বায়ুদূষণে দিল্লি'র পরই স্থান পেল রাজধানী ঢাকা

বায়ুদূষণে দিল্লির পরই স্থান পেল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা৷ বিশ্বের ৬২ দেশের রাজধানীর মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষে ভারতের রাজধানী৷ গতবারের চেয়ে মাত্র কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট উদ্বেগজনক৷ দিল্লির প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ ১১৩.৫ মাইক্রোগ্রাম। এদিকে ঢাকার প্রতি ঘনমিটার বাতাসে ভাসমান ধূলিকণার পরিমাণ ৯৭.১ মাইক্রোগ্রাম। এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই তথ্য৷ 

সম্প্রতি দূষণ নিয়ে বিশ্বজুড়ে একটি সমীক্ষা চালায় ‘গ্রিনপিস’-এর দক্ষিণ এশীয় শাখা৷ ওই সমীক্ষায় উঠে এসেছে এই তথ্য। পৃথিবীর প্রায় তিন হাজার শহরের বাতাস কতটা অস্বাস্থ্যকর, তা জানতে বিভিন্ন সরকারি এবং বেসরকারি নজরদারি সংস্থার নথি খতিয়ে দেখে ‘আইকিউ এয়ার ভিজ্যুয়াল ২০১৮ ওয়ার্ল্ড এয়ার কোয়ালিটি’ শীর্ষক একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তারা। সেখানে দেখা গিয়েছে দিল্লির পরই দূষণ তালিকায় রয়েছে ঢাকার নাম৷ সমীক্ষায় PM 2.5 নামের এক ধরনের সুক্ষ্ম কণার উপস্থিতির হিসেব করা হয়৷ 

এই কণাগুলি ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে মারাত্মক দূষণ ঘটাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, PM 2.5 দূষণের কারণে ফুসফুসের ক্যানসার, স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। এ ছাড়া শ্বাসযন্ত্রের রোগ হতে পারে, যার মধ্যে অ্যাজমা অন্যতম।

উল্লেখ্য সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ভারতের গুরগাঁও, গাজিয়াবাদ, ফরিদাবাদ, ভিওয়াড়ি, নয়ডা, পাটনা, লখনউ চিনের হোতান ও পাকিস্তানের লাহোর, ফয়সলাবাদ রয়েছে বিশ্বের দূষিততম প্রথম দশটি শহরের তালিকায়। বর্ধিত তালিকাতেও আধিপত্য ভারতের। প্রথম ২০টি দূষিত শহরের তালিকায় ১৫টি স্থানই দখন করে রেখেছে ভারত। দূষণ বৃদ্ধির কারণ হিসাবে দায়ী করা হয়েছে অপরিকল্পিত নগরায়নকে। যার প্রভাবে নির্বিচারে ধ্বংস করা হয়েছে সবুজ। বর্তমানে গুরগাঁও খুঁজলে একটা গাছও চোখে পড়ে না। সেই সঙ্গে ঘরে ঘরে বসেছে এয়ার কন্ডিশন। পরিবার পিছু গাড়ির সংখ্যা বেড়েছে। একদিকে দূষণের পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে নিশ্চিহ্ন হয়েছে দূষণমোচী উদ্ভিদকুল। 

দূষণের কবলে বায়ু, জল, মাটি, সবই বিষিয়ে গিয়েছে। ক্ষয়ে যাচ্ছে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরও। শুধু মানুষই নয়, পশু-পাখি, গাছপালাও এই দূষণের শিকার। দূষণ তালিকায় নাম থাকলেও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে চিনের দূষণ পরিস্থিতি। ২০১৩ সালে এই তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল চিনের রাজধানী বেজিং। বর্তমান সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আগের তুলনায় বেজিং-এর দূষণ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ।  

পাঠকের মন্তব্য