‘জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের সঙ্গে আপোষ নয়

রাজনৈতিক ঘটনাচক্রে যেই দল থেকেই নির্বাচিত হন না কেন ‘জয় বাংলা ও জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের সঙ্গে কোনো আপোষ নয় বলে মন্তব্য করেছেন ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর। আজ বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করেই শেষ পর্যন্ত শপথ নেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। শপথ নিয়ে বিকালে সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।

এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে যাবতীয় সহায়তা পাবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ।

গণফোরামের সংসদ সদস্য সুলতান মনসুর বলেন, আমি গত ১৮ বছর রাজনৈতিক কারাগারে ছিলাম। এমপি না থাকলেও রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় ছিলাম না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুৎ হই নাই। আমি হয়ত আমার নেতাদের কিংবা সাবেক সহকর্মীদের সাথে সেই রূপে নেই। কিন্তু যেই বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছিলাম সেই জায়গা থেকেই আছি।

তিনি বলেন সংসদে আমি সংখ্যালঘু হলেও আশা করছি মাননীয় স্পিকার ও মাননীয় সংসদ নেত্রী আমাকে সহযোগীতা করবেন । ৭ মার্চের ওপর দেওয়া ভাষণে সুলতান মনসুর বলেন, মূলত ৭ মার্চেই স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়। একজন বেসামরিক ব্যক্তি হয়েও সেদিন তিনি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন এমনকি দেশ কিভাবে চলবে তার পরিপূর্ণ রূপরেখা দিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমার রাজনীতিক জীবন শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে। আজ সেই ৭ মার্চে শপথ নিতে পারায় আমি নিজেকে সম্মানিত মনে করি। আজ সকালেই শপথ নেন সুলতান মনসুর। সকালে শপথ গ্রহণ শেষে বিকেলে একাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেন তিনি। অধিবেশনে বিরোধী দলের আসনের দ্বিতীয় সারিতে নির্ধারিত আসনে বসেন।

শপথ গ্রহন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাকে জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন এমপি হিসেবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে সংসদীয় এলাকার জনগণের পক্ষে কথা বলা। সংসদ নির্বাচনে যখন অংশগ্রহণ করেছি স্বাভাবিক কারণেই সংসদে এসে কথা বলাই প্রধান কাজ। সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের শপথ গ্রহণের মধ্য একাদশ জাতীয় সংসদ পেল ধানের শীষের ঐক্যফ্রন্টের কোন এমপিকে।

নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট আগেই সংসদ ভবনের স্পীকারের দপ্তরে পৌঁছান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। আগেই সম্পন্ন ছিলো শপথ অনুষ্ঠানের সকল আয়োজন। স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ও প্রধান হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন অপেক্ষায় ছিলেন। এক সময়ে তুখোড় এই ছাত্রনেতা পৌঁছানোর পর প্রথমে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর শুরু হয় আড্ডা।

শপথ পড়ার জন্য স্পীকারের পাশের আসনে বসা ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মনসুরসহ অন্যান্যরা এসময় নানা স্মৃতিচারণ করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বিশেষ দিন হওয়ায় এই দিনে আমি শপথ নিতে চেয়েছি। এই দিনে নানা স্মৃতি আছে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এখনো উদ্বেলিত করে। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন, কত হাজার বার শুনেছি বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ। তারপরও ভাষণটা পুরণ হয় না। সবসময়ই জীবন্ত মনে হয়।

তাঁর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেন স্পীকারসহ অন্যান্যরা। এরমধ্যে তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হন জাতীয় সংসদের হ্ইুপ ইকবালুর রহিম। তাঁর সঙ্গে কোলাকুলির পর আবারো শুরু হয় নানা রাজনৈতিক আলোচনা। ঠিক ১১টা বাজতে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ গ্রহণ শেষে চা-নাস্তার সঙ্গে নানা কথোপকথন শেষে একাদশ সংসদের ধানের শীর্ষের একমাত্র প্রতিনিধি সংসদ সচিবের কক্ষে গিয়ে নির্ধারিত বইয়ে স্বাক্ষর করেন ও ছবি তোলে আইডি কার্ড গ্রহণ করেন।

পাঠকের মন্তব্য