ডাকসুর নেতাদের বিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী

নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্যই এই ডাকসু নির্বাচন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার পাশাপাশি ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে ছাত্রসমাজের জন্য কাজ করতে ডাকসু’র নবনির্বাচিত নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ (শনিবার) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ‘গণভবনে’ ডাকসুর নেতাদের সঙ্গে এ শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠানমঞ্চে ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর, ডাকসুর জিএস ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে যারা নির্বাচিত হয়েছে, তোমরা একেকজন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। সেখানে নেতা হিসেবে তুমি ছাত্রসমাজকে কতটুকু দিতে পারলে এটাই বড় বিষয়। নিজের ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে উঠে যদি কাজ করতে পার তবেই সফল নেতা হতে পারবে। ভবিষ্যতে দেশটাকে কিভাবে নেতৃত্ব দেবে তোমাদের সেই শিক্ষাগ্রহণের সময় এটা। কাজেই সেই ভাবে দেশকে ভালোবাসবে দেশের মানুষকে ভালোবাসবে, দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করবে।’

সকল শিক্ষার্থীকে সমান দৃষ্টিতে দেখার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ডাকসু নেতাদের বলেন, হারজিত থাকবে, যে জিতেছে তার দায়িত্ব আরো বেশি। যেহেতু সে জিতেছে। কে ভোট দিল না দিল সেটা দেখার দরকার নাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের দায়িত্ব তাদের যারা জিতেছে।

ভবিষ্যতের নেতা খুঁজতে ডাকসু নির্বাচন দেয়া হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ২৮ বছর এই নির্বাচন বন্ধ ছিল। আমরা ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব খুঁজছি। এই নেতৃত্ব যদি ছাত্রজীবন গড়ে না ওঠে, তাহলে সেই নেতৃত্ব কতটুকু একটা দেশকে দিতে পারে? সে জন্য আমরা স্কুল থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছি। আমরা স্কুল ক্যাবিনেট শুরু করেছি। এ জন্য যেন ছোট বেলা থেকে একটা গণতন্ত্র চর্চার অভ্যাস যেন ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, আমরা চেয়েছি এই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে আমাদের দেশে আবার একটা সুস্থ রাজনীতির ধারা ফিরে আসবে। রাজনীতিটা করে যেন একটা নেতৃত্ব গড়ে ওঠে সেটাই আমরা চেয়েছি। আর নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্যই কিন্তু এই নির্বাচন।

ডাকসু নির্বাচনে সহিংসতা যেন না হয় সে বিষয়ে নিজের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডাকসু নির্বাচনে আমি সব সময় সবাইকে একটা কথাই বলেছি যে- নির্বাচনটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়।

তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কঠোর নির্দেশ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ ছিল। কোনোভাবে যেন এই জাতীয় ঘটনা (অস্ত্রবাজি, বোমাবাজি) আবার ঢুকতে না পারে। আমি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চাই।

অনুষ্ঠানে ডাকসুর এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনসহ নবনির্বাচিত ডাকসু ও হল সংসদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ডাকসু ভিপি, জিএস, এজিএস ছাড়াও প্রতিটি হল সংসদ থেকে নির্বাচিত ভিপিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যে ডাকসু নেতারা আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাদের দাবি দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

পাঠকের মন্তব্য