বিখ্যাত সাহিত্যিক শেখ সাদীর কয়েকটি গল্প ও উপদেশ

ইরান তথা পারস্যের বিখ্যাত সাহিত্যিক, কবি ও দার্শনিক শেখ সাদী । তিনি ১১৮৪ খ্রিস্টাব্দে ইরানের সিরাজ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর সাহিত্য শুধু ইরান বা ফারসি সাহিত্যেরই সম্পদ নয়, তা বিশ্ব সাহিত্যের সম্পদ।

এ কথার প্রমাণ মেলে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরের প্রবেশপথের দেয়ালে। ওই দেয়ালে থাকা বিশাল কার্পেটে লেখা আছে মহাকবি শেখ সাদীর একটি কবিতা। কবিতাটিতে বলা হচ্ছে, ‘সব মানুষ এক দেহের অঙ্গসম; যেহেতু সবার প্রথম উপাদান একই। যখন একটি অঙ্গ ব্যথায় আক্রান্ত হয়, বাকি অঙ্গও তখন স্থির থাকতে পারে না। অন্যের দুর্যোগে যদি উদ্বিগ্ন না হও, তবে তোমার নাম মানুষ হতে পারে না।’

শেখ সাদী কেমন মানুষ ছিলেন তা এই কথাগুলো থেকেই অনুমান করা যায়। মানবতাবাদী এই কবি প্রথম জীবনে শিশু-কিশোরদের জন্য উপদেশমূলক গল্প ও কবিতা লিখতেন। গল্পে গল্পে তিনি শুনিয়েছেন সততার পুরস্কার কীভাবে পাওয়া যায়। কীভাবে বিনয়ী হওয়া যায় এবং ন্যায়-অন্যায় বিবেচনা করতে হয়। এক কথায়, মানুষের সামগ্রিক বিকাশকে লক্ষ্য রেখেই তিনি গল্প, কবিতা রচনা করতেন। তা ছাড়া মানুষ হওয়ার বয়স কিন্তু কিশোর বয়স থেকেই। এই বয়সে নিজের নৈতিক চরিত্র ঠিক রাখা দিকনির্দেশনা পাওয়া যায় শেখ সাদীর রচনায়। তাঁর লেখায় জ্ঞানী, গুণী মনীষীদের পবিত্র জীবনাচরণ উদাহরণ হয়েছে। আরবি কবিতা ও প্রবাদ বাক্য ছাড়াও তার লেখায় যথেষ্ট পরিমাণে পবিত্র কুরআন, হাদিসের উদ্ধৃতি লক্ষ্য করার মতো। 

আজকের আসরে আমরা শেখ সাদীর জীবন থেকে নেয়া কয়েকটি মজার গল্প শোনাব। গল্পের পর থাকবে শেখ সাদীর কয়েকটি উপদেশ। আর সবশেষে থাকবে একটি গান। অনুষ্ঠানটি তৈরি করেছেন আশরাফুর রহমান। তাহলে প্রথমেই গল্পগুলো শোনা যাক।

এক. শেখ সাদী একবার বাদশাহর বাড়িতে দাওয়াতে যাচ্ছিলেন। মাঝপথে রাত হলে এক বাড়ির ছোট্ট একটি ঘরে আশ্রয় পেলেন তিনি। বাড়ির পক্ষ থেকে সামান্য কিছু খাবারও জুটল। পরের দিন শেখ সাদী বিদায় নিলেন। শেখ সাদীকে পেয়ে বাদশাহ অনেক খুশি। সেজন্য বিদায় বেলায় কবিকে বাদশাহ বেশ দামি উপহার ও একটি জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক দিলেন। শেখ সাদী সেই পোশাক পরে উপহার নিয়ে বিদায় নিলেন। ফেরার পথে সেই একই বাড়িতে আবার রাত্রিকালীন আশ্রয় নিলেন।

বাড়ির লোকেরা এবার তাকে দেখে সম্মানের সঙ্গে নিজেদের ঘরে ঘুমানোর ব্যবস্থা করে দিলেন। একই সঙ্গে অনেক ধরনের রাতের খাবারের ব্যবস্থাও করলেন। সবার সঙ্গে খেতে বসে শেখ সাদী না খেয়ে সব খাবার পোশাকের পকেটে রাখতে লাগলেন। তা দেখে বাড়ির একজন কৌতূহল ধরে না রাখতে পেরে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা আপনি না খেয়ে খাবারগুলোকে পোশাকের পকেটে কেন রাখছেন?

শেখ সাদী বললেন, 'আমি যখন কয়দিন আগে এ বাড়িতে রাত্রিযাপন করেছিলাম তখন আমার অবস্থা খুব সাধারণ ছিল। তাই আমার সমাদরও হয়েছিল খুব সাধারণ। আজ আবার যখন এ বাড়িতে আসলাম তখন আমার অবস্থা খুব উচ্চ অবস্থায়। এর সবই পোশাকের গুণেই হয়েছে। তাই খাবারগুলো তারই প্রাপ্য। তাই আমি না খেয়ে পোশাককে তা খাওয়াচ্ছি।'

একথা শুনে তাদের খুব লজ্জা হলো এবং এ রকম ব্যবহারের জন্য তারা শেখ সাদীর কাছে ক্ষমা চাইলেন।

দুই. কোনো এক বাদশাহ এক অপরাধী কয়েদীকে হত্যা করার হুকুম দিলেন। মৃত্যু নিশ্চিত জেনে বেচারা কয়েদি বাদশাহকে গালি দিতে শুরু করল এবং অশ্লীল ভাষায় যাচ্ছেতাই বকতে লাগল। বাদশাহ তাঁর এক মন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন: লোকটা কি বলছে? মন্ত্রীমহোদয় খুব দয়ালু ও মহানুভব ব্যক্তি ছিলেন। তিনি বললেন: লোকটা বলছে- যারা রাগ দমন করে এবং লোকদেরকে ক্ষমা করে, সেইসব লোকদেরকে আল্লাহ ভালোবাসেন।

একথা শুনে বাদশাহর হৃদয়ে দয়া হলো এবং তার প্রাণদণ্ড মওকুফ করে দিলেন। এসময় হিংসুটে অপর এক মন্ত্রী প্রতিবাদ করে বললেন: 'আমাদের মতো উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীদের পক্ষে রাজদরবারে দাঁড়িয়ে সত্য বৈ মিথ্যা বলা ঠিক নয়। অপরাধী লোকটি বাদশাহ নামদারকে গালি দিচ্ছে এবং এমন সব অকথ্য কথা বলছে, যা কাউকে বলা যায় না।'

হিংসুটে মন্ত্রীর কথার কোনো জনাব দিলেন না ভালো মন্ত্রী। বাদশাহও তার কথায় কান দিলেন না। বরং বিরক্ত হয়ে বললেন: যে সত্য কথা তুমি বলেছ, তার চেয়ে ওর মিথ্যা কথা আমার কাছে বেশি ভালো লেগেছে, কেননা, ওর উদ্দেশ্য মহৎ। অর্থাৎ, একটা মূল্যবান জীবন রক্ষা করে তাকে সংশোধনের সুযোগ দেয়া।

শেখ সাদী এ গল্প থেকে আমরা জানতে পারি যে, অশান্তি সৃষ্টিকারী সত্য কথার চেয়ে শান্তিকামী মিথ্যা কথাও অনেক ভালো।

তিন. একদিন এক বাদশাহ নৌকায় চড়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। তার সাথে পারস্যের এক ভৃত্য ছিল। ভৃত্যটি কোনোদিন নৌকায় চড়েনি, এমনকি দেখেওনি। ভয়ে ভয়ে সে নৌকায় উঠল বটে কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও স্থির হয়ে বসতে পারল না। নৌকা একটু এদিক-ওদিক কাত হলেই সে ভয়ে কান্নাকাটি করতে লাগল।

ভৃত্যের এই অস্থিরতা ও চেঁচামেচিতে বাদশাহ খুব বিরক্তিবোধ করতে লাগলেন। তার পক্ষে এই ধরনের অযথা উৎপাত সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ল। নৌকা ভ্রমণের আনন্দটা একেবারে মাঠে মারা যাবার উপক্রম হলো। সবাই ভৃত্যটিকে বোঝাতে লাগল যে, নদীপথে নৌকা নিরাপদ যানবহন। ভয়ের কোনো কারণ নেই। কিন্তু কিছুতেই সে নিজেকে নিরাপদ মনে করতে পারল না। আরোহীদের যার মাথায় যত বুদ্ধি ছিল খাটান হলো এবং যার যত কৌশল ছিল, সবই প্রয়োগ করা হলো, কিন্তু কিছুতেই তাকে শান্ত করা গেল না।

নৌকায় ছিলেন একজন বিজ্ঞ প্রবীণ লোক। তিনি বাদশাহকে বললেন: হুজুর, যদি অনুমতি দেন তবে ওকে আমি শান্ত করতে পারি। বাদশাহ খুশি হয়ে বললেন: মেহেরবানী করে যদি তা পারেন তাহলে যারপরনাই খুশি হব।

বিজ্ঞ লোকটা এরপর ভৃত্যকে ধরে নদীতে ফেলে দিলেন। লোকটা সাঁতার জানত না। কয়েকটা চুবানি খেয়ে, কিছুক্ষণ দাপাদাপি করে যখন সে নিস্তেজ হয়ে ডুবে যাবার উপক্রম হলো, তখন তার চুল ধরে টেনে নৌকার পেছন দিকে আনা হল। এরপর নৌকার হালের সাথে তার দুই হাত এমনভাবে বাঁধা হলো যাতে ডুবে মারা যেতে না পারে। একসময় তুফানের ঝাঁপটায় হাবুডুবু খেয়ে যখন সে খুব কাতর হয়ে পড়ল এবং  তাকে নৌকায় উঠাবার জন্য খুব অনুনয় বিনয় করে কাঁদতে শুরু করল। তখন তাকে নৌকায় উঠানো হলো। নৌকায় উঠে সে সুবোধ বালকের মতো একপাশে চুপ করে বসল। আর কোনো অস্থিরতা দেখাল না।

এ দৃশ্য দেখে বাদশাহ তাজ্জব হয়ে প্রবীণ লোকটিকে বললেন: কী আশ্চর্য! এতগুলো লোকের উপদেশ কোনো কাজেই লাগল না, আর আপনার বুদ্ধিতে সে একেবারে শান্ত হয়ে গেল! এর ভেতর কী রহস্য আছে দয়া করে বলুন।

জ্ঞানী লোকটি বাদশাহকে বললেন: হুজুর! পানিতে ডুবে যাওয়ার বিষয়ে তার কোনো পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল না! সুতরাং নৌকা যে একটা নিরাপদ যানবহন- একথা তাকে শুধু যুক্তি বা উপদেশ দিয়ে বুঝালে সে কি করে বুঝবে? সুস্থতার মূল্য সেই জানে, যে রোগ-যাতনা ভোগ করেছে। নৌকার নিরাপত্তা সম্বন্ধে এখন তার বাস্তবজ্ঞান হয়েছে। তাই যে নৌকায় সে এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে বসতে পারেনি- সেই নৌকায় ওঠার জন্য এখন সে ব্যাকুল হয়েছে। বাস্তবজ্ঞান ছাড়া যুক্তি কার্যকার হয় না।

এ গল্পের শিক্ষা হচ্ছে- যার বাস্তব-অভিজ্ঞতা নেই তাকে বুঝ দিয়ে লাভ নেই। বাস্তবতাই মানুষকে সঠিক পথ দেখায়। দুনিয়ার জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিরা যতই জ্ঞান বিতরণ করুক না কেন, বাস্তবতার সান্নিধ্যে না আসলে একজন মানুষ সত্যিকার বিজ্ঞ হতে পারে না। 

চার. পারস্যের বাদশা নওশিরওয়ান একবার জঙ্গলে হরিণ শিকারে গিয়েছিলেন। হরিণ শিকার করে তার গোশত দিয়ে কাবাব তৈরি করতে হুকুম দিলেন। ঘটনাক্রমে তাদের সঙ্গে লবণ ছিল না। লবণ আনার জন্য এক ভৃত্যকে গ্রামে পাঠানো হলো। বাদশাহ বলে দিলেন: খবরদার! লবণ যেন দাম দিয়ে কিনে আনা হয়। আমাকে খাতির করে কেউ যদি খুশি হয়ে দেয়, তবুও বিনামূল্যে আনবে না। তাতে একটা কুপ্রথা চালু হয়ে যাবে।

সঙ্গীরা বললেন: সামান্য একটু লবণ আনবেন তাতে কী এমন মারাত্নক ক্ষতি হবে?

বাদশাহ বললেন: অন্যায়ের ভিত্তি প্রথমত খুব ক্ষুদ্রই থাকে। পরে যে আসে সে একটু বাড়ায়, এমনি করে গোটা দুনিয়া অন্যায়ে ছেয়ে যায়। 

এ গল্প থেকে আমরা জানতে পারলাম যে, বাদশাহ-বাদশাহরা সামান্য অন্যায় কাজ করলেও প্রজারা তা অবশ্যপালনীয় কাজ বলে মনে করে। সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কোনো ছোট গুণাহ করলে সাধারণ লোকেরা তা দ্বিগুণ উৎসাহের সাথে করতে থাকে। তাই তাদের এমন কোন অপরাধ করা উচিত নয়; যা সাধারণ মানুষকে পাপের দিকে ধাবিত করে।

পাঁচ. তোমার যারা পড়াশোনা করো তারা নিশ্চয়ই দুই ধরনের শিক্ষক দেখো। কেউ হাসিখুশি কেউবা বদমেজাজি। শেখ সাদী কোনো এক দেশ সফরকালে একটি মক্তব্যে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বদমেজাজী, কর্কশভাষী, অসামাজিক, কঠোর প্রকৃতির একজন শিক্ষককে দেখেছিলেন। তার মুখের তাকালে মন বিরক্তিতে ভরে উঠত, আলাপ করার আগ্রহ থাকত না। তার কুরআন শরীফ পড়ানো শুনলে মুসলমানের মনেও ভক্তির পরিবর্তে বিতৃষ্ণা জন্মাত। কোমলমতি নিষ্পাপ ছাত্র-ছাত্রীরা তার নির্মম নির্যাতনের ভয়ে সবসময় সন্ত্রস্ত থাকত।

ছাত্ররা কারো দিকে চেয়ে কেউ একটু মুচকি হাসবে বা একটা শব্দ করবে, তার জো ছিল না। কারণ শিক্ষকটির মুখে তর্জন-গর্জন লেগেই থাকত। আর তার হাত দুটি কারো কোমল মুখে চড়, কারো পিঠে বেত্রাঘাত অথবা কারো কান ধরে সজোরে মুচড়ে দেয়া- প্রভৃতি কাজে ব্যস্ত থাকত। তার অত্যাচারে পুরো মক্তবটি যেন হয়ে উঠেছিল একটা বিভীষিকাময় কারাগার। এমন দৃশ্য আমার কঠিনমনে বড় বেদনাদায়ক মালুম হলো।

শেখ সাদী বলেন, কিছু দিন পর শুনলাম, কি একটা অন্যায় অপরাধে, সেই শিক্ষককে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তার স্থলে আর একজন ভালো শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়েছে। এ খবর শুনে স্বভাবতই ভারী খুশি হলাম। নতুন শিক্ষকটি ছিলেন আগের শিক্ষকের সম্পূর্ণ বিপরীত স্বভাবের। ইনি ছিলেন সরল স্বভাব, স্পষ্টভাষী, মধুর ব্যবহার, বিনয়ী ও মিশুক প্রকৃতির। বেহুদা কথা বলেন না কারো মনে ব্যথা পায় এমন কাজও করেন না। ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পুত্রের মতো স্নেহ করেন।

অল্পদিনের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের মন থেকে শিক্ষক ভীতি উধাও হয়ে গেল। এবং ওস্তাদেরর ভদ্র স্বভাবের সুযোগে ছাত্রদের মধ্যে দৈত্যসুলভ স্বভাব দেখা দিতে লাগল। একদল খেলাধুলায় মেতে উঠল আর একদল অপরের মাথায় শ্লেট ভেঙে মারামারি শুরু করে দিল। শিক্ষক কোনো শাসন না করায় ছাত্ররা নতুন পড়ালেখা তো ছেড়েই দিল অধিকন্তু পুরোনো পড়াগুলোও বেমালুম ভুলে গেল। অবশেষে অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়াল যে, মক্তব আর মক্তব রইল না। মারামারি ও খেলার আড্ডায় পরিণত হল।

শেখ সাদী বলেন, সপ্তাহ দুই পরে আবার সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখি সেই সাবেক শিক্ষক আবার সগৌরবে তার সাবেক আসন দখল করে জেঁকে বসেছেন। তার দুর্দান্ত প্রতাপে মক্তব গৃহ নিরব, নিস্তব্ধ। ভয়ে ভয়ে সবাই নিজ নিজ পড়া মুখস্ত করতে ব্যস্ত। এ অবস্থা দেখে ক্ষোভ ও বিরক্তিতে মনটা ভরে উঠল। বললাম: আবার কেন ইবলিশকে ফেরেশতাদের ওস্তাদ বানানো হয়েছে ? একজন বিজ্ঞ বহুদর্শী বৃদ্ধ আমার কথা শুনে হেসে দিয়ে বললেন: মা-বাবার স্নেহ চুম্বনের চেয়ে ওস্তাদের বেত্রাঘাত উত্তম। শোনেন নি?-

“এক রাজা দিয়েছিল পুত্রকে স্কুলে
সোনার প্লেট কিনে দিল তার কোলে
সোনার হরফে লেখা ছিল পাশে তার
পিতৃ স্নেহ হতে, ভালো গুরুর অত্যাচার।”

এ গল্প থেকে আমরা শিখতে পারলাম যে, যেমন ছাত্র তেমন শিক্ষক না হলে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায় না। ছাত্র যদি বেয়াদব বা দুষ্টু প্রকৃতির হয় তবে কড়া নজরের শিক্ষক প্রয়োজন। দুষ্টু ছেলেদের গরম মেজাজের শিক্ষক না হলে লেখাপড়া হয় না। ভদ্র, নরম প্রকৃতির ওস্তাদের কাছে দুষ্টু ছেলেদের লেখাপড়া হয় না। তাদের ভদ্রতা ও ধৈর্যের কাছে তারা হয়ে উঠে বেয়াদব ও উচ্ছৃঙ্খল।

শেখ সাদীর কয়েকটি উপদেশ

কবি শেখ সাদী মানুষের জীবন বদলে দেয়ার মতো নানা উপদেশ দিয়ে গেছেন। তাঁর কয়েকটি উপদেশ তোমাদেরকে জানিয়ে দিচ্ছি। তিনি বলেছেন-

  • আমি আল্লাহকে সবচেয়ে বেশী ভয় পাই, তার পরেই ভয় পাই সেই মানুষকে যে আল্লাহকে মোটেই ভয় পায় না।
  • এমনভাবে জীবনযাপন করো যেন কখনো মরতে হবে না, আবার এমনভাবে মরো যায় যেন কখনো বেঁচেই ছিলে না।
  • হিংস্র বাঘের উপর দয়া করা নীরিহ হরিণের উপর জুলুম করার নামান্তর।
  • প্রতাপশালী লোককে সবাই ভয় পায় কিন্তু শ্রদ্ধা করে না।
  • দেওয়ালের সম্মুখে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় সতর্ক হয়ে কথা বলো, কারণ তুমি জান না যে, দেয়ালের পেছনে কে কান পেতে দাঁড়িয়ে আছে।
  • মুখের কথা হচ্ছে থুথুর মতো, যা একবার মুখ থেকে ফেলে দিলে আর ভেতরে নেয়া সম্ভব নয়। তাই কথা বলার সময় খুব চিন্তা করে বলা উচিত।
  • মন্দ লোকের সঙ্গে যার উঠাবসা, সে কখনো কল্যাণের মুখ দেখবে না।
পাঠকের মন্তব্য