আর যাই হোক বাংলাদেশ অগণতান্ত্রিক দেশ

বুকার জয়ী অরুন্ধতি রায়ের বক্তৃতা আটকে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার৷ ঢাকায় একটি আন্তর্জাতিক চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত হয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা লেখিকার৷ কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ সেই অনুষ্ঠানের অনুমতি বাতিল করেছে৷

এই ঘটনার জেরে শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ সামাজিক মাধ্যমে ছড়াতে শুরু করেছে প্রতিবাদ৷ উদ্যোক্তা ছবিমেলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- অরুন্ধতি রায়ের সঙ্গে বিতর্কিত চিত্রগ্রাহক শহিদুল আলমের আলোচনা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷

লেখিকা অরুন্ধতি রায়ের ‘Walking with the Comrades’ বইয়ের বাংলা অনুবাদক সুমন গোস্বামী বলেন, অরুন্ধতি রায় সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছেন। তিনি আন্তর্জাতিকতাবাদে বিশ্বাসী। সারা পৃথিবীতে এমনটা হয়৷ যারা ক্ষমতায় থাকে তাঁরা মানুষের ওপর অত্যাচার করে, ক্ষমতা প্রদর্শন করে। সেই ক্ষমতা প্রদর্শনকে যে বা যারা চ্যালেঞ্জ করেন, তাঁদেরকেই এভাবে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলে। এই ঘটনার মধ্যে দিয়ে আবারও বোঝা গেল আর যাই হোক বাংলাদেশ অগণতান্ত্রিক দেশ।

তিনি আরও বলেন, ভারতের মৌলবাদীদের ওপর যেমন অরুন্ধতি রায় সরব হন। তেমনই বাংলাদেশের মৌলবাদের ওপরেও তিনি সরব হন। আবারও প্রমাণিত হল মৌলবাদ বিভিন্ন দেশে আসলে একই। ভারতে যার নাম হিন্দু। বাংলাদেশে তারই নাম ইসলাম। গণতন্ত্রকে অস্বীকার করা, সত্যি কথাকে অস্বীকার করা আর মানুষের স্বাধীনতাকে দমিয়ে রাখাই তাঁদের লক্ষ। এটাই চিরকালীন সত্য।

গত জাতীয় নির্বাচনের কিছু আগে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে অচল হয়েছিল বাংলাদেশ৷ টানা অচলাবস্থায় সরকার অস্বস্তিতে পড়ে৷ অভিযোগ, আন্দোলনের এক পর্যায়ে সোশ্যাল সাইটে উত্তেজনাকর মন্তব্য করেছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম৷ এর পরেই তাঁকে গ্রেফতার করে শেখ হাসিনার সরকার৷ বিতর্ক চরম আকার নেয়৷ 

সরকারের উপরে আন্তর্জাতিক চাপ আসতে থাকে৷তখন শহিদুল আলমের সমর্থনে খোলা চিঠি লিখে প্রতিবাদ করেছিলেন অরুন্ধতি রায় সহ বিশ্বজুড়ে একাধিক বুদ্ধিজীবী৷ মনে করা হচ্ছে অরুন্ধতি রায়ের এই অবস্থানের কারণেই তাঁর আলোচনা অনুষ্ঠান বাতিল করেছে ঢাকা পুলিশ৷ এদিকে অনড় উদ্যোক্তারা৷ ফলে বিতর্ক বাড়ছেই৷

পাঠকের মন্তব্য