অস্ত্রধারীর জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০

ক্রাইস্টচার্চে দুই মসজিদে অস্ত্রধারীর জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হয়েছে৷ যদিও এখনো কর্তৃপক্ষ কোনো তালিকা প্রকাশ করেনি, তবে নিহতের স্বজনদের খবর জানানো হয়েছে৷

রোববার সকালে নিউজিল্যান্ডের পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবারের ঐ হামলায় নিহতের সংখ্যা ৪৯ থেকে ৫০ হয়েছে৷ কিউই পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, আল-নূর মসজিদে লাশগুলো সরিয়ে নেবার সময় বাড়তি লাশটি পাওয়া গেছে৷ সব মিলিয়ে এখানে ৪২টি লাশ পাওয়া গেছে৷ এছাড়া লিনউড মসজিদে আরো সাতজন এবং ক্রাইস্টচার্চ হাসপাতালে নেয়ার পর একজনের মারা যান৷

এখনো ৩৬ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, যাদের মধ্যে ২ থেকে ৪ বছর বয়সি শিশুরাও আছে৷ কর্তৃপক্ষ এরইমধ্যে নিহতের তালিকা প্রস্তুত করেছে৷ তবে এখনো তা জনসম্মুখে প্রকাশ করেনি৷ নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন বলেছেন যে, রোববার স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তরের পর বুধবারের মধ্যে ময়নাতদন্ত শেষে বাকি সবকিছু ফেরত দেয়া হবে৷

মুসলিম ঐতিহ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘন্টার মধ্যে লাশ দাফনের নিয়ম রয়েছে৷ ক্রাইস্টচার্চের মেয়র লিয়ানে ডালজিয়েল বলেন যে, দাফনের জন্য জায়গা প্রস্তুত করা হয়েছে যেন দ্রুততম সময়ে লাশ কবর দেয়া যায়৷

হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব্রেন্টন ছাড়াও আরো কতজন জড়িত তা খুঁজে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশ কমিশনার বুশ৷ তিনি বলেন, ‘‘কতজন এতে জড়িত ছিলেন সে বিষয়ে আমি এখনই কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চাই না৷ তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে কিছু একটা জানাতে পারব বলে আশা করি৷''

তিনি বলেন যে, টেরান্ট একাই গুলি করেছে৷ আরো দু'জনকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হলেও তারা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি৷ একজনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে এবং আরেকজনকে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় আটক দেখানো হয়েছে৷ তৃতীয় আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হবে বলে জানিয়েছেন বুশ৷

এদিকে, শনিবার আহত ও নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা৷ এদের বেশিরভাগই সৌদি আরব, পাকিস্তান, ভারত, মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিযা, তুরস্ক, সোমালিয়া ও আফগানিস্তানের শরণার্থী ও অভিবাসী৷ কালো হেডস্কার্ফ পরা প্রধানমন্ত্রী এ সময় জানান যে, তুরস্ক, বাংলাদেশ ও মালয়শিয়ার দূতাবাস নিজ নিজ দেশের হতাআহতদের পরিবার ও বেঁচে যাওয়াদের সহযোগিতা দিচ্ছে৷

নিউজিল্যান্ডে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা যেন অটুট থাকে তা নিশ্চিত করবেন বলে জানান জেসিন্ডা৷ তিনি আরো বলেন যে, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন৷ বলেন যে, টেরান্ট নিজের নামে পাঁচটি বন্দুক কিনে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন৷

‘‘আগ্নেয়াস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনতেই হবে,'' বলেন তিনি৷

নিউজিল্যান্ডের আড়াই লাখ মানুষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স আছে এবং সামরিক ধরনের সেমি-অটোমেটিক বন্দুকগুলোই কেবল নিবন্ধন করতে হয়৷ বিশ্লেষকরা বলেন, নিউজিল্যান্ডে প্রায় ১৫ লাখ আগ্নেয়াস্ত্র মানুষের কাছে রয়েছে৷ তবে সেগুলো ঠিক কোথায়, কার কাছে আছে, তার কোনো তথ্য নেই৷

পাঠকের মন্তব্য