উন্নত দেশে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে ভাবে না বিসিবি

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন উন্নত দেশগুলোতে সফরে যায় তখন নিরাপত্তা নিয়ে খুব একটা ভাবে না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি৷ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন শুক্রবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিষয়টি অকপটে স্বীকারও করেছেন৷

তবে এখন থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আশ্বাস পেলেই বাংলাদেশ দল সফরে যাবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি৷ বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দীন চৌধুরী সুজনও একই কথা বলেছেন৷ তাঁর মতে, হঠাৎ করেই একটা ঘটনা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে৷

সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষিতে নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম শেষ টেস্ট না খেলেই শনিবার দেশে ফিরে আসছে৷ নিজাম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, ‘‘বিশেষ করে অষ্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যান্ডের মতো দল যখন বাংলাদেশে আসে তখন আমরা তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করি৷ কিন্তু ওই সব দেশে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা খুব একটা দেয়া হয় না৷ যদিও তাদের দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক ভালো৷ নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল তো বাংলাদেশে এসেছে কয়েক দফা সূচি পিছিয়ে৷ আর অনূর্ধ্ব-১৯ দল তো নিরাপত্তার কথা বলে বাংলাদেশে বিশ্বকাপ খেলতেই এল না৷ এখন থেকে আমরাও নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব, পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেই দল পাঠাবো৷''

ওরা আসলে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করি : নিজাম

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে বিদেশে নিরাপত্তা দেয়া হয় না কেন? বিসিবিই বা কতটা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে থাকে? জানতে চাইলে সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক মোস্তাফা মামুন বলেন, ‘‘আমাদের দেশ একটু অনুন্নত হওয়ায় আমাদের ওরা আসলে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না৷ ২০১৭ সালের একটা উদাহরণ দেই- ইংল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার পর বাংলাদেশ দল ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিল৷ আমি নিজেও টিমের সঙ্গে ওই হোটেলে ছিলাম৷ আমরা ভেবেছিলাম, এত বড় ঘটনার পর যখন দল যাচ্ছে তাহলে নিশ্চয় ভালো নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকবে৷ আসলে সেখানে কোনো নিরাপত্তাই ছিল না৷ যে কেউ হোটেলে আসতে পারছে, নিরাপত্তার কোনো বালাই নেই৷ দুই দিন পর যখন ভারত টিম সেখানে এল তখন নিরাপত্তার চিত্র পুরোপুরি বদলে গেল৷ আমরা তখন খোঁজ নিয়ে দেখলাম, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড এ ব্যাপারে আগে থেকেই তৎপর ছিল৷ ফলে তাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ আরেকটি জিনিস, আমাদের ক্রিকেটাররা বিদেশে গেলে অনেক বেশি নিজেদের মতো করে ঘোরাঘুরি করে৷ বাঙালি কমিউনিটির সঙ্গে মেশে, শপিং করতে যায়৷ কিন্তু অন্য দেশের ক্রিকেটাররা এত বেশি ঘোরাঘুরি করে না৷ এখানে জবাবদিহিতার জায়গাও নিশ্চিত করা দরকার৷ বোর্ড চাইলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে, ক্রিকেটারদেরও জবাবদিহিতায় আনতে পারে৷

বিসিবি সভাপতি যা বললেন

শুক্রবার ব্রিফিংয়ে বিসিবি সভাপতি বলেছেন, নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এখনও আতঙ্কিত বাংলাদেশ৷ এমন ঘটনার মুখোমুখি আগে কখনও হননি ক্রিকেটাররা৷ তিনি বলেন, আমাদের দেশে কোনো বিদেশি দল যখন আসে, তখন তারা যে ধরনের নিরাপত্তা নিয়ে কথাবার্তা বলে, আমাদের সেটা দিতে হয়৷ কিন্তু আমরা এমনটা কখনও পাইনি৷ সেটা নিয়ে আমরা জোরাজুরি করিনি৷ আসলে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে, এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে এরকম কোনো ধারণাই নিউজিল্যান্ডের নেই৷

ওরা আসলে খুব একটা গুরুত্ব দেয় না : মামুন

তবে এবার পরিস্থিতি পালটে যাবে বলে মনে করেন বোর্ড প্রধান৷ তিনি বলেন, এখন হয়তো এ ব্যাপারে সতর্ক হবে তারা৷ তবে অন্যরা কী করে জানি না, আজকের ঘটনার পরে এটা নিশ্চিত যে এখন থেকে যে দেশেই বাংলাদেশ যাক না কেন, আমাদের ন্যূনতম চাওয়া অনুযায়ী নিরাপত্তা দিতে হবে৷ এটা যারা দিতে পারবে, তাদের ওখানেই আমরা খেলতে যাবো৷ এছাড়া খেলতে যাওয়া সম্ভব না৷

এই ধরনের অভিজ্ঞতা নতুন বলেও জানান তিনি৷ শেষ টেস্ট না খেলে শনিবার বাংলাদেশ দল ফিরে আসছে বলেও জানান বিসিবির এই কর্তা৷

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শোক

এদিকে, নিউজিল্যান্ডের এই ঘটনায় পরপরই শুক্রবার দুপুরে সিলেট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম এ মোমেন বলেন, নিউজিল্যান্ডে যেহেতু আমাদের দূতাবাস নেই, তাই আশপাশ থেকে খোঁজ নিতে হচ্ছে৷ তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা নিরাপদে আছেন সেটা নিশ্চিত করেই বলছি৷ এই সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা৷

পাঠকের মন্তব্য