বর্ণচরের ধর্ষক রুহুল আমিনের জামিন অর্ডার !

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় গৃহবধূকে দল বেঁধে গণধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা রুহুল আমিন জামিন পাওয়ায় হতবাক হয়েছে নির্যাতনের শিকার পরিবার। একই সঙ্গে রুহুল আমিনকে যেন জামিন দেয়া না হয় সেজন্য আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ও তার স্বামী।

ধর্ষণের ঘটনার মূলহোতা রুহুল আমিনকে হাইকোর্ট এক বছরের জামিন দেয়ায় আমরা হতবাক হয়েছি উল্লেখ করে মামলার বাদী গৃহবধূর স্বামী সিরাজ মিয়া বলেন, ‘আমরা হতবাক। কীভাবে তাকে হাইকোর্ট জামিন দিলেন আমরা জানি না। এর চেয়ে বড় কষ্টের আর কি আছে। এত বড় অপরাধী কীভাবে জামিন পেল?’

সিরাজ মিয়া বলেন, রুহুল আমিন জেলে থাকা অবস্থায় তার সাঙ্গপাঙ্গরা নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছে আমাদের। এখন শুনছি জামিন পেল রুহুল আমিন। কারাগার থেকে রুহুল আমিন বের হয়ে এলে তো আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে। আমরা শেষ। কোথায় যাব, কার কাছে যাব আমরা?

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ বলেন, এত কিছু করে কি হলো, ধর্ষক রুহুল আমিন তো জামিন পেয়েই গেলো। এতদিন তার সাঙ্গপাঙ্গরা আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এখন রুহুল আমিনও জামিন পেল। এখন আমি কোথায় যাব, কে দেবে আমার নিরাপত্তা, কোথায় যাব আমি, কি হবে আমার? গৃহবধূর মামলা পরিচালনাকারী নোয়াখালী জজকোর্টের আইনজীবী রবিউল হাসান পলাশ বলেন, ১৮ মার্চ গোপনে হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জামিন নেন রুহুল আমিন। বিষয়টি আমরা আজকে জানতে পারলাম। এ বিষয়ে লিভ টু আপিল করব আমরা। আগামী রোববার এ নিয়ে লিভ টু আপিল করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি ইতোমধ্যে রুহুল আমিনের জামিনের অর্ডারের কাগজপত্র নোয়াখালীতে এসে পৌঁছেছে। কিন্তু জেলা কারাগারে যাওয়ার আগ মুহূর্তে সেসব কাগজপত্র কোনো এক কারণে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে কিজন্য জামিনের অর্ডারের কাগজপত্র স্থগিত রাখা হয়েছে সে বিষয়টি আমার জানা নেই। বলা যায় কোনো এক কারণে এটি আটকে দেয়া হয়েছে। রোববার লিভ টু আপিলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা কারাগারের জেল সুপার মনির হোসেন বলেন, হাইকোর্ট থেকে রুহুল আমিনের জামিন অর্ডার-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র রাত ৯টা পর্যন্ত আমাদের কাছে এসে পৌঁছেনি। হাইকোর্ট থেকে রুহুল আমিন জামিন পেয়েছে বিষয়টি আমরা আজই শুনলাম। তবে এখনো কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি আমরা।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, হাইকোর্ট থেকে রুহুল আমিন জামিন পেয়েছে বিষয়টি কেবল শুনলাম। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। তবে খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে পরে জানাতে পারব। ৩০ ডিসেম্বর সকালে নির্যাতিত গৃহবধূ ভোট দিতে গেলে নৌকার কয়েকজন সমর্থক তাকে নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বলে। তিনি তখন ধানের শীষে ভোট দেয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ সময় তারা তাকে ‘তোর কপালে শনি আছে’ বলে হুমকি দেয়। পরে কেন্দ্র থেকে দ্রুত বের হয়ে বাড়ি ফিরে যান গৃহবধূ।

এরপর রোববার রাত ১২টার দিকে একই এলাকার ১০-১২ জন তাদের বাড়িতে এসে প্রথমে বসতঘর ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে তারা ঘরে ঢুকে তার স্বামীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্বামী ও স্কুলপড়ুয়া মেয়েকে (১২) বেঁধে রেখে টেনে-হিঁচড়ে ঘরের বাইরে নিয়ে গৃহবধূকে গণধর্ষণ করে তারা।

একপর্যায়ে তারা তাকে গলা কেটে হত্যার করতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় বাড়ির উঠান সংলগ্ন পুকুর ঘাটে ফেলে চলে যায়। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।

পাঠকের মন্তব্য