের তাজা পানি ভারতে এক বিলিয়ন মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। পাকিস্তান তার কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এ অঞ্চল থেকে প্রবাহিত হিমবাহের জলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা এবং বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে, ভারত আরও জলবিদ্যুৎ বৃদ্ধির জন্য অঞ্চলটিকে গভীর গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। পাকিস্তান ভয় পাচ্ছে যে ভারত সেচের জন্য প্রয়োজনীয় পানি এড়াতে পারে এবং পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।

এভাবে কাশ্মীর উভয় দেশের জন্য একটি জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সমস্যা, যার নিয়ন্ত্রণ পরস্পরের জন্য একটি হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তান বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সিন্ধু ওয়াটার্স চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এ চুক্তির মাধ্যমে ভারতকে বিয়াস যার অপর নাম বিপাশা (৪৭০ কিমি.), রবি (৭২০ কিমি.) ও শতদ্রু (Beas, Ravi and Sutlej) নদীগুলোতে নিয়ন্ত্রণ দেয়া হয় এবং সিন্ধু, চিনাব ও ঝিলামের (Indus, Chenab, and Jhelum) ওপর পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ করে, কারণ ভারতজুড়ে সব নদী প্রবাহিত হওয়ায় ভারতকে জলবিদ্যুৎ উন্নয়নে বিশেষ বিধান দেয়া হয়েছিল।

আরও বিপদ হচ্ছে যে, গ্লোবাল ওয়ার্মিং কাশ্মীরের হিমবাহের রেকর্ড গলন সৃষ্টি করছে, যা তার নদীতে তাজা জল সরবরাহ করে। হিমালয় থেকে প্রবাহিত হিমবাহের আনুমানিক ১৭৪ গিগা টন পানি হারিয়ে গেছে; দ্রুত ঢেউ পাকিস্তান ও ভারত উভয় দেশের ভয়াবহ বন্যার জন্য দায়ী।

দ্রুত হিমবাহের পানি হ্রাস পাওয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দেবে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অবসান ঘটবে এবং গ্রীষ্মকালীন নদীশয্যা শুকিয়ে যাওয়ায় কৃষি খাত বিপর্যস্ত হবে।

কাশ্মীর পাকিস্তান ও ভারত উভয়ের জন্য পানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে। এ অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ একটি শূন্য সমষ্টি খেলা তৈরি করে যেখানে নদী এবং হিমবাহের জল নিয়ন্ত্রণ পরস্পরের জন্য একটি ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। কাশ্মীরের নৈসর্গিক সৌন্দর্যকে পছন্দ করবে না এমন কেউ নেই, শুধু তাই নয়, কাশ্মীর একটি পর্যটন স্থান হিসেবে ভারত-পাকিস্তান উভয়ের অর্থনৈতিতে অবদান রাখছে।

কাশ্মীর উঁচু পাহাড়ি এলাকা হওয়াতে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। কাশ্মীর প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ যা দুই দেশের অর্থনীতিতে অনেক অবদান রাখতে সমর্থ। ভারতের সঙ্গে সেন্ট্রাল এশিয়ার যোগাযোগের একমাত্র জানালা কাশ্মীর। কাশ্মীরের সিআচেন যদি পাকিস্তান বা চীনের (Both rivals to India) হাতে চলে যায় তবে ভারতের উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা হ্রাস পাবে।

কাশ্মীরকে ভারতের মুকুট বলা হয়। ভারত জম্মু ও কাশ্মীর ছাড়া অসম্পূর্ণ। কিন্তু কাশ্মীর (বা জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য) ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন এর কারণও রয়েছে, যা ভারতের সঙ্গে কাশ্মীরের থাকার পক্ষে যথেষ্ট আর্গুমেন্ট দেয়।

প্রথমত জম্মু ও কাশ্মীর অনুপ্রবেশকারীর প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে। ভারসাম্যহীন এবং ঘন ভূখণ্ড এবং শীতকালে চরম ঠাণ্ডা জলবায়ু ভারতের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলগুলোতে অনুপ্রবেশের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে। যদি জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের নিয়ন্ত্রণে না থাকে তবে অনুপ্রবেশকারীরা ভারতের সমভূমির সহজ প্রবেশাধিকার পাবে। এ অনুপ্রবেশের অর্থ আরও সন্ত্রাসী হামলা, আরও ক্ষোভ ইত্যাদি।

দ্বিতীয়ত, ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের নদীগুলোর পানি ব্যবহার করে। পাঞ্জাব অঞ্চলে ভারতীয়দের বেঁচে থাকার জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের পানিসম্পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (রঞ্জিত সাগর বাঁধ)। একবার চলে গেলে পাঞ্জাব, হরিয়ানা এবং এমনকি দিল্লিতেও পানির অভাব দেখা দেবে। এ ছাড়া পাকিস্তানের পানি তার জন্য নির্ভরশীল। এভাবে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ভারতকে পাকিস্তানের কার্যকলাপগুলো পরীক্ষা করতে সক্ষম করে।

তৃতীয়ত, জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থানগুলোর একটি স্থান রয়েছে, যেমন অমরনাথ গুহা। একবার ভারত জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তাদের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিলে, পবিত্র গুহা পরিত্যক্ত হবে এবং বৈষ্ণব দেবী মন্দিরটি এ রকম আরেকটি মার্টিন সূর্য মন্দির হয়ে যাবে।

চতুর্থত, জম্মু ও কাশ্মীরের (Safety Point) নিরাপত্তা দৃষ্টিকোণ থেকে অনেক কৌশলগত পাস বা রাস্তা (জোগি লা, শিপকি লা ও কারাকোরাম) রয়েছে। এ কৌশলগত পাস বা রাস্তাগুলোয় কড়া নজর রাখা ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কাশ্মীর পাকিস্তানের প্রধান শিরা। পাকিস্তান পানিসম্পদের জন্য কাশ্মীরের ওপর নির্ভর করে। কাশ্মীর ভারতের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকলে চীন-পাক লিঙ্ক সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাশ্মীর দখলে থাকলে পাকিস্তানের সহায়তায় চীন ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করতে সহায়তা পাবে। তাই চীনও চায় পাকিস্তানকে শক্তিশালী করতে, যদিও পরিবহন ও শক্তি সংযোগ স্থাপনের জন্য চীনকে One belt, One road নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হয়েছে।

আংশিকভাবে এটা পাকিস্তানের জন্য যতটা গুরুত্বপূর্ণ ততটা ভারতের জন্য নয়, কারণ পাকিস্তানের সব পানি এখান থেকে উৎপন্ন হয় এবং আংশিকভাবে পুরনো সিল্ক রুটটি কাশ্মীরে থেকে যায়, যা ভারত ও চীনকে ইউরোপ ও আরবের সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য ব্যবহার করে।

এখানে লাল রেখা (Red Line) যেটি কাশ্মীর থেকে বেলুচিস্তানের গোআধার পোর্টে যায় তা CPEC (China Pakistan economic corridor) দ্বারা রিভাইব (সক্রিয়) হয়েছে, যেখানে ভারত সমুদ্রপথে (নীল রেখা) ইরানের চারবাহার এবং আফগানিস্তানের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছে।

যা হোক, ভারতকে পাকিস্তান থেকে পিওকে (POK) ফিরিয়ে নিতে হবে, যাতে ওপরের রেডলাইনের অ্যাক্সেস পাওয়া যায়, অন্যথায় পাকিস্তান এ রুটে ভারতকে প্রবেশ করতে দেবে না।

আরেকটি কারণ মতাদর্শগত। ভারত-পাকিস্তান অনেকটাই মতাদর্শের দ্বারা প্রভাবিত হয়। পাকিস্তানের মতাদর্শ ছিল জিন্নাহর ‘দ্বিজাতিতত্ত্ব’, ‘হিন্দু ও মুসলমান একসঙ্গে বসবাস করতে পারে না’। যদি কাশ্মীর চলে যায়, ভারত হারবে এবং পাকিস্তান জিতে যাবে- এভাবে বোঝার চেষ্টা করুন কেন ভারত কাশ্মীরকে স্বাধীনতা দিতে পারে না। প্রশ্ন আসতে পারে, কাশ্মীর সমস্যা আরও ভালো হওয়ার আগে কেন এটি খারাপ হতে পারে? কেন কাশ্মীর শীর্ষ সমস্যা?

কেন কাশ্মীর ইস্যুকে সবসময় সামনে আনা হয়? আর তার অন্যতম প্রধান কারণ পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠা (Military Strategic Establishment) বা পাকিস্তানের সামরিক নীতি, যারা সবসময় কাশ্মীর ইস্যুকে সামনে রেখে তাদের সরকারকে প্রভাবিত করে, কারণ পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মনে করে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান হলে তারা তাদের গুরুত্ব হারাবে?। কাশ্মীর পাকিস্তানের রাজনীতিবিদ, সামরিক ও আইএসআইসহ দেশের প্রধান শক্তিও তাদের কর্তৃত্বকে বৈধতাদানের জন্য ট্রাম্প কার্ড।

এক বাক্যে জনগণের সঙ্গে তাদের রাজনীতি করা, তাদের ব্যর্থতা গোপন রাখা এবং তাদের জনগণকে রাজনীতির মূল চিন্তাধারা থেকে সর্বদা নিষ্ক্রিয় বা ঘুমন্ত অবস্থায় রাখা। এখন আবার প্রশ্ন আসতে পারে- ভারত কেন কাশ্মীর ইস্যু সমাধানে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে? তার অন্যতম প্রধান অন্তরায় হচ্ছে পাকিস্তানের সব সময়ের (All Weather Friend) বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরব ও চীন।

পাকিস্তান দীর্ঘদিন থেকেই Bankrupt পুতে ভুগছে, এমন অবস্থায় সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা এবং পাকিস্তানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সামরিক খাতে চীনের বিনিয়োগ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। তাছাড়া চীন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাভাবিক সম্পর্ক জোরদার করতে পূর্ণ সহযোগিতা করে না, কারণ ভারতের মনোযোগ যদি চীনের সীমান্ত থেকে সরে কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তান সীমান্তের দিকে ধাবিত হয় তাতে চীন লাভবান হয়।

আর তাই কাশ্মীর ইস্যুতে চীন সব সময় পাকিস্তানের পাশে অবস্থান নেয় এবং সার্বিক সহযোগিতা করে। সর্বোপরি, কাশ্মীরে যুদ্ধরত দেশগুলোর স্থানীয় কাশ্মীরিদের কথা ভাবা উচিত। কাশ্মীরে চলমান যুদ্ধ কাশ্মীরি সাধারণ জনজীবনকে বিপর্যস্ত করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই চলমান সীমান্ত বিরোধের শিকার হয়ে এবং কিছু জঙ্গিবাদীদের চক্রান্তে মারা যাচ্ছেন।

অনেক মা তার জোয়ান সন্তান, আবার অনেক সন্তান অকালে তার বাবাকে হারিয়ে অসহায় জীবনযাপন করছেন। এক কথায়, দুই প্রতিবেশী ও পারমাণবিক শক্তিধর ভারত ও পাকিস্তানের সরাসরি বৈরিতা এবং এশিয়ার আরেক শক্তিধর চীনের অদৃশ্য শক্তির সমর্থন ও সহায়তা তথা তার প্রভাবে নিষ্পেষণের শিকার হচ্ছেন কাশ্মীরের অসহায় জনগণ।

মেজর রেজা উল করিম, ইবি (অব.) : নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

পাঠকের মন্তব্য