এক প্রবাসী কামলার জাতির পিতার প্রতি নিস্বার্থ ভালোবাসা

পাঠক মতামত : সিনিয়র সাংবাদিক ফজলুল বারীর ফেসবুক স্ট্যাটাসটিই সেরা মনে হলো !

এ স্ট্যাটাসে তিনি তুলে এনেছেন এক প্রবাসী কামলার জাতির পিতার প্রতি নিস্বার্থ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা এবং বিশ্বাসঘাতকদের কথাও... 

কাল রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ছেলেটি আমার চোখ ভিজিয়েছে। ইনবক্সে বললো, ভাই কাল একটা কেক কাটবেন? বললাম, কেনো ভাই? বললো, ভাই কাল আমাদের জাতির পিতার জন্মদিন না। বললাম, অবশ্যই কাটবো। কেনো যেন এমন ছেলেমেয়ে আজকাল অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করতে কম আসে। যারা আসে তাদের সিংহভাগ, বর্নচোরা প্রকৃতির। রাজনীতি করেনা বা রাজনীতিতে আগ্রহীনা বলে অভিনয় করে যায়। পায়ের নীচে মাটি হয়ে যাবার পর ফেসবুকে দেখি জাতির পিতার প্রতি, তার অনুসারীদের প্রতি এদের ভয়ংকর সব ঘৃনা! অথচ অকৃতজ্ঞটা জানেনা কার কারনে সে আজ বাংলাদেশি এবং এভাবে আজ এ রকম দেশে আসতে পেরেছে। পাকিস্তানিদের প্রতি বিশ্বজুড়ে মানুষের ঘৃনার প্রকৃতি এরা জানেনা।

প্রিয় প্রজন্ম ছেলেটা পড়াশুনার জন্যে নতুন এসেছে অস্ট্রেলিয়ায়। বাংলাদেশের হিসাবি মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। কাল রাতে তার রূম দেখতে গিয়েছিলাম। পাঁচতলার ফ্ল্যাটে শেয়ারের একটা রুম । খুব স্বাভাবিক অগোছালো সুন্দর। মেঝেতে কার্পেটের ওপর একটা মেট্রেসে ঘুমায়। বললো শুরুতে এটাও ছিলোনা। পাশের রূমের একজন দিয়েছে। এটি পাবার আগ পর্যন্ত বিছানার ছাদর গায়ে মুড়িয়ে কার্পেটের ওপরই ঘুমাতো। দেশ থেকে মা ছেলের বিছানার ছবি দেখতে চাইলে অন্যের বিছানার ছবি তুলে পাঠাতো। বললাম, আপাতত বিছানা কেনা লাগবেনা। ফোল্ড করা যায় এমন একটা সিঙ্গেল খাট-বিছানা আমার আছে যা কাজে লাগেনা।

বাংলাদেশ থেকে এইচএসসি পাশ করেই চলে এসেছে ছেলেটি। ৫০ কেজির মতো সাইজ। এখানে আসার পর থেকে পাগলের মতো কাজ খোঁজে। এখন পর্যন্ত দুটো কাজে একদিন করে গেছে। দ্বিতীয়দিন ডাকেনি। বলেছে পরে ফোন দেবে। এমন প্রতিশ্রুতি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নেগেটিভ হয়। ম্যাকডোনাল্ড, রেষ্টুরেন্ট, কিচেনহ্যান্ড, ক্লিনিং যে নামেই ডাকেননা কেনো, কাজটাতো শ্রমিকের। দ্রুতগামী পরিশ্রমী কামলা খোঁজে সবাই। এসব কাজ করেই অস্ট্রেলিয়ায় ছাত্রছাত্রীরা পড়ে। আমি তাকে আশ্বস্ত করে বলি এই দুদিনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে তোমাকে জব পেতে সহায়তা করবে। আর আমরাতো দেখছিই।

রাজনীতি সচেতন ছেলেটা এরমাঝে চমৎকার একটি সম্পর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিন স্থানীয় রেলস্টেশনে দেখলো অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টির এমপি প্রার্থী একা একা লিফলেট বিলি করছেন। আগামী ২৮ মার্চ এখানে ভোট। এখানকার প্রার্থীরা বাংলাদেশের প্রার্থীদের মতো বড়লোক বা চোর না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এভাবেই তাদের প্রচার চলে। ছেলেটি যেচে কথা বলে তাকে হেল্প করতে চাইলো। এরপর সে সময় পেলেই তার সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে কাজ করতে যায়। আজও তার এমন একটা শিফট করেছে। আমি চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা অস্ট্রেলিয়ায় এসে এভাবে এদেশের মেইনস্ট্রিমের সঙ্গে কাজ করবে। এভাবেই তারা জড়িয়ে এগিয়ে যাবে এদেশের মূলধারার সঙ্গে।

কাল রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ছেলেটি আমার চোখ ভিজিয়েছে। ইনবক্সে বললো, ভাই কাল একটা কেক কাটবেন? বললাম, কেনো ভাই? বললো, ভাই কাল আমাদের জাতির পিতার জন্মদিন না। বললাম, অবশ্যই কাটবো। কেনো যেন এমন ছেলেমেয়ে আজকাল অস্ট্রেলিয়ায় পড়াশুনা করতে কম আসে। যারা আসে তাদের সিংহভাগ, বর্নচোরা প্রকৃতির। রাজনীতি করেনা বা রাজনীতিতে আগ্রহীনা বলে অভিনয় করে যায়। পায়ের নীচে মাটি হয়ে যাবার পর ফেসবুকে দেখি জাতির পিতার প্রতি, তার অনুসারীদের প্রতি এদের ভয়ংকর সব ঘৃনা! অথচ অকৃতজ্ঞটা জানেনা কার কারনে সে আজ বাংলাদেশি এবং এভাবে আজ এ রকম দেশে আসতে পেরেছে। পাকিস্তানিদের প্রতি বিশ্বজুড়ে মানুষের ঘৃনার প্রকৃতি এরা জানেনা।

শুভ জন্মদিন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। 

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : mahmud hasan 

পাঠকের মন্তব্য