কখনও কি তলিয়ে দেখেছি, কেন আইন মানিনা ? 

কামাল পাশা, ফেসবুক স্টাটাস : হ্যাঁ, এটা চিরন্তন সত্য। শুধু রাস্তায় চলাচলের সময়েই নয়। সারা দেশে যেখানে যেখানে সম্ভব সেখানেই আইন অমান্য করে চলা এই জাতির যেন জন্মগত চরিত্র। কিন্তু আসলেই কি তাই? কখনও কি আমরা তলিয়ে দেখেছি আমরা কেন আইন মানিনা।

বাঙালির স্মৃতিতে আসলে আইন বলে কিছুর অস্তিত্ব নেই। বাঙালি আদিযুগ থেকে চলেছে স্বাধীন গ্রাম সমাজের সামাজিক বিধান গুলোর ভিত্তিতে। সেই প্রাচীন কানুন গুলো আজও সবাই অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

শুধু তারা মানতে চায়না রাজ-আইন বা রাষ্ট্র নির্ধারিত আইন গুলো। তার কারণ, এ দেশে রাষ্ট্রীয় আইন তৈরীই হয়েছিল বাঙালির বিরুদ্ধে।বৃটিশরা দীর্ঘদিন ভারত শাসন করেছে কম্পানী আইন নামে এক জোড়াতালি নিয়মে।বৃটিশ আইন চালু হয়েছে অনেক পরে, অথবা বলা যায়, পূর্নাঙ্গ বৃটিশ আইন এ দেশে কখনই প্রয়োগ হয়নি।তারা নিজ দেশে এক রকম আইন চালিয়েছে, এ দেশে অন্যরকম।

দ্বিতীয় সিপাহী বিপ্লবের সময় অভিযুক্ত সিপাহীদের বিচার করতে গিয়ে বৃটিশরা প্রথম উপলব্ধি করে যে, এদের সাজা দেয়ার মত কোনও আইন তাদের হাতে নেই, তখন রাতারাতি নিজ দেশের আইন ঘেঁটেঘুটে একটা গোঁজামিলের আইন তৈরী করে বিচার করা হল সেই দেশপ্রেমিক বীর সিপাহীদের।এ দেশের মানুষের চোখে সেই বিচার একটা প্রহসন মূলক হত্যাকান্ড ছাড়া আর কিছুই ছিলনা। সেই আইন প্রবর্তনের সূচনা লগ্নেই বৃটিশ আইনের প্রতি বাঙালির যে ঘৃণা জন্ম নিয়েছে তা’ আর লোপ পায়নি।পরবর্তীতেও বৃটিশ শাসকরা এ দেশে যত আইন করেছে তার বেশির ভাগই নিপীড়ন মূলক। কোনটাই জনগণের কল্যানের জন্য নয়, যতটা না তাদের শোষণের জন্য কার্যকর।

এর পর পাকিস্তানিরা সে গুলো পরিবর্তন না করে তার সঙ্গে যে সব আইন যুক্ত করেছে সে গুলো বৃটিশেরও এক কাঠি বাড়া। আর বাংলাদেশ স্বধীন হওয়ার দীর্ঘকাল পরও এ দেশের আইনে সিংহভাগ বৃটিশ আধিপত্যবাদই বিদ্যমান। তার চেয়েও বড়কথা প্রয়োগকারী সংস্থা গুলোর মনোগত গঠন পুরোটাই সেই ঔপনিবেশবাদী শাসককূলের মতই।

তাই আজ স্বাধীন দেশের নাগরিক যখন আইনে ও প্রয়োগে পরাধীন জাতির মত ব্যবহার পায় তখন স্বাভাবিক ভাবেই এই আইনকে তার নিজের আইন মনে হয়না। কিছু কল্যানকর আইন অবশ্যই আমাদের আছে, কিন্তু মধু আর বিষ একই পাত্রে পরিবেশন করলে তার ফল যা হয়, এখানেও তাই। 

গণ-বিরোধী আইনের সাথে যতই কল্যাণকর আইন প্রবর্তন হোকনা কেন মানুষ তা গ্রহণ করবেনা। আগে মানুষের মাঝে বিশ্বাস জন্মাতে হবে, এই আইন তাকে শাসন করার জন্য নয়, বরং তার সুরক্ষার জন্য।তখন স্বাভাবিক ভাবেই মানুষ তা’ মেনে চলবে।

তার কারণ রবি ঠাকুর বলে গেছেন, ... আমরা অদ্ভুত। আমরা বেড়া ভাঙি, আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি, ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দিই... আমরা বিদ্যুৎ...

ফেসবুক স্টাটাস লিঙ্ক 

পাঠকের মন্তব্য