ক্ষমতায়ন এবং অধিকার

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি উদযাপন করা হবে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো/নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো'। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘের মহাসচিব, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তারা।

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি আরও বলেন, সরকার এসডিজির লক্ষ্য অর্জনের জন্য রাষ্ট্র ও জনজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বিশ্বের সব নারীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিগত ১০ বছরে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারী উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। নারীর প্রতি সব ধরনের বৈষম্যমূলক আচরণ ও প্রথা বিলোপ, নারী নির্যাতন প্রতিরোধ, বাল্যবিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা, কর্মক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান মজুরি করা এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য আলাদা ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও বিপণন সুবিধার বিষয়ে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে আট ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন।

আন্দোলন করার অপরাধে সে সময় গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই। তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’। ১৯০৮ সালে পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের কারখানার প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক একই দাবিতে আন্দোলন করেন। অবশেষে আদায় করে নেন দৈনিক আট ঘণ্টা কাজ করার অধিকার।

১৯১০ সালের এই দিনে ডেনমাকের্র কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক সম্মেলনে জার্মানির নেত্রী ক্লারা জেটকিন ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই সারাবিশ্বে দিবসটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

এ উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) চত্বরে একটি র‌্যালি এবং বিকেল সাড়ে ৩টায় সাগর-রুনি মিলনায়তনে 'গণমাধ্যমে নারী-পুরুষ সমতা :বাস্তবতা ও করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভা এবং ডিআরইউর প্রাক্তন নারীবিষয়ক সম্পাদকদের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

নারী দিবস হচ্ছে সেই দিন, যেই দিন জাতিগত, গোষ্ঠীগত, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক সব ক্ষেত্রে বৈষম্যহীনভাবে নারীর অর্জনকে মর্যাদা দেয়ার দিন। এদিনে নারীরা তাদের অধিকার আদায়ের জন্য দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে স্বরণ করে এবং ভবিষ্যতের পথ পরিক্রমা নির্ধারণ করে, যাতে আগামী দিনগুলো নারীর জন্য আরও গৌরবময় হয়ে ওঠে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্রোড়পত্র প্রকাশ ও টকশোর আয়োজনসহ বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও পোস্টারের মাধ্যমে দিবসটি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য

স্বাধীনতা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

প্রতিটি মানুষের ঘরে যেন স্বাধীনতার সুফল পৌঁছায়

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারির আশ্বাস 

গণহত্যা'র আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ

সমরাস্ত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ও বীরত্বাগাঁথা