খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার ৬ মার্চ বিচারপতি একেএম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এসএম মুজিবুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ জামিনের আদেশ দেন।

মঙ্গলবার আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন ও এজে মোহাম্মদ আলী। তাদের সহায়তা করেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনালের ড. মো. বশিরউল্লাহ। শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, জামিন আবেদনকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্কা নারী। শারীরিকভাবে অসুস্থ। মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না।

জামিন শুনানিতে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, জামিন আবেদনকারী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বয়স্কা নারী। শারীরিকভাবে অসুস্থ। মামলার এজাহারে তার নাম ছিল না। হাইকোর্ট এ মামলায় জামিন দিয়েছিলেন। এর বিরুদ্ধে সরকার আপিলে গেলে আপিল বিভাগ বিচারিক আদালতে জামিন আবেদন নিষ্পত্তির পর আসতে বলেছিলেন। আদালত তার কাছে জানতে চান, হাইকোর্টের আগের আদেশের অনুলিপি আছে? আপিল বিভাগ কোনো পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

জবাবে এজে মোহাম্মদ আলী বলেন, হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি আছে। আর আপিল বিভাগ কোনো পর্যবেক্ষণ দেননি। এজে মোহাম্মদ আলী মামলার বিস্তারিত বলতে গেলে আদালত বলেন, আমরা সব বিষয়ে অবগত আছি।

খালেদা জিয়ার পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্ট মামলার বিবরণ শুনে সন্তুষ্ট হয়ে এ মামলায় জামিন বিবেচনা করেছিলেন। সরকার জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল করলে আপিল বিভাগ শুধুমাত্র ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী সরসারি হাইকোর্টে জামিন চাওয়া যায় কি না সেটা নিষ্পত্তির জন্য পাঠান। আপিল বিভাগের আদেশের পর আমরা আবেদনটি উত্থাপন না করে বিচারিক আদালতে গিয়েছি। বিচারিক আদালতের প্রক্রিয়ায় শেষ করে এখন হাইকোর্টে এসেছি।

খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, হাইকোর্ট মামলার এজাহার এবং অভিযোগপত্র বিবেচনায় নিয়েই জামিন দিয়েছেন। এ বিষয়ে নতুন কিছু ঘটেনি। মামলা এখনো এজাহার ও অভিযোগপত্রের মধ্যে রয়েছে। জবাবে আদালত বলেন, আমরা একটাই নতুনত্ব দেখছি সেটা হলো মামলার বিচার এক বছরেও শুরু হয়নি বিচারিক আদালতে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম শুনানিতে বলেন, একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে মানুষ পুড়িয়ে মারা হয়েছে। সাতজন ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং একজন হাসপাতালে মারা যায়। মামলার এজাহার, অভিযোগপত্র ও সুরতহাল প্রতিবেদন পড়ে ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরে জামিনের ঘোরতর বিরোধিতা করেন।

গত ৪ঠা ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালত খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন। গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি মামলাটিতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৩১শে মার্চ পরবর্তী দিন ধার্য করেন আদালত। পরদিন কুমিল্লার হত্যা মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন তার আইনজীবী কায়সার কামাল।

২০১৫ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের ডাকা অবরোধ চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের জগমোহনপুরে দুষ্কৃতকারীদের ছোড়া পেট্রোলবোমায় আইকন পরিবহনের বাসের আট যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা যান। আহত হন আরো ২০ জন। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক নুরুজ্জামান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। হুকুমের আসামি করা হয় খালেদা জিয়াকে। পরে ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফিরোজ হোসেন অধিকতর তদন্ত শেষে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

পাঠকের মন্তব্য