অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের ফেরার লড়াই শুরু

ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ টি-২০’র ফাইনালের পর সোমবার রাতে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেছিলেন, বাঁ হাতের আঙুলের এক্সরে করার পর সাকিব আল হাসানকে আরও সাত দিনের বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। ব্যাংকক থেকে ফিরে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে আঙুলের এক্সরে করিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।

যদিও রাত পোহাতেই বিপরীত চিত্র দেখা গেল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। বিসিবি একাডেমি মাঠে উপস্থিত সাকিব। গতকাল থেকেই মাঠে ফেরার লড়াই শুরু করে দিয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-২০ দলের অধিনায়ক।

বাঁ হাতের অনামিকায় ব্যান্ডেজ আছে। বিসিবির জিমনেশিয়ামে ফিজিও’র সঙ্গে কথা বলেছেন। তার আগে হালকা জিম করেছেন। ফিজিও’র নির্দেশনা অনুযায়ী বেশি সময় কাটাননি জিমে। মিনিট ত্রিশেক সময় কাটিয়ে রানিং করেছেন বিসিবি একাডেমি মাঠে। রানিংয়ে হয়তো আরও সময় দিতেন। কিন্তু বাঁধ সেধেছে বৃষ্টি। রানিং শেষে আবারও জিমে চলে যান সাকিব।

আপাতত কিছুদিন ফিটনেস নিয়েই কাজ করবেন তিনি। আঙুলের ব্যান্ডেজ খোলার পরই স্কিল অনুশীলন শুরু করবেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।

বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে মুখ খুলতে মানা করা হয়েছে বিসিবির মেডিক্যাল বিভাগকে। অবশ্য গতকাল বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, সাকিবের অবস্থা এখন বেশ ভালো। সবকিছু ঠিক আছে। অনুশীলন শুরু করে দিয়েছে। ও চেষ্টা করছে, ইতিবাচক আছে। দেখা যাক তৃতীয় টেস্ট খেলতে পারে কি না।

সোমবার রাতে সাকিবের চোট নিয়ে বিসিবি সভাপতি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘আজকেই (সোমবার) সাকিবের সাথে আমার কথা হচ্ছিল। সে তৃতীয় টেস্টটা খেলবে বলেছিল। আমি দুবাই আইসিসির বোর্ড মিটিংয়ে যাওয়ার আগে, সে বলছিল লিগে খেলতে চায়। যাতে করে ম্যাচ অনুশীলনটা হয়। পারলে খেলবে না পারলে বসে থাকবে। আমি আজকে শুনলাম কালকে একটা এক্সরে করেছে। এখন তাকে আরও ৭ দিনের বিশ্রাম দিয়েছে।’

তবে সাকিবকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না বিসিবি। পূর্ণ ফিট হলেই তাকে নিউজিল্যান্ডে পাঠানো হবে। না হয় বিশ্রামে থাকবেন তিনি। নাজমুল হাসান পাপন বলেছেন, ‘আমি মনে করি তৃতীয় টেস্টে যে তাকে খেলতেই হবে এমন কিছু না। কারণ সামনেই বিশ্বকাপ। ওর যদি সমস্যা থাকে, আমরা চাই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে খেলায় ফিরে আসুক। আমরা কোনো ঝুঁকি নিতে চাই না।’

বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের ফাইনালে বাঁ হাতের অনামিকায় ব্যথা পেয়েছিলেন সাকিব। একদিন পরই তার নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চোটের কারণে ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে পড়েন। মিস করেছেন হ্যামিল্টনে প্রথম টেস্ট। এবার আগামী ৮ মার্চ ওয়েলিংটনে শুরু হতে চলা দ্বিতীয় টেস্টেও বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারকে পাবে না বাংলাদেশ।

ব্যথা পাওয়ার পর তিন সপ্তাহ অতিবাহিত হয়েছে। ব্যাংককে পরিবার নিয়ে ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ফিরে অ্যাপোলো হাসপাতালে আঙুলের এক্সরে করিয়েছেন সাকিব। আঙুলের উন্নতি অব্যাহত থাকলেও ক্রাইস্টচার্চে তৃতীয় টেস্টে তার খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। জানা গেছে, ১২ মার্চ তার আঙুলের ব্যান্ডেজ খোলা হবে। আর ব্যান্ডেজ খোলার পরও ১০/১২ দিন লাগবে ফিট হতে।

পাঠকের মন্তব্য